প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] এসপিসি ওয়ার্ল্ড এক্সপ্রেসের সিইও ও এমডি এবং নিরাপদ শপের পরিচালকসহ গ্রেপ্তার ৩

সুজন কৈরী: [২] ই- কমার্সের নামে এমএলএম পরিচালনাকারী এসপিসি ওয়ার্ল্ড এক্সপ্রেসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আল আমিন প্রধান এবং ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান নিরাপদ শপের পরিচালকসগহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ফিন্যান্সিয়াল অর্গানাইজড ক্রাইম ইউনিট।

[৩] সিআইডির অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) মো. আজাদ রহমান রোববার সন্ধ্যায় বলেন, এ বিষয়ে আগামীকাল সোমবার দুপুর ১২টায় সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত জানানো হবে।

[৪] সিআইডি সূত্র জানায়, ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান দাবি করলেও এসপিসি মূলত ডেসটিনির মতো একটি বহু স্তরভিত্তিক বিপণন ব্যবসা (মাল্টি লেভেল মার্কেটিং- এমএলএম) প্রতিষ্ঠান। রিং আইডির মতো তারা ব্যবসা করছিলো।

[৫] এসপিসি ওয়ার্ল্ড এক্সপ্রেসের বিরুদ্ধে অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে গ্রাহকের জমানো টাকা দিচ্ছে না প্রতিষ্ঠানটি। ভুক্তভোগী গ্রাহকরা জানান, বিভিন্ন উপায়ে এসপিসির মাধ্যমে আয় করা টাকাগুলো তাদের ওয়ালেটে জমা রয়েছে। তারা কোনোভাবেই এ টাকা ক্যাশ আউট করতে পারছেন না। গত তিন-চার মাস ধরে তাদের সব গ্রাহকের একই অবস্থা। প্রতিষ্ঠানটির সিইও ও এমডিসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে রাজধানীর কলাবাগান, বনানী ও যশোরে মামলা রয়েছে।
আল আমিন প্রধান আগে ডেসটিনিতে কাজ করতেন। ডেসটিনি ২০০০ লিমিটেডের টিম লিডার ও প্রশিক্ষক ছিলেন। ডেসটিনির আইডিয়া ও সেখানে কাজের অভিজ্ঞতা নিয়েই চালু করেন এসপিসি ওয়ার্ল্ড এক্সপ্রেস। এই প্রতিষ্ঠানটি রিং আইডির মতো কমিউনিটি জবস মেম্বারশিপ চালু করে। মেম্বারশিপের মাধ্যমে এখানে বিনিয়োগ করে টাকা আয়ের সুযোগ দেওয়া হয়। এজন্য বর্তমানে দুটি প্যাকেজ অফার রয়েছে।

[৬] ই-কমার্সের নামে এমএলএম ব্যবসা ও প্রতারণার অভিযোগে ২০২০ সালে আল আমিনসহ প্রতিষ্ঠানটির ছয়জনকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। ওই সময় জানানো হয়, এসপিসি ২২ লাখ গ্রাহকের কাছ থেকে ২৬৮ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। তবে গ্রেপ্তারের দুই মাসের মধ্যেই জামিনে বের হন আল আমিন। আবারও নতুন উদ্যমে শুরু করেন ব্যবসা।

[৭] সিআইডি সূত্র জানায়, এসপিসি অনুমোদনহীন এমএলএম ব্যবসা পরিচালনা করে এক কোটি ১৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেছে। এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে একটি মামলাও করেছে সিআইডি। তবে তদন্ত এখনও চলমান। আত্মসাতের টাকার অঙ্ক আরও বড় হতে পারে। কারণ, তাদের ব্যাংক লেনদেনের পরিমাণ অনেক বেশি। অর্থ আত্মসাতের মামলায় বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠানটির এমডি আল আমিন গ্রাহকের ৮২ লাখ ৫০ হাজার টাকা দিয়ে নিজের নামে তিনটি প্রাইভেট কার কিনেছেন। এছাড়া সিটি ব্যাংকের একটি হিসাব থেকে গ্রাহকের ৩৫ লাখ টাকা তার স্ত্রী সারমীন আক্তারের অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করেছেন।

[৮] এদিকে ইলেক্ট্রনিক পণ্য বিক্রির অনলাইন প্রতিষ্ঠান নিরাপদ শপের পরিচালককেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই প্রতিষ্ঠান গ্রাহকদের টিভি, মাইক্রোওয়েভ ওভেন ও ফ্রাইপেন বিক্রি কথা বলে টাকা নিলেও প্রোডাক্ট দেয়নি। দীর্ঘদিন ধরে গ্রাহকরা প্রতিষ্ঠানে ধরনা দিয়ে ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগযোগ করেও অর্ডার করা পণ্য পানিন।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত