প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ইমতিয়াজ মাহমুদ: আপনি নেতা মানুষ, আপনি বলবেন সহনশীলতার কথা

ইমতিয়াজ মাহমুদ
এতো তদন্ত এতো বিচার সালিশ সাক্ষী সাবুদ ফরেনসিক কীসব কাজকর্ম আর কোর্ট কাচারী যুক্তিতর্ক এসবের দরকার কী? আসামি ধরবেন, মাহমুদুর রহমান মান্নার সামনে আনবেন, তিনি চেহারা দেখে বলে দেবেন দোষী না নির্দোষ। হয়ে গেলো। কেন বলছি এ কথা? কুমিল্লার ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া ইকবালকে দেখে মাহমুদুর রহমান মান্না কী বলেছেন দেখেননি? দৈনিক সমকাল থেকে উদ্ধৃত করে দিচ্ছি, ‘তিনি বলেছেন, ইকবালকে দেখলে বিশ্বাস হয় না তিনি পূজামণ্ডপে কোরআন শরীফ রেখে আসতে পারেন। তার ছবি দেখলে কারও বিশ্বাস হবে না যে তিনি এই কাজ করেছেন। ইকবাল লোকটা মানসিক ভারসাম্যহীন। তাকে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি কিছু বলতে পারবেন না।’ না, এই ইকবাল নামের যুবকটি জড়িত কিনা সেটা তো আপনি আমি কেউই এখনই নিশ্চিত করে বলতে পারি না। তদন্তটা হোক, আরও তথ্য আসুক। আর ইকবাল নিজে থেকে একা একাও সম্ভবত এক কাণ্ড করেনি। যদি দেখা যায় যে ইকবালকে অন্য একদল লোক নিয়োগ করেছে, টাকাপয়সা দিয়েছে বা ডগমাটাইজ করেছে তাহলেও তো অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না আরকি। কিন্তু ছবি দেখে একবাক্যে এই যবুককে নির্দোষ বলে দেওয়ার মতো কিছু তো আমি দেখি না। নাকি মান্না ভাই এই যুবককে ব্যক্তিগতভাবেই চিনেন?

দেখেন, এই পুরো অধ্যায়টাতেই সরকারের ব্যর্থতা আছে। সেই কথা কেউই অস্বীকার করবে না। এই কাণ্ডের জন্য নৈতিক দায় নিয়ে সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ করা দরকার ছিলো। সেটাও ঠিক। সরকার নিজে থেকেই কি এই কাণ্ড ঘটিয়েছে? চলেন সেই সম্ভাবনাও বিবেচনার মধ্যে রাখলাম। কিন্তু একটা কথা তো সত্যি যে হনুমানের মূর্তির গায়ে কোরআন স্থাপনের কাজটা কোনো হিন্দু ব্যাটা করেনি। হিন্দুরা করবে না তার প্রথম কারণ ভয়। কোনো হিন্দুর এই সাহস হবে না। দ্বিতীয় কারণ নিজেদের ধর্মীয় মণ্ডপে কোরআন স্থাপন করা সেটাতে তো হিন্দুর নিজের ধর্মও বিঘ্নিত হয়। আপনার যদি ন্যূনতম গণতান্ত্রিক চেতনা থাকে তাহলে আপনি নিন্দা করবেন যারা এসব কাণ্ড ঘটিয়েছে তাদের। পীরগঞ্জের ব্যাপারটা দেখেন, একটা হিন্দু ছেলে যদি কাবা শরীফের ছবি নিয়ে উল্টাপাল্টা কোনো পোস্ট দেয়ও, পুরো গ্রামে আগুন লাগিয়ে দেওয়া, লুটপাট করা, মানুষকে আক্রমণ করার তো কোনো যুক্তি নেই। আপনি নেতা মানুষ, আপনি বলবেন সহনশীলতার কথা, ধর্মগুলোর মধ্যে শান্তিপূর্ণ সম্প্রীতির কথা। না, আপনি নেমে গেলেন ইকবালকে নির্দোষ দাবি করতে। এটা কী ভাই? Imtiaz Mahmood-র ফেসবুক ওয়ালে লেখাটি পড়ুন।

সর্বাধিক পঠিত