প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

শামীম আহমেদ: ইসলামী মৌলবাদ ও প্রগতিশীল মৌলবাদের বিরুদ্ধে শান্তিকামী মানুষের কলম বহমান থাকুক

শামীম আহমেদ: ছাত্রলীগের ছেলেরা যখন মারামারি করে, গোলাগুলি করে, খুনাখুনি করে, তখন কেউ যদি এসে বলে ‘আরে তারা তো ছাত্রলীগ নয়, প্রকৃত ছাত্রলীগ কখনো খুনাখুনি, রাহাজানি করতে পারে না। তারা ছাত্রলীগের নাম ভাঙিয়ে এসব করছে। কই আমাদের নেতা বাহাদুর বেপারী তো কখনো ছাত্রদলকে ঠ্যাঙায়নি! আপনি মানবেন? মানবেন না। অথবা ধরেন ছাত্রলীগের ছেলেরা যদি চাঁদাবাজি করে, গুÐাগার্দি করে, দোকান ভাঙচুর করে, জমি দখল করে, তখন এসে যদি কেউ বলে, ‘আরে এসব তো ছাত্রলীগের কাজ নয়, ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্রে তো এসব লেখা নেই। ওইখানে বলা আছে শিক্ষাই জাতির মেরুদÐ।’ আপনি শুনবেন? শুনবেন না। বরঞ্চ ছাত্রলীগ-আওয়ামী লীগের উচ্চ পর্যায়ের নেতাকর্মীরাই যারা এসব কুকর্ম করবে তাদের দল থেকে বহিষ্কার করবে, শাস্তি দেবে। কারণ ছাত্রলীগের নাম ভাঙিয়ে কতিপয় বহিরাগত কখনো এ কাজ করতে পারে না, করলে ছাত্রলীগই করে এবং এ বিশ্বাস থেকেই করে যে অন্য দলের নেতাকর্মীদের ঠ্যাঙানোর অধিকার বা ক্ষমতা তার আছে। অন্যের জিনিস দখল করার, ধ্বংস করার ক্ষমতা তার আছে।

ওপরে যা বললাম তাকে মেটাফোর হিসেবে বিবেচনা করতে পারেন। মুসলমানদের ব্যাপারটা এর চেয়ে খুব বেশি আলাদা নয়। ২০২১ সালের অক্টোবর মাসে এসে ছাত্রলীগ আর মুসলমান সব মিলেমিশে এক হয়ে গেছে। সারাদেশে যেসব মুসলমান হিন্দুদের বাড়িঘর, দোকান-পাট, মন্দিরে আগুন দিচ্ছে, ভাঙচুর করছে- তারা মুসলমানই, মুসলমান নামের কলংক নয়। তারা বিশ্বাস করে ইসলাম তাদের অধিকার দিয়েছে হিন্দুদের নির্মূল করার, তাদের অস্তিত্ব বিলীন করার। পৃথিবীর কোনো সংবিধানে ভালো বাদে মন্দ কোনো কথা নেই। তবুও রাষ্ট্র অন্যায় করে, নিজের নাগরিকদের ওপর নির্যাতন করে, অন্যের দেশে আক্রমণ করে। তেমনি দুনিয়ার কোনো ধর্মগ্রন্থে কোনো মন্দ কথা বলা নেই। তবুও ধর্মের মানুষরা অন্য ধর্মের মানুষের ওপর হামলা চালায়, জুলুম করে, নির্যাতন করে।

রাষ্ট্রে সংঘটিত অন্যায়ের দায় যেমন সরকারকে নিতে হয়, ছাত্রলীগের কতিপয় কর্মীর কুকর্মের দায় যেমন পুরো ছাত্রলীগের নিতে হয়, তেমনই যেসব মুসলমান দেশের নানা প্রান্তে হিন্দুদের ওপর অত্যাচার-নির্যাতন চালাচ্ছে, তার দায়ভার পুরো মুসলমান সমাজকেই নিতে হবে। কোরআন শরীফে অন্যায়ের জায়গা নেই, নবী (সা.) কখনো ভিন্নাধর্মালম্বীদের ওপর আক্রমণ করেননি, মুসলমান শান্তির ধর্ম এসব বলে লাভ হবে না। পৃথিবীর অন্যান্য দেশে অন্য সংখ্যাগরিষ্ঠ ধর্মাবলম্বীরাও মুসলমানদের ওপর একইভাবে অত্যাচার-নিপীড়ন করে- এ কথা বলারও এখন উপযুক্ত সময় নয়। আমাদের দেশের ভেতর মুসলমানরা যে ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছে, তার দায়ভার প্রতিটা মুসলমানকে নিতে হবে, কেননা ওই কতিপয় মুসলমানকে আমরা বোঝাতে পারিনি, আমাদের কোনো দুুর্বলতার কারণেই তারা আজকে এতোটা আগ্রাসী। আমরা যদি ভেতর থেকে তাদের প্রতিহত না করি, তাহলে এই ঘটনার পুনরাবৃত্তি চলতেই থাকবে। আর হ্যাঁ, এটা বলার অপেক্ষা রাখে না যে এই কাজে সরকারের সমর্থন না থাকলেও, তারা বাধা দিচ্ছে না কোনো এক অজানা কারণে। সরকারের প্রচ্ছন্ন সমর্থন না থাকলে এই ঘটনা এতোদূর গড়াতো না।

যে সরকার হেফাজতে ইসলামের মতো বর্বর গোষ্ঠীর ১০ লাখ জঙ্গিকে এক রাতে পিটিয়ে সোজা করে ফেলে, তাদের জন্য দু’চার হাজার উগ্র মুসলমান চাইলে ‘তুড়ি কা খেল হ্যায়’। সঙ্গে সঙ্গে এটিও উল্লেখ না করলে ভুল হবে যে এই ক্রান্তিকালে বাংলাদেশে দ্রæত বর্ধমান ‘প্রগতিশীল মৌলবাদের’ চেহারাও পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে। যাদের দেখলে মনে হয় এই অশান্তিতে তারা খুশি, যেভাবেই হোক ইসলাম ধর্ম ও মুসলমানদের বিরুদ্ধে তাদের চলমান উসকানি দৃষ্টিকটুভাবে চোখে পড়ছে। এসব মানুষরা ওই উগ্র মুসলমানদের চেয়ে কোনো অংশেই কম খারাপ নয় দেশের জন্য। ইসলামী মৌলবাদ ও প্রগতিশীল মৌলবাদের বিরুদ্ধে আমাদের শান্তিকামী মানুষের কলম বহমান থাকুক। লেখক : জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ

সর্বাধিক পঠিত