শিরোনাম
◈ ৬৪ রানে অলআউট হয়ে গেলো বাংলাদেশ ◈ ক্ষমতায় ছয় মাসেও আস্থাভাজন কর্মকর্তা খুঁজতে হিমশিম বিএনপি সরকার! ◈ ঠাকুরগাঁও-১ আসনটি শূন্য ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন ◈ দেশের হাসপাতালে অ্যান্টিবায়োটিকের ৯১% ‘ওয়াচ’ শ্রেণির, বাড়ছে প্রতিরোধী জীবাণুর ঝুঁকি! ◈ 'সুন্দরপুর-১ কূপ থেকে গ্যাস তোলা যাবে টানা ২০ বছর, দৈনিক মিলবে ১৫ মিলিয়ন ঘনফুট'(ভিডিও) ◈ ইসরায়েলপন্থিদের কোটি ডলারের প্রচারণা পেরিয়ে জয়ী ফিলিস্তিনপন্থি আয়েশা! ◈ বীর শহীদদের প্রতি রাষ্ট্রপতির শ্রদ্ধা ◈ টি-টো‌য়ে‌ন্টি সিরিজের সূচি এগিয়ে আনার প্রস্তাব আফগানিস্তানের! জট কাটতে পারে ভারতের বাংলাদেশ সফরের ◈ শত্রুকে এক পা-ও এগোতে দেওয়া হবে না : ইরানের নৌবাহিনী প্রধানের হুঁশিয়ারি ◈ হঠাৎ টানা ভারী বৃষ্টিতে খাগড়াছড়ির নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, হাজারো মানুষের দুর্ভোগ

প্রকাশিত : ২৭ অক্টোবর, ২০২১, ০৫:০০ বিকাল
আপডেট : ২৭ অক্টোবর, ২০২১, ০৫:০১ বিকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

[১] কুষ্টিয়ায় খেজুর গাছ কাটার মহোৎসব

ইসমাইল হোসেন: [২] কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় ধিরে ধিরে জেঁকে বসতে শুরু করেছে শীত। কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়তে শুরু করেছে সর্বত্র। শীতের এই সময়ে গাছিরা এখন ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন খেজুরের গাছের মিষ্টি রস সংগ্রহের জন্য। এরইমধ্যে গাছ তৈরির কাজ শেষ হয়েছে। এখন ভেড়ামারায় সর্বত্রই খেজুর গাছ তোলার মহোৎসব শুরু হয়েছে। কিছুদিন পরই গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যের প্রতীক খেজুর গাছ ঘিরে গ্রামীণ জনপদে শুরু হবে উৎসব মুখর পরিবেশ।

[৩] মায়ের হাতে বানানো হরেক রকমের পিঠা-পুলি খাওয়ার ধুম। এজন্য একসময় তীব্র শীতের মাঝেও খেজুরের রস সংগ্রহের জন্য ব্যস্ত থাকতেন গাছিরা। গত কয়েক বছরের ব্যবধানে ক্রমবর্ধমান মানুষের বাড়ি-ঘর নির্মাণ আর নির্বিচারে গাছ কাটার ফলে ক্রমেই খেজুর গাছের সংখ্যা কমে গেছে।

[৪] আসছে পুরো শীত মৌসুমে সৃষ্টি হবে এক নতুন আমেজ। তাই খেজুর গাছ থেকে সুমিষ্ট রস সংগ্রহের জন্য গাছ তোলা চাচাসহ বিভিন্ন রকমের পরিচর্যায় ব্যস্ত হয়ে গেছে গাছিরা। ছোট বড় বিভিন্ন রকমের খেজুর গাছ অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়েই তোলা-কাটা করতে হয়। কোমরে মোটা রশি দিয়ে বেঁধে গাছে ঝুলে ঝুলে করতে হয় এ কাজ। পেশাদার গাছিদের তেমন কোনো সমস্যা হয় না বলে জানালেন গাছিরা।

[৫] ভাদ্র-আশ্বিনের শুরুতে গাছ তোলা ও পরিচর্যা করার সঠিক সময়। তবে এবার বর্ষার ভাগ বেশি থাকায় খেজুরগাছ তোলা দেরিতেই শুরু হয়েছে।

[৬] এক সময় ভেড়ামারা উপজেলায় রস, গুড় ও পাটালী উৎপাদনের জন্য বেশ খ্যাতি অর্জন করেছিল। এলাকার খেজুর গুড় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বাণিজ্যিকভাবে পাঠানো হতো। তবে খেজুর গাছ তুলনামূলকভাবে প্রায় বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ায় আগের মতো মাঠজুড়ে আর দেখা যায় না। অতীতে এখানকার খেজুর রসের যে যশ ছিল যা ক্রমেই কমে যাচ্ছে।

[৭] কদিন পরেই প্রতিটি ঘরে খেজুরের রস দিয়ে পিঠা পুলি পায়েশ তৈরি ধুম পড়বে। মিষ্টি গুড় অত্যান্ত উপকারী। মুড়ি, চিড়া, পিঠা খাওয়া কৃষক পরিবার থেকে শুরু করে সবার কাছেই প্রিয়। এসব আশা নিয়ে শীত মৌসুমে গাছ তোলা চাচা কাটা নিয়ে পরিচিত গাছিদের বেশ ব্যস্ত সময় পার হয়।

[৮] রায়টা জুনিয়াদহ ধরমপুর প্রায় ৫০ জন গাছি বছরের খাবার জোগাড় করে এ পেশার মাধ্যমে। ভোর হতেই হাড়ি ভর্তি করে শহরের গলিতে গলিতে ফেরি করে মিষ্টি খেজুরের রস। দামও হাতের নাগালে ২০ থেকে ২৫ টাকা কেজি। খেজুর গাছ কেটে রস সংগ্রহ করে তা জালিয়ে গুড় বানিয়ে বাজারে বিক্রি করে বেশ আর্থিক সচ্ছলতা পায়। নিজেদের প্রয়োজনীয় খাবারের চাহিদা মিটিয়েও বিক্রি করে অনেকে। ইতিমধ্যে লোকজন গাছ কাটা গাছিদের সাথে যোগাযোগ শেষ করেছে।

[৯] তবে গাছ মালিকরা বলছেন, এলাকায় এখন আগের মতো খেজুর গাছ নেই। তাছাড়া রসও কম হচ্ছে।

[১০] এখান কার খেজুরের রস ও গুড়ের মান সর্বোৎকৃষ্ট, তবে গাছির দক্ষতা ও নিপুণতার ওপরও রসের মান ও পরিমাণ নির্ভর করে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

[১১] এখনো শীত জেকে না বসলেও গাছিরা গাছ তোলা চাচ দেয়ার জন্য দা তৈরি, ঠুঙি, দড়ি, ও মাটির কলস (ভাড়) কেনার কাজ সেরে নিচ্ছে।

[১২] রায়টা গ্রামের আব্দুল রউফ জানান, এ বছর খেজুর গাছ তোলার কাজ শুরু করে দিয়েছে। রস, গুড়, পাটালি তৈরি করে গত বারের তুলনায় এবার বেশি লাভবান হবেন বলে তিনি আশা করছেন। তিনি আরও বলেন, সরকারের সহযোগিতা পেলে এটা বাণিজ্যিকভাবে নেয়া সম্ভব।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়