প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] মাঠ রক্ষার দাবিতে জবি শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন ও রাস্তা অবরোধ

অপূর্ব চৌধুরী: [২] পুরান ঢাকার ধূপখোলায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) কেন্দ্রীয় মাঠ বেদখল ও খোঁড়াখুঁড়ির প্রতিবাদে ক্যাম্পাসে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে শিক্ষার্থীরা। বৃহস্পতিবার সকাল ১১ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনারের সামনে আয়োজিত মানববন্ধন শেষে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে পুরো ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে শিক্ষার্থীরা।

[৩] মিছিল শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনের রাস্তা অবরোধ করে শিক্ষার্থীরা। এসময় তারা তাদের অভিযোগ তুলে ধরেন এবং মাঠ রক্ষার দাবিতে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন। তবে সেসময় পুলিশ এসে শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনে বাধা দেয়। এক পর্যায়ে পুলিশের সাথে শিক্ষার্থীদের বাকবিতন্ডা শুরু হয়। পরবর্তীতে শিক্ষার্থীরা রাস্তা থেকে সরে আসতে বাধ্য হয়।

[৪] সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফন্ট জবি শাখার সহ -সভাপতি সুমাইয়া সোমা বলেন, আমাদের হলগুলো সব হাজী সেলিমের মতো দখলদাররা দখল করে নিয়েছে। এমনিভাবে আমাদের খেলার মাঠও সিটি করপোরেশন দখল করে নিচ্ছে। জগন্নাথের ইতিহাসের যা কিছু আছে সবকিছু দখল করে নিচ্ছে মনে হয়। ডিএসসিসি যদি এই মাঠের দিকে হাত দেয় তাহলে আমরা তা গুড়িয়ে দিবো শিক্ষার্থীদের নিয়ে। প্রশাসন যদি এই দাবি না মানে তাহলে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় হল আন্দোলনের মতো আরেকটি বড় আন্দোলন দেখবে।

[৫] বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের ১৩তম ব্যাচের শিক্ষার্থী গাজী মুহাম্মদ শামসুল হুদা বলেন, এই ধূপখোলা মাঠের সাথে আমাদের অনেক স্মৃতি জড়িয়ে আছে। সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের প্রাণের স্পন্দন এই মাঠ। আমরা প্রয়েজনে সব বাঁধা ঠেলে আমাদের সম্পদকে রক্ষা করবো।

[৬] মাঠ রক্ষা আন্দোলনের আহ্বায়ক আসাদুজ্জামান বলেন, আমাদের এই আন্দোলনে কোনো ধরনের কুচক্রী মহল হাত দিলে তা আমরা প্রতিহত করবো। শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ মিছিল আজ পুলিশের হস্তক্ষেপে বন্ধ হয়েছে কিন্তু আগামীতে বন্ধ হবে না। আমরা কঠোরভাবে আন্দোলন চালিয়ে যাবো এসব দখলদারদের বিরুদ্ধে। আমরা আগামী রবিবারে ক্যাম্পাস থেকে মানববন্ধন করে মাঠে যাবো ইনশাআল্লাহ।

[৭] এবিষয়ে জানতে চাইলে কোতোয়ালি থানার ওসি মিজানুর রহমান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করবে তাদের নির্দিষ্ট জায়গায়। রাস্তা অবরোধ করে বেআইনি ভাবে আন্দোলন করলে পুলিশের দায়িত্ব সেই আন্দোলন রুখে দেওয়া। পুলিশ স্বাভাবিক অবস্থান রক্ষা করতে রাস্তা অবরোধ করতে নিষেধ করেছে।

[৭] জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মোস্তফা কামাল বলেন, আমরা সবসময় শিক্ষার্থীদের দাবির সাথে একমত পোষণ করি। মাঠকে ফিরিয়ে আনার জন্য আমরাও প্রশাসনকে অনুরোধ করেছি। তারা আমাদের এখনো কিছু জানায়নি।

[৮] জানা যায়, গত ২৬ অক্টোবর গভীর রাতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরশনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ খননের কাজ শুরু করে।

[৯] বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বলছে, সিটি করপোরেশনের মেয়র আশ্বাস দিলেও তাদের না জানিয়েই মাঠে খোঁড়াখুঁড়ি শুরু করা হয়েছে। এদিকে কাজ থামাতে আইনি প্রক্রিয়ায় যাওয়ার কথা বলছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

[১০] উল্লেখ্য, ১৯৮৪ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার জন্য নিজস্ব কোনো মাঠ না থাকায় ধূপখোলা খেলার মাঠটি তিন ভাগ করে এক ভাগ তৎকালীন সরকারি জগন্নাথ কলেজকে ব্যবহার করার জন্য মৌখিকভাবে অনুমতি দেন। তখন থেকেই প্রতিষ্ঠানটি খেলার মাঠ হিসেবে ধূপখোলা মাঠটিকে ব্যবহার করছে। এই মাঠেই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সর্বশেষ