প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] শেয়ার বাজার চাঙ্গা থাকলেও ১১ বছরে সুদিন ফেরেনি মিউচ্যুয়াল ফান্ডের দর

মাসুদ মিয়া: [২] দেশের শেয়ারবাজার গত একবছর ধরে চাঙ্গাভাব থাকলেও মিউচ্যুয়াল ফান্ডগুলোর সুদিন ফেরেনি। দীর্ঘদিন ধরে ঝিমিয়ে রয়েছে মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিটির দর। গত এক বছরে অন্য খাতগুলোতে কিছুটা স্বস্তি ফিরে এলেও দীর্ঘ ১১ বছরেও সুদিন ফেরেনি মিউচ্যুয়াল ফান্ডে বরং দিন দিন এই খাতের অবস্থা আরও করুণ হচ্ছে। গত সপ্তাহ ৫ কার্যদিবস লেনদেন হয়েছে। ২ কার্যদিবসই শেয়ারবাজারে রেকর্ড হয়েছে। গত ১০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভালো অবস্থানে রয়েছে মনে করেন, বাজার সংশ্লিষ্টরা। চাঙ্গা শেয়ারবাজারে দুর্বল কোম্পানির শেয়ার দাম অস্বাভাবিক বাড়লেও ভালো লভ্যাংশ দেওয়া মিউচ্যুয়াল ফান্ডের অধিকাংশ ইউনিটির দাম ফেসভেলুর নিচে রয়েছে। মিউচ্যুয়াল ফান্ড খাতের ৩৭ ইউনিটের মধ্যে ২৫টি ফেসভেলুর নিচে রয়েছে। দুর্বল কোম্পানির শেয়ার দাম অস্বাভাবিক বাড়লেও ভালো লভ্যাংশ দেওয়ার পরও অনেক প্রতিষ্ঠানের দাম তলানিতে। এমনকি ১২ শতাংশ লভ্যাংশ দেয়া প্রতিষ্ঠানের দাম পড়ে রয়েছে ১০ টাকার নিচে। এর মধ্যে সবচেয়ে তলানিতে মিউচ্যুয়াল ফান্ডের দাম।

[৩] বিনিয়োগকারীদের ১২ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দেওয়া গ্রীণ ডেল্টা মিউচ্যুয়াল ফান্ডের দাম দাঁড়িয়েছে ৭ টাকা ৯০ পয়সায়। ১২ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দেওয়া আর এক মিউচ্যুয়াল ফান্ড ডিবিএইচ ফার্স্ট’র দাম দাঁড়িয়েছে ৮ টাকা। একইভাবে ১৩ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দেওয়া ফার্স্ট জনতা মিউচ্যুয়ার ফান্ডের দাম পড়ে রয়েছে ৭ টাকা ৮০ পয়সায়। ১৩ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দেওয়া আরেক মিউচ্যুয়াল ফান্ড ইবিএল ফার্স্টের দাম পড়ে আছে ৭ টাকা ৯০ পয়সায়। ৯ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দেওয়া ট্রাস্ট ব্যাংক ফার্স্ট মিউচ্যুয়ার ফান্ডের দাম ৬ টাকা ৩০ পয়সা।

[৪] এদিকে বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, একদিকে দুর্বল কোম্পানির শেয়ার দাম অস্বাভাবিক বাড়া, অন্যদিকে ভালো লভ্যাংশ দেওয়া প্রতিষ্ঠানের দাম তলানিতে পড়ে থাকাকে অস্বাভাবিক বলছেন।

[৫] তাদের অভিমত, সম্প্রতি কিছু দুর্বল শেয়ারের দাম অস্বাভাবিক বাড়লেও সার্বিক শেয়ারবাজার এখন বিনিয়োগের জন্য যথেষ্ট উপযোগী। তাই বিনিয়োগকারীদের অধিক মুনাফার লোভ পরিত্যাগ করে ভালো কোম্পানিতে বিনিয়োগ করা উচিত। এক্ষেত্রে ভালো কোম্পানির শেয়ার দাম কমে গেলেও চিন্তার কিছু নেই। কারণ বছর শেষে ভালো কোম্পানি থেকে ভালো লভ্যাংশ পাওয়া যাবে।

[৬] এ বিষয়ে বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মোহাম্মদ রেজাউল করিম বলেন, মিউচ্যুয়াল ফান্ডের প্রতি বিনিয়োগকারীদের এখনো কনফিডেন্সের জায়গা তৈরি হয় নাই। মিউচ্যয়াল ফান্ড এই বছর ভালো লাভ্যাংশ দিয়েছে আগামীতে ধারাবাহিকতায় থাকলে মিউচ্যুাল ফান্ডের প্রতি বিনিয়োগকারীরা অকৃষ্ট হবে তখন দাম বাড়বে। তিনি আরও বলেন, দুর্বল কোম্পানির শেয়ার দাম সম্প্রতি বেড়েছে আমরা সেগুলোকে নজরদারিতে রেখেছি। কোনো ধরনের কারসাজি থাকলে আমরা তদন্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবো। তবে কেউ যদি কোনো শেয়ার কেনেন আমরা সেখানে হস্তক্ষেপ করতে পারি না

[৭] অন্যদিকে বিনিয়োগকারীরা জানান, মূলত বাজারভালো থাকলেও মিউচ্যুয়াল ফান্ডগুলো ঘুরে দাঁড়াতে পারছে না। যে কারণে পুঁজি ফেরৎ পেতে তাদের বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এবিষয়ে বিনিয়োগকারী আব্দুল রাজ্জাক বলেন, চাঙ্গা বাজারে মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ইউনিটির দাম না বাড়ায় হতাশাজনক। ৩৭টির মধ্যে এখনো ২৫টি ইউনিটির দর ফেসভেলুর নিচে রয়েছে। গত একবছরে আমরা সাধারন বিনিয়োগকারীরা দেখলাম মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ঘোষিত লভ্যাংশ অনেক আকর্ষণীয় তার পরও দাম বাড়ছে না। এটা সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য হতাশায়।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত