প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

নুরুলের ৪৬০ কোটি টাকা আয়ের উৎস প্রকাশ্যে আসছে

নিউজ ডেস্ক : টেকনাফ স্থলবন্দরের কাস্টম কার্যালয়ের সাবেক কম্পিউটার অপারেটর নুরুল ইসলাম চুক্তিভিত্তিক দৈনিক ১৩০ টাকা বেতনের চাকরি করলেও ৪৬০ কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। নুরুলের ৪৬০ কোটি টাকার মালিক হওয়ার তথ্য প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছে।

মিয়ানমারে আমদানি ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আঁতাত করে পণ্য মিস ডিক্লারেশন থেকে দৈনিক ৪০ লাখ টাকা ইনকাম ছিল নুরুলের। এই টাকার ভাগ কমবেশি সবার কাছে পৌঁছে। এছাড়া স্থলবন্দর দিয়ে স্বর্ণ চোরাচালান হলেও সেটিরও ভাগ নিতো নুরুল। আরটিভি

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, টেকনাফ স্থলবন্দরের সিন্ডিকেটের আরও কয়েকজন সদস্যকে গ্রেপ্তার করলে অনেক তথ্য প্রকাশে আসবে। নতুন করে সিন্ডিকেটের স্বর্ণ চোরাচালানে জড়িতদের কিছু তথ্য পাওয়া গেছে।

এ বিষয়ে র্যা বের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেছিলেন, আমরা এখনও নুরুল ইসলামের সিন্ডিকেটটি নজরদারিতে রেখেছি। খতিয়ে দেখা হচ্ছে অবৈধ উপার্জনের মাধ্যমগুলো।

নুরুল ইসলামের ১১টি খাতের মধ্যে মিয়ানমারে বিভিন্ন কসমেটিকস, সুপারি, স্যান্ডেল, নুডুলস ও কফিকে মিস ডিক্লারেশন দেখিয়ে দৈনিক ৪০ লাখ টাকা আয় করেছিল। রপ্তানিতে ব্যবসায়ীদের অনৈতিক সুবিধা দিয়ে ট্রলারপ্রতি ৩০ হাজার টাকা করে হাতিয়ে নিতেন তিনি। ফরমালিন টেস্ট ছয় হাজার টাকা, ডাক্তারির টেস্টে এক হাজার, মেটাল টেস্ট চালান এক হাজার হাতিয়ে নের অন্য কর্মকর্তারা।

পণ্য মিস ডিক্লারেশন বিষয়ে এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘ধরুন প্রতি কেজি একটি পণ্য ভ্যাট ১শ’ টাকা আসছে। সেটি তিনি ১০ টাকা দেখাতেন। এখান থেকে প্রতিদিন হাজার হাজার টন পণ্য আমদানি-রপ্তানি হচ্ছে। সেই অনুসারে তার দৈনিক আয় ছিল ৪০ লাখের বেশি।

নুরুল ইসলামের অঢেল সম্পদ

ঢাকা উদ্যান, আমিনবাজার, মোহাম্মদপুরে ছয়টি বাড়ি ও ১৩টি প্লট রয়েছে নুরুল ইসলামের। এছাড়াও সাভার, টেকনাফ, সেন্টমার্টিন, ভোলাসহ বিভিন্ন জায়গায় নামে-বেনামে ৩৭টি বাড়ি, খোলা জায়গা-প্লট ও বাগানবাড়ি রয়েছে নুরুল ইসলাম দম্পতির।

নুরুলের স্ত্রী রাজিয়া গৃহিণী হলেও তার রয়েছে ৩০০ কোটি টাকার বেশি সম্পদ। ঢাকায় রাজিয়ার নামে রয়েছে একাধিক অট্টালিকা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। দেশের বিভিন্ন জায়গায়ও জমি কিনেছেন তিনি। নুরুল-রাজিয়া দম্পতি কোটি কোটি টাকার মালিক হলেও সম্পদ বিবরণীতে এর অধিকাংশই গোপন করেছেন। এদিকে রাজিয়ার বাবা টেকনাফে একসময় মাত্র ৪ শতাংশ জমির মালিক ছিলেন।

সূত্রমতে, এ দম্পতির সম্পদ বিবরণীতে মাত্র পাঁচ কোটি ৯৪ লাখ ৩৪ হাজার ৯৬০ টাকার হিসাব দেখানো হয়েছে। ৪৫৪ কোটি টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন তারা। তবে অবৈধ পথে আয় করা কোটি কোটি টাকার সম্পদকে ‘হালাল’ করতে এমএস আল নাহিয়ান এন্টারপ্রাইজ, এমএস মিফতাউল এন্টারপ্রাইজ, এমএস আলকা এন্টারপ্রাইজ, আলকা রিয়েল এস্টেট লিমিটেড, এমএস কানিজ এন্টারপ্রাইজ ইত্যাদি নামে প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন তিনি।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত