প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] স্বরূপে ফিরছে ইবির আবাসিক হল

মুরতুজা হাসান: [২] শিক্ষার্থী ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলো যেন প্রাণহীন প্রাণীর মতো। করোনার ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে গত বছরের মার্চ থেকে বন্ধ রয়েছে দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়, সেই সাথে বন্ধ ছিল আবাসিক হলগুলোও। এতে করে শিক্ষার্থী শূন্য হয়ে পড়ে আবাসিক হলসমূহ। দীর্ঘ ১৮ মাস ২৩ দিন পর খুলছে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সর্ববৃহৎ বিদ্যাপীঠ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) আবাসিক হল। প্রায় ৮১ সপ্তাহ পর হলের রুম গুলোতে শিক্ষার্থীদের পদচারণায় প্রাণচঞ্চল হয়ে উঠছে। আনন্দ-উচ্ছ্বাসে প্রাণ ফিরে পাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের হল গুলো।

[৩] শনিবার (৯ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টা থেকে কম পক্ষে এক ডোজ সম্পন্নকারী আবাসিক শিক্ষার্থীদের টিকা কার্ড দেখে হলে প্রবেশ করানো হচ্ছে। এসময় বিভিন্ন হলের আবাসিক শিক্ষার্থীদেরকে হ্যান্ড স্যানিটাইজার, বিস্কুট, মাস্ক, ফুল ও চকলেট দিয়ে বরণ করতে দেখা গেছে হল কর্তৃপক্ষ কে। তাপমাত্রা মেপে শিক্ষার্থীদেরকে হলে প্রবেশ করানো হচ্ছে। হল প্রশাসনের এমন আতিথেয়তায় মুগ্ধ আবাসিক শিক্ষার্থীরা। দীর্ঘ প্রতিক্ষার পরে হলের উঠার অনুভূতি সম্পর্কে জানতে চাইলে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের আবাসিক শিক্ষার্থী মোঃ সোহেল বলেন, দীর্ঘদিন পর হলে প্রবেশ করতে পেরে ভীষণ আনন্দ বোধ করছি। সেই সাথে হল প্রশাসনের এতো সুন্দর আয়োজনে মুগ্ধ আমরা, মনে হচ্ছিল নবীন বরণ চলছে। সর্বোপরি প্রিয় ইবি ক্যাম্পাসটি পূর্বের ন্যায় প্রাণ ফিরে পাক সেই প্রত্যাশা করছি।

[৪] এদিকে বিপাকে পড়েছেন গণরুমের শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আপাতত তাদেরকে হলে থাকতে দেওয়া হচ্ছে না। শুধুমাত্র প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র বের করার ক্ষেত্রে হলে প্রবেশ করতে পারবেন তারা। প্রশাসনের এমন সিদ্ধান্তে গণরুমের শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

[৫] ক্যাম্পাস সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় ১৬ হাজার শিক্ষার্থী রয়েছেন এর মধ্যে আবাসন সুবিধা পাচ্ছেন মাত্র ২৩ শতাংশ শিক্ষার্থী। হলগুলোতে আসন সংকটের কারণে প্রায় ১ হাজার শিক্ষার্থী গণরুমে অবস্থান করেন। তারা হল কর্তৃপক্ষের অনুমতি ও সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে গণরুমে ফ্লোরিং, ডাবিং করে অবস্থান করেন। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের কারণে তারা আজ থেকে হলে উঠতে পারছেন না।

[৬] এর আগে গত (০৪ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ আব্দুস সালামের সভাপতিত্বে সিন্ডিকেটের এক জরুরি সভায় ৯ অক্টোবর হল এবং ২০ অক্টোবর থেকে সশরীরে ক্লাস নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এছাড়া গত ৫ অক্টোবর থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের পরীক্ষার্থীদের জন্য অফিস চলাকালীন সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরী চালু করে দেওয়া হয়েছে।

[৭] বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভোস্ট কাউন্সিলের সভাপতি অধ্যাপক ড. রেবা মণ্ডল বলেন, দীর্ঘ আঠারো মাস পর ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত মোতাবেক আজ আমরা হল খুলতে পেরেছি। এজন্য আমরা খুবই আনন্দিত। একডোজ টিকা ও শুধু মাত্র আবাসিক শিক্ষার্থীদের হলে উঠার জন্য অনুমতি রয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি ও শরীরের তাপমাত্রা মেপে আমরা শিক্ষার্থীদের হলে তুলছি। হল খোলার প্রস্তুতি হিসেবে হল কতৃপক্ষ থেকে রুম পরিস্কার পরিচ্ছন্ন সহ সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের সুবিধার জন্য আমাদের হল কতৃপক্ষের সব ধরণের ব্যবস্থা রয়েছে।

[৮] গণরুম খোলার ব্যাপারে রেবা মন্ডল বলেন, আমরা আপাতত গণরুম বন্ধ রেখেছি। গণরুমের শিক্ষার্থীরা তাদের প্রয়োজনীয় জিনিস পত্র রুম থেকে নিতে পারবে কিন্তু রুমে থাকতে পারবে না। কিছুদিন পর আমরা পরিস্থিতি বিবেচনা করে সর্বসম্মতিক্রমে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবো।

[৯] উল্লেখ্য, করোনা ভাইরাসের ভয়াল থাবায় গত বছরের ১৭ মার্চ থেকে বন্ধ আছে দেশের সকল প্রকার বিশ্ববিদ্যালয় এবং সেই সাথে বন্ধ রয়েছে হলগুলোও। সম্প্রতি করোনাভাইরাসের সংক্রমণ কমে যাওয়ায় এবং শিক্ষার্থীদের টিকা গ্রহণ কার্যক্রম ৯০ শতাংশের বেশি সম্পন্ন হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় ও আবাসিক হল সমূহ খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

সর্বাধিক পঠিত