শিরোনাম
◈ সাগর খালি, ঘাট নীরব: কক্সবাজারে সামুদ্রিক মাছের সংকট ◈ প‌রিচালক নাজমুল বি‌সি‌বি থে‌কে পদত‌্যাগ না করা পর্যন্ত  মাঠে নামবেন না ক্রিকেটাররা: সংবাদ স‌ম্মেল‌নে কোয়াব সভাপ‌তি ◈ সাফ ফুটসাল চ‌্যা‌ম্পিয়ন‌শি‌পে বাংলা‌দে‌শের কা‌ছে পাত্তাই পে‌লো না ভারত ◈ জ্বালানি ও বিদ্যুৎ মহাপরিকল্পনায় তাড়াহুড়ো কেন, প্রশ্ন সিপিডির  ◈ অনির্দিষ্টকালের জন্য বিপিএল স্থগিত করলো বিসিবি ◈ ইসলামী আন্দোলনের জন্য অপেক্ষা, ৫০ আসন ফাঁকা রেখেই সমঝোতা ১০ দলের! ◈ বিপিএলের ম্যাচ দেখতে না পারায় মিরপুর স্টেডিয়ামের বাইরে বিক্ষুব্ধ জনতার ভাংচুর (ভিডিও) ◈ দাবি আদায়ে বারবার সড়ক অবরোধের প্রবণতা, দায় কার? ◈ রাস্তায় দাঁড়িয়ে নিয়োগপ্রত্যাশী শিক্ষকদের কথা শুনলেন তারেক রহমান ◈ শহীদ হাদি হত্যা মামলায় নতুন মোড়, পুনঃতদন্তের নির্দেশ

প্রকাশিত : ২০ অক্টোবর, ২০২১, ০২:০৩ দুপুর
আপডেট : ২০ অক্টোবর, ২০২১, ০২:০৪ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

[১] রাজধানীতে চলতি বছরে ৮ ভাসমান যৌনকর্মী খুন

মাসুদ আলম: [২] সবক'টি খুনের ধরনও কাছাকাছি। শ্বাসরোধ করে হত্যার পর তাদের মরদেহ পাওয়া গেছে বাসা-বাড়ি, আবাসিক হোটেল অথবা ফুটপাতে বাক্সবন্দি অবস্থায়। পুলিশ বলছে, চুক্তির টাকা নিয়ে বাক-বিতণ্ডার জেরেই যৌনকর্মীদের হত্যা করেছে খদ্দেররা।

[৩] আধার নেমে এলে, জ্বলে ওঠে নিয়ন বাতি, দেখা মেলে নগরবধূদের। খদ্দেরের আশায় বিভিন্ন সড়ক, পার্ক, মার্কেট কিংবা ফুটওভারব্রিজে অপেক্ষা।

[৪] সম্প্রতি যমুনা ফিউচার পার্কে ভাসমান এক যৌনকর্মীর সঙ্গে ঘুরতে দেখা যায় খদ্দেরকে। আলাপ-আলোচনায় আর্থিক চুক্তি রফা হলে ওই নারীকে বাসায় নিয়ে যান তিনি। তবে চুক্তির টাকা নিয়ে দেখা দেয় দু'জনের বিরোধ। পরে ওই নারীকে শ্বাসরোধে হত্যার পর, মরদেহ বাক্সবন্দি করে ভাটারার ঢালিবাড়িতে ফুটপাতে ফেলে রাখেন অভিযুক্ত যুবক। আত্মগোপনে চলে যান গাইবান্ধায়। গোয়েন্দা অভিযানে ধরা পড়ার পর দেন খুনের বিবরণ।

[৫] অভিযুক্ত খুনি আব্দুল জব্বার জানায়, 'তাকে ১৫০০ টাকা দিয়ে চুক্তি করে নিয়ে আসি। ১০০০ টাকার জন্য ধস্তাধস্তি হলো। তাকে আমি মেরে ফেলি। এরপর মরদেহটা কার্টনে করে কলাবাগান ফেলে আসি।'

[৬] এ বছরেই ভাষানটেক, কাজীপাড়া, শ্যামলী, দক্ষিণখান, ফার্মগেটে খুন হয়েছেন আরও সাত যৌনকর্মী। প্রত্যেকেই খদ্দেরের সঙ্গে বাসা-বাড়ি অথবা আবাসিক হোটেলে গিয়েছিলেন। পরে তাদের মরদেহ পাওয়া যায়। প্রত্যেকের গলায়ই রয়েছে আঘাতের চিহ্ন।

[৭] নিহত যৌনকর্মীর স্বামী জানান, 'জানতে চাইলে বলে খারাপ আচরণের কারণে মেরেছে। ওড়না দিয়ে পেছনে হাত বেঁধে গলা টিপে মেরেছে। পরে লাশ রেখে গেছে।'

[৮] পুলিশ বলছে, আটজন যৌনকর্মী হত্যাকাণ্ডের পেছনেই রয়েছে চুক্তির টাকা নিয়ে বিরোধ।

[৯] ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (গুলশান) উপ কমিশনার মশিউর রহমান বলেন, 'একটা খুন করে ফেলার মতো জঘন্য ঘটনা ঘটিয়ে, ভিকটিমের সম্পদ বিক্রি করে সেই টাকা দিয়ে মাদক সেবন করা এবং ঠান্ডামাথায় লাশ গুম করার মতো ঘটনাগুলো পৈশাচিক। এটা আমাদের সমাজের অসাড়ত্ব প্রকাশ করে।' এসব খুনের পেছনে অর্থের সঙ্গে যৌনকর্মীদের প্রতি অবজ্ঞা এবং পুরুষতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গিকেও দায়ী করছেন সমাজবিজ্ঞানীরা।

[১০] ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সালমা আক্তার বলেন, 'একজন নারী যখন তার কথা শুনছেন না অথবা তার অবাধ্য হচ্ছেন তখন তাকে মেরে ফেলা একজন পুরুষের তার ওপর ক্ষমতা দেখানোর চেষ্টা করা। আর একটি ব্যাপার হচ্ছে এ পেশাটা যেহেতু সামাজিকভাবে গ্রহণযোগ্য না তাই আমরা সামাজিকভাবে রিঅ্যাক্ট করবো না। এটা আসলে এক ধরনের সোশ্যাল ক্রাইম। এটি কোন ইনডিভিজুয়াল ক্রাইম না।'যৌনকর্মী বলেই তাকে নির্যাতন কিংবা হত্যা করার মানসিকতাকে সহনশীলতা ও মানবিকতার ক্ষয় হিসেবে দেখছেন অধিকারকর্মীরা। সূত্র ডিবিসি।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়