প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] য‌শোরের চাঁচড়া থে‌কে ঝিনাইদহ পর্যন্ত ৫০ কি‌লো‌মিটার সড়ক ছয় লে‌নে উন্নীত হ‌চ্ছে

র‌হিদুল খান: [২] যশোরের চাঁচড়া থেকে ঝিনাইদহ পর্যন্ত রাস্তা ছয় লেইন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সড়কের উভয় পাশে সার্ভিস লেন রাখা হবে। ৬ লেনে উন্নীত করা ৪ হাজার কোটি টাকার কর্মযজ্ঞের প্রাথমিক কার্যক্রম হিসেবে সম্ভাব্য রাস্তার নকশা নিয়ে যশোরে অবস্থান করছেন কর্মকর্তারা।

[৩] যশোরে প্রকল্পের অফিস নেয়াসহ নিযুক্ত করা হয়েছে পরিচালক ও ব্যবস্থাপকসহ একটি অভিজ্ঞ প্রকৌশলী সেট আপ। ওয়েস্টার্ন ইকোনমিক করিডর ফেইজ ১ এর আওতায় ঝিনাইদহ যশোর মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্পটি (এন-৭) বাংলাদেশ ও বিশ্ব উন্নয়ন ব্যাংকের যৌথ অর্থায়নে শুরু হচ্ছে বলে জানিয়েছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ। ৪৮ দশমিক ৫০ কিলোমিটার সড়কের প্রতি কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণে খরচ টার্গেট ৮৬ কোটি টাকা।

[৪] সড়ক ও জনপথ সূত্র জানিয়েছে, যশোরের চাঁচড়া থেকে ঝিনাইদহ পর্যন্ত ছয় লেইন প্রক্রিয়া শুরুর মাধ্যমে দেশের উত্তর পশ্চিমাঞ্চলের সাথে বন্দরগুলোর যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন করতে যাচ্ছে সরকার। বিশেষ করে বেনাপোল, ভোমরা স্থলবন্দর ও মোংলা সমুদ্র বন্দরসহ এশিয়ান হাইওয়ে, সার্ক হাইওয়ে করিডোর, বিমসটেক রোড করিডোর ও সাউথ এশিয়ান সাব রিজিওনাল ইকোনমিক কোঅপারেশন (সাসেক) রোড করিডোরের সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে এই কর্মযজ্ঞটি একটি সময় উপযোগী পদক্ষেপ হতে যাচ্ছে। ধীরগতিসম্পন্ন যানবাহনের জন্য পৃথক লেন এবং ব্যস্ততম স্থানে ফ্লাইওভার নির্মাণ এবং ‘স্মার্ট হাইওয়ে’ নির্মাণের জন্য অপটিক ফাইবার ক্যাবল (ওএফসি) এবং সড়ক ব্যবস্থাপনার জন্য ইন্টেলিজেন্ট ট্রান্সপোর্ট সিস্টেমস (আইটিএস) স্থাপন করার টার্গেট রয়েছে এই উন্নয়ন প্রকল্পে।

[৫] ওয়েস্টার্ন ইকোনমিক করিডরের যশোর-ঝিনাইদহ অংশের ৪৮ দশমিক ৫০ কিলোমিটার সড়ক উভয় পাশে সার্ভিস লেনসহ ৬ লেনে উন্নীত করার টার্গেট। এতে খরচ করার টার্গেট রয়েছে ৪ হাজার ১৮৭ কোটি ৭০ লাখ ১৭ হাজার টাকা। যা প্রতি কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণে খরচ দাঁড়াবে ৮৬ কোটি ৩৪ লাখ ৪৩ হাজার ৬৪৯ টাকা।

[৬] এই বিশাল অর্থের জোগান আসবে সরকারের অনুদান ও বিদেশি ঋণ থেকে। এর মধ্যে বাংলাদেশ সরকার ১ হাজার ৪৮২ কোটি ৪ লাখ ৯৯ হাজার টাকা এবং বিশ্বব্যাংক ঋণ হিসেবে দেবে ২ হাজার ৭শ’৫ কোটি ৬৫ লাখ ১৮ হাজার টাকা। উইকেয়ার ফেজ ১ এর আওতায় ঝিনাইদহ-যশোর মহাসড়ক (এন-৭) উন্নয়ন প্রকল্পটি সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ/সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তর বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে। চলতি অক্টোবর মাসে প্রকল্পের একটি অফিস নেয়া হয়েছে যশোরের কারবালার বৃষ্টি মহলে। এছাড়া প্রকল্পে পরিচালক ও ম্যানেজার নিয়োগ দেয়া হয়েছে। শুরু হয়েছে মাপজোক। প্রাথমিক নকশা নিয়ে কর্মকর্তাগণ যশোর এলাকায় কাজও শুরু করেছেন।

