প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] সোনালী ব্যাংকে চলতি বছর ২৩০০ কোটি টাকা মুনাফা আশা করছেন আতাউর রহমান প্রধান

মাসুদ মিয়া : [২] বিশিষ্ট ব্যাংকার আতাউর রহমান প্রধান ৩৭ বছরের ব্যাংকিং ক্যারিয়ারের ৩৪ বছরই কেটেছে সোনালী ব্যাংকে। এর আগে কর্মসংস্থান ব্যাংক ও রূপালী ব্যাংকের এমডির দায়িত্ব পালনের পর তিনি সোনালী ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী (সিইও) ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) দায়িত্ব পালন করছেন। এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলোচনা হয় সোনালী ব্যাংকের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে।

[৩] তিনি বলেন, সোনালী ব্যাংক গ্রহকদের আধুনিক সব সেবা দিচ্ছে। পাশাপশি মোবাইল অ্যাপে মাধ্যমে ঘরে বসেই দুই মিনিটের মধ্যে একাউন্ট খোলা যচ্ছে।

[৪] ব্যাংকটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ মুনাফা করেছে ২০২০ সালে। সেবছর ২ হাজার ১৭০ কোটি টাকা পরিচালন মুনাফা অর্জন করেছে। চলতি ২০২১ সালে ২৩০০ কোটি টাকা হবে আশা ব্যক্ত করেন।

[৫] তিনি বলেন, সোনালী ব্যাংকের এক লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকার ডিপোজিট আছে। আশা করি, এবছরের মধ্যে দেড় লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে। করোনার মধ্যেও আমাদের ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছেন।

[৬] এমডি বলেন বলেন, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় নানা ভাতা বিতরণের পাশাপাশি সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন হয় আমাদের ব্যাংকের মাধ্যমে। জাতীয় অর্থনীতিতে গতি থাকলে বরাবরের মতোই ব্যাংকের মুনাফা হবে। তাই শিল্পখাতকে বাঁচাতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। ব্যাংকের কর্মকর্তাদের উজ্জীবিত করে গ্রাহক সেবার মান বৃদ্ধি করে জাতীয় অর্থনীতি চাঙ্গা রাখা সম্ভব বলে মনে করেন বরেণ্য এই ব্যাংকার।

[৭] তিনি বলেন, ডিজিটাল গ্রাহক সেবা নিশ্চিত করার জন্য ইন্টারনেট ব্যাংকিং সেবার দিকে আমরা জোর দিচ্ছি। পাশাপাশি আমরা এজেন্ট ব্যাংকিং সেবার মান উন্নয়নেও কাজ করে যাচ্ছি। আগামী বছর হবে প্রযুক্তি নির্ভর বছর।

[৮] আতাউর রহমান প্রধান বলেন, দেশের অর্থনীতি পুনরুজ্জীবিত করতে সোনালী ব্যাংকের ১৮ হাজার ৪০৪ কর্মকর্তা কর্মচারীরা নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। সোনালী ব্যাংকে ৩ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। ৩২ জন মারা গেছেন।

[৯] সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতিকে সচল রাখতে প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছেন। এরই অংশ হিসেবে দেশের বিভিন্ন খাতে ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে আর্থিক প্রণোদনা ঘোষণা হয়। প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক ঘোষিত আর্থিক প্রণোদনা টাকার ঋণ দেওয়া হয়েছে। এই ক্রান্তিকালেও সোনালী ব্যাংকের দেশে ১ হাজার ২২৬টি ও দেশের বাইরে আরও ২টি শাখাসহ মোট ১ হাজার ২২৮ শাখার মাধ্যমে ব্যাংকিং সেবা চালু রাখা হয়েছে।

[১০] তিনি আরও বলেন, গত বছর আমরা ২১৭০ কোটি টাকা মুনাফা হয়েছিল। চলতি বছর আমরা আশা করি ২৩০০ কোটি টাকা মুনাফা হবে। মাত্র ১০ টাকা দিয়ে কৃষকের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা হয় সোনালী ব্যাংকেই।

[১১] এমডি বলেন, করোনার মধ্যেও সর্বোচ্চ মুনাফা, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পরিশ্রমের ফল। করোনায় দেশের বিপর্যস্ত অর্থনীতির মধ্যেও ‘ব্যাংক মাতা’ হিসেবে পরিচিত সোনালী ব্যাংক গ্রাহকদের সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করেছেন।

[১২] এই সময়ে কৃষকদের মাঝে বিনা সুদে ঋণ বিতরণ অব্যাহত রাখা, এজেন্ট ব্যাংকিং চালু রাখা, ডেবিট, ক্রেডিট কার্ড চালুসহ আধুনিক সব সেবা চালু করে রাষ্ট্রীয় ব্যাংকটিকে ঢেলে সাজিয়েছেন। পাশাপাশি সেবায় বৈচিত্র্যতা আনতে নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেন।

[১৩] তথ্য অনুযায়ী, করোনার মধ্যেও রাষ্ট্রায়ত্ত্ব ব্যাংকগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ মুনাফা অর্জন করেছে সোনালী ব্যাংক। ২০১৯ সালের তুলনায় ২০২০ সালে ব্যাংকটির মুনাফা বেড়েছে ৪৬৫ কোটি টাকা।

[১৪] সোনালী ব্যাংকের সিইও এন্ড ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. আতাউর রহমান প্রধানের নেতৃত্বে এ অসমান্য অর্জন করেছে দেশের সর্ববৃহৎ এই ব্যাংকটি। আর তাই এক বছর আগে শীর্ষে যাওয়ার যে প্রত্যয় করেছিলেন ব্যাংকিং খাতে দক্ষ ব্যাংকার হিসেবে পরিচিত এই ব্যাংকার তা তিনি অক্ষরে অক্ষরে পালন করলেন।

[১৫] এ সাফল্যকে তিনি সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পরিশ্রমের ফল হিসেবে দেখছেন। ব্যাংকটিকে আরও সামনের দিকে এগিয়ে নেয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন মো. আতাউর রহমান প্রধান বলেন, ইন্টারনেট ব্যাংকিং সেবার দিকে আমরা জোর দিয়েছি। একই সঙ্গে মহামারি করোনা আমাদের অনেকক্ষেত্রে পিছিয়ে দিয়েছে সত্য। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে ব্যতিক্রমও আছে। এ সময়ে তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহারে আমরা পাঁচ বছর এগিয়েছি। করোনার মধ্যেও প্রতি সপ্তাহে বোর্ড (পরিষদ) সভা হয়েছে। যুগান্তকারী ও সময়োপযোগী বিভিন্ন সিদ্ধান্ত পরিষদ সভায় গৃহীত হয়েছে।

[১৬] এমডি বলেন, মহামারী আমাদের পাঁচ বছরের প্ল্যানকে এক বছরে বাস্তবায়ন করতে শিখিয়েছে। করোনার সময় বিকল্প পন্থায় তথ্য প্রযুক্তিকে ব্যবহার করে ঘরে বসে হিসাব খোলার সুযোগ রেখেছি। এতে ১ লাখেরও বেশি হিসাব খোলা হয়েছে।

[১৭] তিনি বলেন, এর মধ্যে গ্রাম-গঞ্জে বেশি হিসাব খোলা হয়েছে। আর এ জন্য বড় অঙ্কের আমানত বেড়েছে। পাশাপাশি আমরা এজেন্ট ব্যাংকিং সেবার মান উন্নয়নেও কাজ করে যাচ্ছি। করোনার সময়ে জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিয়ে দেশের অর্থনীতিকে পুনরুজ্জিবীত করার লক্ষে সরকার ঘোষিত বিভিন্ন আর্থিক প্রণোদনার প্যাকেজ বাস্তবায়নে সোনালী ব্যাংক কাজ করেছে। আগের বছরের তুলনায় গত বছর রেমিট্যান্সও বেড়েছে ।

[১৮] এমডি বলেন, বর্তমানে সোনালী ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ১০ হাজার কোটি টাকা এই টাকা আদায়ে আমারা জোর দিচ্ছি। সম্পাদনা : ভিকটর রোজারিও

সর্বশেষ