প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] বাংলাদেশী দক্ষ পোশাককর্মীদের পছন্দের শীর্ষে জর্ডান

লিহান লিমা:[২] প্রতি সপ্তাহেই জর্ডানের বিভিন্ন পোশাক কোম্পানিতে যোগ দিতে দেশ ছাড়ছেন শত শত দক্ষ পোশাক কর্মী। গত কয়েক বছরে জর্ডানের পোশাক শিল্প ক্রমাগত বিকাশ লাভ করছে। ২০১০ সাল থেকে বাংলাদেশ সরকারী চুক্তির আওতায় দক্ষ পোশাককর্মী রপ্তানি করছে। দেশটির পোশাক খাতে বর্তমানে বাংলাদেশের দুই-তৃতীয়াংশ নারী শ্রমিক কাজ করছেন। তবে মধ্যপ্রাচ্যের অন্য দেশগুলোতে বাংলাদেশের নারী শ্রমিকরা এখনো গৃহকর্মী হিসেবেই কাজ করছেন। আরব নিউজ

[৩]আম্মানের বাংলাদেশ দূতাবাসের তথ্যানুযায়ী জর্ডানের পোশাকশিল্পে বর্তমানে ৪০ হাজার বাংলাদেশী নারী কাজ করছেন। বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসের সেক্রেটারি মোহাম্মদ আবদুস সোবহান আরব নিউকে জানান, প্রতি সপ্তাহেই আমরা জর্ডানের গার্মেন্টস সেক্টরের জন্য প্রায় ৫’শ নারী অভিবাসী নিয়োগ করি। এটি বাংলাদেশী নারী অভিবাসীদের নিজেদের দক্ষতাকে কাজে লগিয়ে দক্ষ কর্মী হিসেবে উপার্জন করার একটি ভালো সুযোগ। সেক্ষেত্রে তাদের শুধু স্থানীয় পোশাক কারখানায় কাজের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।

[৬]তিনি বলেন, জর্ডানে বাংলাদেশী পোশাক শ্রমিকদের গড় মাসিক বেতন ২৬০ ডলার থেকে ৩৬০ ডলারের মধ্যে। তারা সবাই প্রাথমিকভাবে দুই বছরের চুক্তি পায়। করোনার বিধি নিষেধ শিথিল হওয়ার পর থেকে বাংলাদেশী শ্রমিকের চাহিদা বাড়ছে। ২০২০ সালে বাংলাদেশ থেকে প্রায় ৩ হাজার ৭’শ শ্রমিক নেয়া হয়েছিলো কিন্তু এ বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১২ হাজার ৩’শ জনের বেশি মধ্যপ্রাচ্যের দেশে চলে গিয়েছে।

[৭]জর্ডানের নিয়োগকর্তারা কাজের অনুমতি, যাতায়াত, বাসস্থান এবং স্বাস্থ্যসেবাজনিত সব প্রক্রিয়ার খরচ বহন করেন।

[৮]অভিবাসী শ্রমিকদের অধিখার সংগঠন বাংলাদেশ নারী শ্রমিক কেন্দ্র (বিএনএসকে) দেশের গ্রামাঞ্চলে বিদেশে কাজের সুযোগ সম্পর্কে সচেতনতা মূলক প্রচারণা চালাচ্ছে। তারা জানায়, কর্মসংস্থান মডেলের কারণে শ্রমিকরা জর্ডানের পোশাক কারখানায় যোগ দিতে আগ্রহী।

[৯]বিএসএসকে এর নির্বাহী পরিচালক সুমাইয়া ইসলাম বলেন, বেতন এবং অভিবাসী সেবাজনিত সব খরচ নিয়োগকর্তা বহন করার কারণে আমাদের নারী শ্রমিকরা এই সুযোগ নিতে খুব আগ্রহী। শ্রমিকরা নিজেরাই বলেছেন, এটি তাদের উচ্চ আয়ের সুযোগ করে দেয়।

[১০] আগামী মাসে জর্ডানে যাওয়ার কথা রয়েছে দুই সন্তানের মা নাসিমা বেগমের (৩৩)। তিনি বলেন, আমার বড় বোন তিন বছর আগে জর্ডানে একটি পোশাক কারখানায় যোগ দেয়। কাজের পরিবেশ এবং বেতন বাংলাদেশের চেয়ে অনেক ভালো। তাই আমিও যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। জর্ডানের কাজ করার প্রস্ততি নেয়া আরেক গার্মেন্টস কর্মী কুলসুম আক্তার (২৭) বলেন, ‘সেখানে আমার আয় দ্বিগুণ হবে। আমি আমার পরিবারের খরচ ও ছেলের পড়াশোনার ব্যয়ভার বহন করতে পারবো।’

[১১]বাংলাদেশের বৃহত্তম উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের প্রধান শরিফুল হাসান বলেন, ‘এটি আমাদের নারী অভিবাসীদের জন্য একটি ভালো সুযোগ। তারা কোনো নির্যাতন বা সহিংসতার ঝুঁকির সম্মুখীন হওয়া ছাড়াই স্বাধীনভাবে জীবিকা নির্বাহ করতে পারবেন।’

[১২]আম্মানে নিযুক্ত ঢাকার রাষ্ট্রদূত নাহিদা সোবহান বলেন, বাংলাদেশী শ্রমিকদের কর্মসংস্থানের সুবিধার্থে দূতাবাস জর্ডান কর্তৃপক্ষ, জর্ডান চেম্বার অব কমার্স, জর্ডান গার্মেন্টস, এক্সেসরিজ অ্যান্ড টেক্সটাইল এক্সপোর্টাস অ্যাসোসিয়েশন এবং স্বতন্ত্র কারখানার মালিকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে।

[১৩]আমরা আরো বাংলাদেশী কর্মী আনতে জর্ডানের শ্রম মন্ত্রণালয়, সরকারী সংস্থা ও ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত