শিরোনাম
◈ মার্চে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে রূপপুর পারমাণবিক কেন্দ্রের ৩৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ  ◈ বিশ্বকাপ থে‌কে বাংলাদেশকে বাদ দেওয়া ক্রিকেটের জন্য বাজে দৃষ্টান্ত : এ‌বি ডি ভিলিয়ার্স ◈ ভোলা এলএনজির বিকল্প প্রস্তাব, সাশ্রয় হবে ৯ হাজার কোটি ◈ পশ্চিমবঙ্গকে বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতার বসাতে হাইকোর্টের হুঁশিয়ারি ◈ যুক্তরাজ্যে অতিদারিদ্রের সংখ্যা ৬৮ লাখ, ৫৩ শতাংশ বাংলাদেশি ◈ ভুয়া তথ্যে কানাডার ভিসার আবেদন: বস্তায় ভরে ৬০০ বাংলাদেশির পাসপোর্ট ফেরত ◈ বাংলাদেশে আসতে আগ্রহী পেপ্যাল ◈ ইরানের বিরুদ্ধে অভিযানে সৌদি আকাশসীমা ব্যবহারে যুবরাজ সালমানের নিষেধাজ্ঞা ◈ যুক্তরাষ্ট্রে গুলি করে হত্যার জন্যে হোমল্যান্ড সিকিউরিটির দুই কর্মকর্তাকে বরখাস্ত ◈ ৫ ব্যাংকের আমানত ফেরত সিদ্ধান্ত, কিন্তু শেয়ার বিনিয়োগকারীরা রয়ে গেল অনিশ্চয়তায়

প্রকাশিত : ২২ অক্টোবর, ২০২১, ০৩:৩৫ রাত
আপডেট : ২২ অক্টোবর, ২০২১, ০৩:৩৫ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

শর্বাণী দত্ত: একটাই তো জীবন, ঘৃণা না করেই বাঁচতে চাই!

শর্বাণী দত্ত: বাংলাদেশে সংখ্যালঘু, আরও সোজা করে বলতে গেলে হিন্দু হয়ে জন্মে ধর্মনিরপেক্ষ আদর্শ নিয়ে আজীবন চলে যাওয়া খুব সহজ নয়। নামকরা হাই স্কুলে ৬ বছর কাটিয়েও এখন সেই স্কুলের হাতে গোনা ক’জনের সঙ্গেই বন্ধুত্ব রাখতে পেরেছি। আমার ধর্ম এবং ধর্মের মানুষদের নিয়ে এতো অসম্মানজনক কথাবার্তা বলতো, তাও এতো নির্দ্বিধায়, সেসব তোয়াক্কা না করে বন্ধুত্ব টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। বারবার গরু খেতে নানাভাবে ‘প্রলুব্ধ করা’ থেকে শুরু করে, যেখানে-সেখানে, পাবলিক জায়গায়, বাসে, দোকানে ওয়াজ ছেড়ে দেওয়া অথবা ‘জ্ঞানীগুণী’ ইমামদের মাহফিলে হিন্দুধর্ম মানেই ‘অবৈধ জেনা’, ‘দেবদেবীদের নোংরামি’, হিন্দু নারীদের বুক দেখানো জর্জেটের শাড়ি- এসব শুনতে শুনতে কান গরম হয়ে যায়। এরপর আবার মাথা ঠাকরে যে যার কাজে এগোই।

মনে আছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পরপর ক্যাম্পাসের খুব কাছে স্টাফ কোয়ার্টারে একটা সিঙ্গেল রুম ভাড়া করেছিলাম। এডভান্সের টাকা দেওয়ার সময়ও তাদের ধর্মভিত্তিক অগ্রাধিকার আমাকে জানানোর প্রয়োজন মনে করেননি। যেদিন ওঠতে গেলাম সেদিন আমি হিন্দু ‘টের পেয়ে’, সঙ্গে সঙ্গে একপ্রকার বেরই করে দিলেন। ভীষণ অপমানে, অস্বস্তিতে সুটকেসটা নিয়ে আবার আত্মীয়ের বাড়িতে ফিরে এলাম। গত বছর লকডাউনে মাশরাফি যখন কোভিড আক্রান্ত হলো, আমার ভোলাভালা মা অত সাতপাঁচ না ভেবেই একটা নিউজে মন্তব্য করে দিলো, ‘ঈশ্বর তোমাকে সুস্থ করে দিক বাবা!’ বগুড়ার এক স্কুল ছেলে সেখানে এসে আমার মা’কে উত্তর দিলো, ‘তোদের ওম নমঃ ফমঃ শুনতে চাইনি নেংটি কোথাকার’। ঘৃণাকে পাশ কাটিয়ে ভালোবাসা আর মায়া নিয়ে বেঁচে থাকাও আমাদের জন্য একটা যুদ্ধ এখন। এই যুদ্ধটা নিজের সঙ্গেই করতে হয়। কারণ মানুষ তার স্বাভাবিক প্রবৃত্তিতেই কখনো কখনো ঘৃণার দ্বারা চালিত হয়, না চাইলেও হয়। তবু চেষ্টা, যুদ্ধ করে যাই। একটাই তো জীবন, ঘৃণা না করেই বাঁচতে চাই! Sharbani Datta’র ফেসবুক ওয়ালে পড়ুন।

 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়