[৭] গত ১০ ও ১১ অক্টোবর প্রকল্প ব্যবস্থাপক সড়ক ও জনপথ তেঁজগাওয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী নকিবুল বারী যশোরে আসেন। তিনি নকশা অনুযায়ী বিভিন্ন স্পট পরিদর্শন করেন। এ ছাড়া নকশা অনুযায়ী পালবাড়ি এলাকায় সম্ভাব্য বর্গাকৃতির সংযোগ টার্মিনালটি পরিদর্শন করেন। এসময় তিনি পালবাড়ি এলাকার লোকজনের সাথেও কথা বলেন।

[৮] প্রজেক্ট ম্যানেজার নির্বাহী প্রকৌশলী নকিবুল বারী জানিয়েছেন, সরকারের নন্দিত উদ্যোগ এই ওয়েস্টার্ন ইকোনমিক করিডর ফেইজ ১ এর আওতায় ঝিনাইদহ-যশোর মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্পটি (এন-৭)। এর প্রাথমিক কাজ শুরু হয়েছে। সরকারি জমির সর্বোচ্চ ব্যবহার, জমি অধিগ্রহণ প্রস্তুতি, উচ্ছেদ এবং বাধাহীন নির্মাণ কাজ এগিয়ে নিতে পূর্ব কাজগুলো শুরু হয়েছে। সম্প্রতি যশোরে অফিস নেয়া হয়েছে। আশা করা হচ্ছে জুন ২২ সরাসরি নির্মাণে যাওয়া সম্ভব হবে।

[৯] এদিকে, প্রজেক্ট অফিসের দায়িত্ব পালন করা সাব এসিন্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার আবুল কালাম আজাদ জানিয়েছেন, চাঁচড়া থেকে পালবাড়িমুখি বর্তমান সড়কের পূর্ব পাশ ধরেই সড়ক ও জনপথ বিভাগের জমি বেশি আছে। তবে সড়ক ও জনপথ বিভাগ যশোরের কাছ থেকে বর্তমান সড়কটি হ্যান্ডঅভার নিয়ে কাজ শুরু হবে দুই পাশ ধরেই। প্রকল্প অফিসটি গোছানোর কাজ চলছে। দু’ একের মধ্যে ফার্নিচার ও আরো জনবল চলে আসবে। প্রকল্প পরিচালক জাবিদ হাসান স্যার ও প্রকল্প ম্যানেজার নকিবুল বারী স্যারের সার্বিক তত্ত্বাবধানে বিশাল এই গণমুখি প্রজেক্টের কাজ এগুবে।

[১০] এদিকে সড়ক ও জনপথ বিভাগের অপর একটি সূত্র জানিয়েছে, এটি একনেকে পাশ হওয়া প্রকল্প। সরকারের নীতি নির্ধারকরা এর সাথে সরাসরি সংশ্লিষ্ট। ব্যক্তি স্বার্থে নকশা পরিবর্তন করার কোনো সুযোগ নেই। প্রকল্প বাস্তবায়নে ১৫১ দশমিক ৪ হেক্টর ভূমি অধিগ্রহণ লাগতে পারে। ৪৮ দশমিক ৫০ কিলোমিটার পেভমেন্ট নির্মাণ (এসএমভিটি লেনসহ ৬ লেন), ৬৩ দশমিক ৪২ লাখ ঘনমিটার সড়কে মাটির কাজ, ১ হাজার ৬৪৭ দশমিক ২৯ মিটারের একটি ফ্লাইওভার, ১৯৮ দশমিক ১২ মিটারের চারটি ব্রিজ, ৫৫টি ১৯৮ দশমিক ১০ মিটারের কালভার্ট, ১২টি ৪৩৮ দশমিক ৯১২ মিটারের পথচারী ওভারব্রিজ, ১০ মিটারের একটি আন্ডারপাস এই প্রকল্পে রয়েছে।

সর্বাধিক পঠিত