শিরোনাম
◈ তারেক রহমানের সঙ্গে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের বৈঠক, গুরুত্ব পেল রোহিঙ্গা ও জলবায়ু ইস্যু ◈ প্রতিরোধকে গুরুত্ব দিয়ে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা পুনর্বিন্যাস করছে বাংলাদেশ: ডা. জুবাইদা ◈ বন্ধের পথে ৪ এনবিএফআই, আমানতকারীদের সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকা ফেরতের সিদ্ধান্ত ◈ টেকসই এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিতে আরও সময় চায় বাংলাদেশ ◈ বাংলাদেশের সঙ্গে বোয়িং চুক্তি, মার্কিন অর্থনীতিতে বড় সাফল্য বললেন ট্রাম্প ◈ জাতিসংঘে তারেক–শাহবাজ বৈঠক: সম্পর্ক জোরদারে জোর ◈ দেশে আরও ৪ ডিজিটাল ব্যাংকের অনুমোদন, বাড়ছে অ্যাপনির্ভর ব্যাংকিং সেবা ◈ কারা এই হুতি বিদ্রোহীরা, কী তাদের লক্ষ্য? ◈ সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি মোকাবিলায় বৈশ্বিক নিঃসরণ কমানোর আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর ◈ বিশ্বের বৃহত্তম মুক্ত বাণিজ্য জোটে যুক্ত হওয়ার পথে বাংলাদেশ, গঠিত হচ্ছে বিশেষ ওয়ার্কিং গ্রুপ

প্রকাশিত : ২৭ অক্টোবর, ২০২১, ০৫:০০ বিকাল
আপডেট : ২৭ অক্টোবর, ২০২১, ০৫:০১ বিকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

[১] কুষ্টিয়ায় খেজুর গাছ কাটার মহোৎসব

ইসমাইল হোসেন: [২] কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় ধিরে ধিরে জেঁকে বসতে শুরু করেছে শীত। কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়তে শুরু করেছে সর্বত্র। শীতের এই সময়ে গাছিরা এখন ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন খেজুরের গাছের মিষ্টি রস সংগ্রহের জন্য। এরইমধ্যে গাছ তৈরির কাজ শেষ হয়েছে। এখন ভেড়ামারায় সর্বত্রই খেজুর গাছ তোলার মহোৎসব শুরু হয়েছে। কিছুদিন পরই গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যের প্রতীক খেজুর গাছ ঘিরে গ্রামীণ জনপদে শুরু হবে উৎসব মুখর পরিবেশ।

[৩] মায়ের হাতে বানানো হরেক রকমের পিঠা-পুলি খাওয়ার ধুম। এজন্য একসময় তীব্র শীতের মাঝেও খেজুরের রস সংগ্রহের জন্য ব্যস্ত থাকতেন গাছিরা। গত কয়েক বছরের ব্যবধানে ক্রমবর্ধমান মানুষের বাড়ি-ঘর নির্মাণ আর নির্বিচারে গাছ কাটার ফলে ক্রমেই খেজুর গাছের সংখ্যা কমে গেছে।

[৪] আসছে পুরো শীত মৌসুমে সৃষ্টি হবে এক নতুন আমেজ। তাই খেজুর গাছ থেকে সুমিষ্ট রস সংগ্রহের জন্য গাছ তোলা চাচাসহ বিভিন্ন রকমের পরিচর্যায় ব্যস্ত হয়ে গেছে গাছিরা। ছোট বড় বিভিন্ন রকমের খেজুর গাছ অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়েই তোলা-কাটা করতে হয়। কোমরে মোটা রশি দিয়ে বেঁধে গাছে ঝুলে ঝুলে করতে হয় এ কাজ। পেশাদার গাছিদের তেমন কোনো সমস্যা হয় না বলে জানালেন গাছিরা।

[৫] ভাদ্র-আশ্বিনের শুরুতে গাছ তোলা ও পরিচর্যা করার সঠিক সময়। তবে এবার বর্ষার ভাগ বেশি থাকায় খেজুরগাছ তোলা দেরিতেই শুরু হয়েছে।

[৬] এক সময় ভেড়ামারা উপজেলায় রস, গুড় ও পাটালী উৎপাদনের জন্য বেশ খ্যাতি অর্জন করেছিল। এলাকার খেজুর গুড় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বাণিজ্যিকভাবে পাঠানো হতো। তবে খেজুর গাছ তুলনামূলকভাবে প্রায় বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ায় আগের মতো মাঠজুড়ে আর দেখা যায় না। অতীতে এখানকার খেজুর রসের যে যশ ছিল যা ক্রমেই কমে যাচ্ছে।

[৭] কদিন পরেই প্রতিটি ঘরে খেজুরের রস দিয়ে পিঠা পুলি পায়েশ তৈরি ধুম পড়বে। মিষ্টি গুড় অত্যান্ত উপকারী। মুড়ি, চিড়া, পিঠা খাওয়া কৃষক পরিবার থেকে শুরু করে সবার কাছেই প্রিয়। এসব আশা নিয়ে শীত মৌসুমে গাছ তোলা চাচা কাটা নিয়ে পরিচিত গাছিদের বেশ ব্যস্ত সময় পার হয়।

[৮] রায়টা জুনিয়াদহ ধরমপুর প্রায় ৫০ জন গাছি বছরের খাবার জোগাড় করে এ পেশার মাধ্যমে। ভোর হতেই হাড়ি ভর্তি করে শহরের গলিতে গলিতে ফেরি করে মিষ্টি খেজুরের রস। দামও হাতের নাগালে ২০ থেকে ২৫ টাকা কেজি। খেজুর গাছ কেটে রস সংগ্রহ করে তা জালিয়ে গুড় বানিয়ে বাজারে বিক্রি করে বেশ আর্থিক সচ্ছলতা পায়। নিজেদের প্রয়োজনীয় খাবারের চাহিদা মিটিয়েও বিক্রি করে অনেকে। ইতিমধ্যে লোকজন গাছ কাটা গাছিদের সাথে যোগাযোগ শেষ করেছে।

[৯] তবে গাছ মালিকরা বলছেন, এলাকায় এখন আগের মতো খেজুর গাছ নেই। তাছাড়া রসও কম হচ্ছে।

[১০] এখান কার খেজুরের রস ও গুড়ের মান সর্বোৎকৃষ্ট, তবে গাছির দক্ষতা ও নিপুণতার ওপরও রসের মান ও পরিমাণ নির্ভর করে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

[১১] এখনো শীত জেকে না বসলেও গাছিরা গাছ তোলা চাচ দেয়ার জন্য দা তৈরি, ঠুঙি, দড়ি, ও মাটির কলস (ভাড়) কেনার কাজ সেরে নিচ্ছে।

[১২] রায়টা গ্রামের আব্দুল রউফ জানান, এ বছর খেজুর গাছ তোলার কাজ শুরু করে দিয়েছে। রস, গুড়, পাটালি তৈরি করে গত বারের তুলনায় এবার বেশি লাভবান হবেন বলে তিনি আশা করছেন। তিনি আরও বলেন, সরকারের সহযোগিতা পেলে এটা বাণিজ্যিকভাবে নেয়া সম্ভব।

  • সর্বশেষ