প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] পাহাড়ে ৪২ কি.মি. রেলপথ নিমার্ণে ব্যয় হবে প্রায় ৯ হাজার কোটি টাকা

রিয়াজুর রহমান: [২] চট্টগ্রামের রাউজান থেকে রাঙ্গুনিয়া হয়ে কাপ্তাই পর্যন্ত ৪২ কিলোমিটার রেলপথের জন্য ৮ হাজার ৯২৬ কোটি টাকা ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। ২০২৬ সালের মধ্যেই প্রকল্পের কাজ শেষ করতে চায় রেল কর্তৃপক্ষ।

[৩] এরমধ্যে ৭ হাজার ১৪১ কোটি টাকার বৈদেশিক ঋণ সংস্থানের জন্য রেলওয়ের অনুরোধে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) বিশ্বব্যাংক, এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এডিবি), জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সির (জাইকা) মতো একাধিক বৈশ্বিক ঋণদাতার সঙ্গে আলোচনা করছে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে।

[৪] রাঙামাটির কাপ্তাইকে রেল পথের সঙ্গে সংযুক্তকরণে ৪২ কিলোমিটার রেলপথ স্থাপনে ইতোমধ্যেই কাজ শুরু করেছে রেলওয়ে। এ প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হলে পার্বত্য চট্টগ্রামের অন্যতম বৃহৎ জেলা রাঙামাটি সারাদেশের রেল লাইনের সঙ্গে সংযুক্ত হবে।

[৫] আর অর্থায়ন নিশ্চিত হলে আগামী ২০২৬ সালের মধ্যেই এই প্রকল্পের কাজ শেষ করতে চায় রেল কর্তৃপক্ষ। বর্তমান সরকারের আমলে এই উদ্যোগ সফলভাবে সম্পন্ন করা গেলে এটি পাহাড়ের সার্বিক জীবনমানে আমূল পরিবর্তন আনার পাশাপাশি পর্যটন খাতেও ব্যাপক পরিবর্তন ঘটিয়ে নতুন বিনিয়োগের সমূহ সম্ভাবনার দ্বার উম্মোচিত হবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

[৬] সম্প্রতি রেলপথ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও চট্টগ্রাম-৬ আসনের সংসদ সদস্য এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডের কুমিরায় আন্তর্জাতিক ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামের (আইআইইউসি) পাশে শাটল ট্রেন সার্ভিসের নতুন স্টেশন ভবন নির্মাণকাজ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রেলপথের সাথে রাঙামাটিকে সংযুক্ত করার ঘোষনা দেন।

[৭] কাপ্তাইসহ রাঙামাটির দুর্গম পাহাড়ি এলাকার উৎপাদিত পণ্য সহজে চট্টগ্রামসহ সারাদেশে বাজারজাতকরণ এবং পাহাড়ে আগত পর্যটকদের জন্য জনপ্রিয় রেল ভ্রমণ সুবিধা নিশ্চিত করতে চট্টগ্রাম থেকে কাপ্তাই পর্যন্ত রেল যোগাযোগ স্থাপনের এই পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন এমপি ফজলে করিম চৌধুরী।

[৮] তিনি জানান, রাঙামাটির পরপরই পার্বত্য অন্য দুই জেলা খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানকেও ট্রেন যোগাযোগের সঙ্গে সংযুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ের।

[৯] এছাড়া রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, রেল মন্ত্রণালয়ের মহাপরিকল্পনার একটি অনুষজ্ঞ হচ্ছে পাহাড়ি অঞ্চলে রেল যাতায়াত সুবিধা পৌঁছে দেওয়া। “এজন্য ‘জানালীহাট-চুয়েট-কাপ্তাই ডুয়েল গেজ সংযোগ রেললাইন নির্মাণ’ শীর্ষক একটি প্রকল্পে হাত দিয়েছি। ইতোমধ্যে এটির প্রাথমিক বিস্তারিত প্রকল্প প্রস্তাব পিডিপিপি তৈরি করা হয়েছে।

[১০] ২০১৮-২০১৯ সালে প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা সমীক্ষা শেষ হয়েছে এবং ডাবলগেজ রেল ট্র্যাকের একটি পরিকল্পনা নকশাও প্রস্তুত করা হয়েছে। এতে নয়টি স্টেশন থাকবে।

[১১] রেলওয়ের ৩০ বছর মেয়াদি মাস্টারপ্ল্যান (২০১৬-২০৪৫) এর মধ্যে রয়েছে ২০২২ সালের মধ্যে কাপ্তাই পর্যন্ত রেলপথ স্থাপন করা। রেলওয়ে চলতি বছর প্রকল্পটির কাজ শুরু করে ২০২৬ সালের মধ্যে সম্পন্ন করার পরিকল্পনাও রয়েছে। সম্পাদনা: হ্যাপি

সর্বাধিক পঠিত