প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

শুরুতে কাঙ্ক্ষিত ইলিশ না পেয়ে হতাশ জেলেরা

নিউজ ডেস্ক: ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার পর সোমবার রাত থেকে অনেক আশা নিয়ে নদীতে ও সমুদ্রে ইলিশ শিকারে নেমেছেন জেলেরা। গতকাল সকাল থেকে সরগরম হয়ে উঠেছে মাছের আড়তগুলো। তবে কাঙ্ক্ষিত ইলিশ পাননি মেঘনাপারের চাঁদপুর ও ভোলার জেলেরা।

ভোলার জেলেদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সোমবার মধ্যরাত থেকে ভোলার মেঘনা-তেঁতুলিয়া নদীতে ইলিশ শিকারে নেমেছেন তাঁরা। প্রথম দিন আশানুরূপ মাছ পাননি বেশির ভাগ জেলে। এদিকে জেলেদের জালে ধরা পড়া ইলিশের ৭০ থেকে ৮০ শতাংশের পেটে এখনো ডিম রয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলেরা। তাঁদের দাবি, মা ইলিশ রক্ষায় নিষেধাজ্ঞার সময়কাল পরিবর্তন করা উচিত।

গতকাল মঙ্গলবার সকাল থেকে ভোলা সদর উপজেলার ইলিশা, তেমাথা, ভাংতিরখাল, কাচিয়া, ধনিয়াসহ বিভিন্ন মাছঘাট ঘুরে দেখা গেছে, ভোর থেকেই জেলে ও পাইকারদের পদচারণে ঘাটগুলো সরগরম হয়ে উঠেছে। জেলেরা ঘাটে এসে মাছ বিক্রি করে আবার ছুটে যাচ্ছেন নদীতে। তবে গত বছরের তুলনায় এই সময় মাছ কম পাওয়ায় জেলে ও আড়তদাররা হতাশা প্রকাশ করেন।

ইলিশা মাছঘাটের ইসমাইল মাঝি জানান, নদীতে যেতে ট্রলারের তেলসহ তাঁদের খরচ হয়েছে ৭০০-৮০০ টাকা। মাছ বিক্রি করেছেন ১১০০ টাকার। এনজিও সংস্থায় তাঁর ৮০ হাজার টাকা ঋণ রয়েছে। এ অবস্থায় তিনি দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। ভোলা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা এস এম আজহারুল ইসলাম বলেন, ‘ইলিশ কেন কম ধরা পড়ছে, তা বাংলাদেশ ইলিশ গবেষণা ইনস্টিটিউটের গবেষকরা বলতে পারবেন।’

চাঁদপুরের পদ্মা ও মেঘনায় শিকারে যাওয়া জেলেরাও কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ ইলিশ পাননি। জেলেরা জানিয়েছেন, যে পরিমাণ ইলিশ তাঁরা পেয়েছেন তাতে নৌকার জ্বালানি খরচও উঠছে না। গতকাল নদীপারের আড়তগুলোতে সামান্য কিছু ইলিশ দেখা গেছে। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত শহরের বড়স্টেশনসহ আড়তগুলোতে ক্রেতাদের তেমন উপস্থিতি না থাকলেও আড়তদারদের হাঁকডাকে মুখরিত ছিল। আরো দুই-এক দিন পর ইলিশের সরবরাহ বাড়লে ক্রেতাদের সংখ্যা বাড়বে বলে মনে করছেন মাছ ব্যবসায়ীরা।

মেঘনা থেকে হতাশ হয়ে ফিরে আসা জেলে মনির, আবদুর রহমানসহ আরো কয়েকজন জানান, যে আশা করে তাঁরা নদীতে গিয়েছিলেন, সেই আশা পূরণ হয়নি। এভাবে চললে ধারদেনায় জড়িয়ে যাবেন তাঁরা।

বড়স্টেশনের আডতদার বিপ্লব খান ও নবীর হোসেন জানান, তাঁরা যে আশা করেছিলেন, সে পরিমাণ ইলিশ মাছ ঘাটে আসেনি। তবে তাঁরা আশা করছেন দুই থেকে তিন দিন পর ঘাটে ইলিশের আমদানি বাড়বে। চাঁদপুরের মাছঘাটে গতকাল এক কেজির ইলিশের দাম ছিল ১০৫০ থেকে ১১০০ টাকা। এক কেজির বেশি ওজনের ইলিশের দাম ১১৫০ থেকে ১২৫০ টাকা এবং ৬০০ গ্রাম থেকে ৯০০ গ্রাম ইলিশের দাম ৭৫০ থেকে ৯০০ টাকার মধ্যে।

চাঁদপুর জেলা মৎস্য বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শবে বরাত সরকার বলেন, ‘আশা করেছিলাম আজকে অন্তত দুই থেকে আড়াই হাজার মণ ইলিশ ঘাটে আমদানি হবে। সেখানে ৮০০ থেকে এক হাজার মণের মতো ইলিশ আমদানি হয়েছে।’

এদিকে ঝালকাঠির সুগন্ধা ও বিষখালী নদীতে কম-বেশি ইলিশ ধরা পড়ছে বলে জানিয়েছেন জেলেরা। গতকাল সকালে প্রায় পাঁচ শতাধিক নৌকায় ইলিশ ধরায় ব্যস্ত ছিলেন জেলেরা।

জেলেরা জানান, ছোট-বড় সব ধরনের ইলিশই ধরা পড়ছে তাঁদের জালে।

এ ছাড়া বাগেরহাটের মোংলার পশুর নদী, সুন্দরবন ও সাগরে মাছ ধরতে নেমেছেন উপকূলের জেলেরা। দিন-রাতের দুই জোয়ারের সময় জেলেরা ইলিশের জাল ফেলে থাকেন। জাতীয় মৎস্যজীবী সমিতির মোংলা শাখার সভাপতি বিদ্যুৎ মণ্ডল বলেন, মোংলায় প্রায় ১০ হাজার জেলে রয়েছেন। তার মধ্যে দুই হাজার রয়েছেন ইলিশের জেলে। বেশি ইলিশ মাছ শিকারের আশায় সোমবার রাত থেকেই সাগরে রওনা হয়ে গেছেন অনেকে। আর কেউ কেউ পশুর নদী ও সুন্দরবনে ইলিশ ধরতে নেমেছেন। তবে কী পরিমাণ মাছ ধরা পড়ছে তা গতকাল জানা যায়নি।

-কালের কণ্ঠ

সর্বাধিক পঠিত