শিরোনাম
◈ ফাঁসির দণ্ডাদেশ থেকে খালাস পেয়ে সংসদের পথে বাবর, পিন্টু ও আজহারুল ইসলাম ◈ ‌‌টি-‌টো‌য়ে‌ন্টি বিশ্বকা‌পে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ হওয়া নিয়ে শঙ্কা! ◈ গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জিতে যাওয়ায় যেসব পরিবর্তন আসতে পারে ◈ কতটা ক্ষমতাধর একজন এমপি, তিনি কী কী কাজ করেন? ◈ অনেকেই ধারণা করছেন নির্বাচন শেষ হলে আমি যুক্তরাজ্যে ফিরে যাব: তাসনিম জারা ◈ অর্থনীতি সচল করাই আগামী সরকারের প্রধান চ্যালেঞ্জ: ফখরুল ইসলাম ◈ গণতান্ত্রিক অধিকারের জন্য বিএনপি সব সময় লড়াই করেছে তারই বহিঃপ্রকাশ এই বিজয়: মির্জা ফখরুল ◈ মন্ত্রিসভা নিয়ে যা বললেন সালাহউদ্দিন ◈ ভোটে জিতেই আওয়ামী লীগের অফিস খুলে দিলেন বিএনপি নেতা (ভিডিও) ◈ নারী লিগে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন ঋতুপর্ণাদের রাজশাহী স্টারস

প্রকাশিত : ০২ অক্টোবর, ২০২১, ০৩:৪১ দুপুর
আপডেট : ০২ অক্টোবর, ২০২১, ০৩:৪১ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

কাশফুলের হাসিতে ভূরুঙ্গামারীর কৃষকের মুখে হাসি

মো.হামিদুল ইসলাম : কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীর দুধকুমার নদের দুই তীর আর চরাঞ্চল সাদা কাশফুলে ছেয়ে গেছে। প্রাকৃতিক ভাবে গড়ে ওঠা কাশবনে ফোটা কাশফুল শরতের আগমনে শুভ্রতা ছড়াচ্ছে। নদী ভাঙনের শিকার কৃষকরা কাশ বিক্রি করে অভাব মোচনের স্বপ্ন দেখছেন। এছাড়া কাশবনগুলো দর্শণীয় স্থানে পরিণত হয়েছে। সৌন্দর্য পিপাসুরা প্রতিদিন কাশবনগুলোতে ভিড় করছেন।

কাশফুলের ইংরেজি নাম ক্যাটকিন। বৈজ্ঞানিক নাম স্যাক্কারাম এস্পন্টেনিয়াম। কাশ এক ধরণের ঘাস যা সাত থেকে আট ফুট লম্বা হয়ে থাকে। কাশফুল দুই ফুটের মতো লম্বা হয়। কাশবন এবং কাশফুল শুধু সৌন্দর্য পিপাসুদের মনই ভরায় না। গৃহস্থালির নানান কাজে ব্যবহার হয় কাশ।

ভূরুঙ্গামারী মহিলা কলেজের জীব বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আমিনুর রহমান প্রামাণিক জানান, ‘কাশ দিয়ে গ্রামের মানুষ ঘরের ছাউনি ও বেড়া তৈরি করেন। কচি কাশ গো-খাদ্য হিসেবে ব্যবহার হয়। কাশ দিয়ে বানানো ঝাড়ু প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই চোখে পড়ে। এছাড়া পানের বরজের ছাউনি ও বেড়া দিতে কাশের প্রয়োজন পড়ে। বাজারে কাশের ব্যাপক চাহিদা থাকায় দামও বেশ ভালো।’

ভূরুঙ্গামারীর কামাত আঙ্গারীয়া গ্রামের কৃষক আতাউর রহমান জানান, ‘কাশিয়া (স্থানীয়দের ভাষায় কাশের আঞ্চলিক নাম) নদী ভাঙনের শিকার কৃষকদের অভাব অনটন দুর করতে সাহায্য করে। বিনা খরচে এক বিঘা জমিতে যে কাশিয়া হয় তা ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকা বিক্রি করা যায়। কার্তিক মাসে যখন তেমন কাজকর্ম থাকেনা অভাব দেখা দেয় তখন কাশিয়া বিক্রির টাকায় সংসার খরচ চলে। কাশিয়া কিনতে রাজশাহী ও কুষ্টিয়া থেকে পাইকার আসে।’

কাশবনে ঘুরতে আসা নাসির রহমান ও শাহনাজ বেগম জানান, ‘কাশবনের উপর যখন বৃষ্টি পড়ে তখন শৈশবে পড়া ফররুখ আহমেদে লেখা কবিতার লাইন ‘বৃষ্টি এলো কাশবনে জাগলো সাড়া ঘাস বনে' মনে পড়ে যায়। এলোমেলো বাতাসে কাশফুল যখন দোল খায় তখন এক মনোমুগ্ধকর দৃশ্যের সৃষ্টি হয়। গোধূলি বেলায় ফিঙ্গে পাখির দল খাবারের সন্ধানে কাশবনের উপর ডানে মেলে ঘুরে বেড়ায়। সন্ধ্যায় কাশবন থেকে ভেসে আসে শিয়ালের হুক্কাহুয়া ডাক।’

ভূরুঙ্গামারী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান জানান, ‘দুধকুমার নদের দুই তীর ও চরাঞ্চলের বিস্তৃর্ন জমিতে কাশ জন্মে। প্রতিবছর নদী ভাঙনের এসব কাশবনের অধিকাংশ বিলীন হয়ে যায়, আবার নতুন নতুন কাশবনের সৃষ্টি হয়। তাই উপজেলার কি পরিমান জমিতে কাশ জন্মে তা নিরূপণ করা অত্যন্ত কঠিন।’

 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়