প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] ভুয়া অতিরিক্ত সচিব আব্দুল কাদেরের সঙ্গে দেখা করতে লাখ টাকা ফি : ডিবি

মাসুদ আলম : [২] শনিবার সংবাদ সম্মেলনে ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার হাফিজ আক্তার বলেন, গত বৃহস্পতিবার রাজধানীর কাওরান বাজার, মিরপুর এবং গুলশান এলাকায় অভিযান চালিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ভুয়া অতিরিক্ত সচিব আব্দুল কাদের চৌধুরীসহ ৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। অন্যরা হলেন- আব্দুল কাদেরের স্ত্রী শারমিন চৌধুরী ছোঁয়া, শহিদুল আলম ও আনিসুর রহমান।

[৩ ] তিনি আরও বলেন, তাদের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন ও এক রাউন্ড গুলিসহ ১টি ওয়াকি-টকি, একটি নতুন প্রাডো জীপ গাড়ি অতিরিক্ত সচিবের অফিশিয়াল আইডি কার্ড, অতিরিক্ত সচিবের ভিজিটিং কার্ড, তাদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনসমূহ, ওয়ার্ক অর্ডারের কাগজপত্র, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের স্টিকার, লোন দেয়ার কাগজপত্র, আবেদনপত্র ইত্যাদি, চেক বই, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ভিজিটিং কার্ড, প্রতিষ্ঠান ট্রেড লাইসেন্স, টিন ইত্যাদি, বিভিন্ন চুক্তি/ বায়না দলিল (জাহাজ কেনার, ফ্লাট, বাড়ি, জমি ইত্যাদির চুক্তি/ বায়না ইত্যাদি), ড্যাটকো কোম্পানির লিগ্যাল এডভাইজার এর কাগজ, ঋণ দেয়ার/নেয়ার কাগজ, ও চুক্তি পত্র (শমসের বিন মূসার এবং তার স্ত্রীর সহ), ঋণের শর্ত, অ্যাডভান্স ডিপোজিটের শর্তসহ পত্র উদ্ধার করা হয়।

[৪] হাফিজ আক্তার বলেন, এছাড়া বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ছবি, পিছনে বডিগার্ড রাখা, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির সাথে ছবি, টাকার আলমিরা ছবি ইত্যাদি), বঙ্গভবনের ডায়েরি, বিভিন্ন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি/ অফিসের বিভিন্ন বিজ্ঞপ্তি, পত্র-পত্রিকার কাটিং (যেমন সিআইপি পদ পাওয়ার, অতিরিক্ত সচিব হওয়ার ইত্যাদি) ভিজিট ফি রেজিস্টার, বিভিন্ন ব্যাংক স্টেটমেন্ট, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শাহানুরের ভুয়া স্বাক্ষর সম্বলিত ওয়ার্ক অর্ডারের বিলম্ব পত্র, প্রতারণামূলক কার্যক্রমের কিছু মেসেজ /চ্যাটিং এবং অডিও ক্লিপ, ভিন্ন তথ্য সম্বলিত পাসপোর্ট এবং আইডি কার্ড, বিভিন্ন ব্যক্তি এবং প্রতিষ্ঠানের প্রোফাইল এবং দলিলাদি উদ্ধার করা হয়।

[৫] তিনি বলেন আব্দুল কাদের চৌধুরী ঢাকা ট্রেড কর্পোরেশন, জমিদার ট্রেডিং, সামীন এন্টারপ্রাইজ, চৌধুরী গ্রুপ, হিউম্যান ইমপ্রুভমেন্ট ফাউন্ডেশন, সততা প্রোপার্টিজ, ডানা লজিস্টিকস, ডানা মটর্স ইত্যাদি নাম সর্বস্ব কয়েকটি কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করে প্রতারণা কার্যক্রম পরিচালিত করতো। আব্দুল কাদের হিউম্যান ইমপ্রুভমেন্ট ফাউন্ডেশনের ‘একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের’ মাধ্যমে বড় রকমের প্রতারণা শুরু করে । ২০০৪ – ২০০৬ সালে দেশের শত শত মানুষের কাছ থেকে সরকারি অনুদানে বাড়ি এবং খামার তৈরি করার নামে হাতিয়ে নিয়েছে কোটি কোটি টাকা।

[৬] তিনি বলেন, গ্রেফতারকৃত কাদের বিভিন্ন ব্যাংক থেকে বিশকোটি বা তদুর্ধ্ব টাকার লোন পাইয়ে দেয়ার নামে প্রতারণা করে থাকে। এক্ষেত্রে প্রথমেই তার নিয়োগকৃত গ্রেফতারকৃতরাসহ অন্যান্য মার্কেটিং এর লোক বিভিন্ন ঠিকাদার এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে অ্যাডভার্টাইজমেন্ট করতে থাকে। ভুয়া অতিরিক্ত সচিব সেজে সাক্ষাতে প্রার্থীদের নিকট হতে ৫০ হাজার হতে ১ লাখ টাকা ভিজিট ফি নিতো। ব্যাংক হতে ২০ থেকে ২৫ কোটি টাকার লোন পাইয়ে দেয়ার নামে প্রসেসিং ফি বাবদ্য ৫ থেকে ১০% টাকা ডাউনপেমেন্ট হিসেবে নিতো। সে অন্যান্যদের মধ্যে বিশ্বাস জন্মানোর জন্য বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পরিচালিত এবং বিভিন্ন সরকারি প্রজেক্ট এর শত শত কোটি টাকার ঠিকাদারি পেয়েছেন বলে ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে। এ ভুয়া ওয়ার্ক অর্ডারসমূহ বিভিন্ন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাছে বিক্রি করে থাকে। তাদের কাছ থেকে বড় অঙ্কের টাকা জামানত রেখে প্রতারণা করতো।

[৭] ডিবি প্রধান বলেন, এছাড়া সে বিভিন্ন সরকারি ব্যাংকে লোক নিয়োগ দেয়ার নামে প্রতারণার মাধ্যমে বিপুল টাকা হাতিয়ে নেয়। গ্রেফতারকৃতরা সততা প্রপার্টিজের নামে নামমাত্র কিছু টাকা বায়নার মাধ্যমে জমি এবং স্থাপনা ক্রয় করার জন্য চুক্তি সম্পাদন করে, যেগুলো দিয়ে পরবর্তীতে মানুষকে নানাভাবে হয়রানি করে টাকা আদায় করে থাকে। এই প্রতারণার কাজগুলো করার জন্য অশিক্ষিত কাদের নিজেকে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় দায়িত্ব পালন শেষে সর্বশেষ অতিরিক্ত সচিব জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় হিসেবে পরিচয় দিতো।

[৮] তিনি আরও বলেন, আব্দুল কাদের নিজেকে কথিত ধনকুবের প্রিন্স মুসা বিন শমসেরের প্রতিষ্ঠান ড্যাটকো এর লিগ্যাল অ্যাডভাইজার হিসেবে পরিচয় দিতো। সে প্রিন্স মুসা বিন শমসেরের নগদ অর্থ এবং বিভিন্ন স্থাপনার কাস্টোডিয়ান হিসাবে টাকা পয়সা কোন ব্যাপার না বলে জাহির করে চাকরিপ্রার্থী, ব্যবসায়ী ও ঠিকাদারকে প্রতারিত করতো।

[৯] তিনি বলেন, আব্দুল কাদের তার দালাল ও মিডিয়া ম্যান-এর মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যক্তি এবং প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগাযোগ করে প্রলুব্ধ করে বড় অঙ্কের ঋণ প্রদান এবং ওয়ার্ক অর্ডার, সাব-কন্ট্রাক্ট, ঠিকাদারি কাজ পাইয়ে দেয়ার প্রসেসিং করতো। তাদেরকে আকৃষ্ট করার জন্য সে ভুয়া অতিরিক্ত সচিবের পরিচয়, ভুয়া সিআইপি, দামি দামি গাড়ি, বডিগার্ড, ওয়্যারলেস সেট ইত্যাদি ব্যবহার করত। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, সেনাবাহিনীর কাছ থেকে প্রাপ্ত ভুয়া কার্যাদেশ, শমসের বিন মুসার সাথে তার ছবি এবং বিভিন্ন লেনদেনের ভুয়া কাগজপত্র ব্যাবহার করতো। ৩৩ জন সচিবসহ বিভিন্ন উচ্চপর্যায়ের ব্যক্তির সাথে তার কনসোর্টিয়াম , ব্যবসা আছে ইত্যাদি প্রচার করতো।

 

 

সর্বাধিক পঠিত