প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আকতার বানু আলপনা: মানুষ বড়ই রক্ষণশীল প্রাণি

আকতার বানু আলপনা: মানুষ তো বটেই, পশুপাখিরাও তাদের সদ্য জন্ম নেওয়া বাচ্চাদের প্রতি খুব বেশি যত্নশীল। তারা তাদের বাচ্চাদের এতোটাই আগলে রাখে যে, মুরগির বাচ্চার পাশ দিয়ে হেঁটে গেলেও মুরগি রাগে আগুন হয়ে গজগজ করতে করতে ঠোঁকরাতে চলে আসে। এই ভেবে যে, কেউ বুঝি তার বাচ্চার ক্ষতি করবে। ছোট শিশুরা তার প্রিয় কোনো কিছু হাতছাড়া করতে চায় না। মা দূরে গেলে কাঁদে। মাকে অন্য কোনো বাচ্চা কোলে নিতে দেয় না। এমনকি, কখনো কখনো নিজের ছোট ভাই-বোন হলে তাকেও তারা ঈর্ষা করে। এই ভেবে যে, এখন বাবা-মা নতুন বাচ্চাকে ভালোবাসবে। ফলে তাকে আর আগের মতো ভালোবাসবে না। তার প্রিয় মানুষগুলো দূরে চলে যাবে। মানুষ ভালোবাসা হারাতে চায় না। আঁকড়ে ধরে রাখতে চায়। এজন্যই কোনো কোনো শিশু তার মায়ের ভালোবাসা হারানোর ভয়ে তার বাবাকেও তার মায়ের কাছে ঘেঁষতে দিতে চায় না। রাতে অনেক শিশু তার প্রিয় কোনো খেলনা হাতে নিয়েই ঘুমায়। আমরা বড়রাও কিন্তু প্রিয় মানুষকে ছেড়ে থাকতে পারি না। প্রিয়জন, বন্ধু, প্রেমিক-প্রেমিকা, স্বামী-স্ত্রী, সন্তানÑ এমন কেউ দূরে চলে গেলে আমরা কষ্ট পাই। তাদের ভুলতে পারি না। তাদের প্রতিনিয়ত মিস করি। প্রিয় কেউ মারা গেলে আমরা কেঁদে বুক ভাসাই। প্রিয় মানুষ, প্রিয় জায়গা, প্রিয় খাবার, প্রিয় পোশাক, প্রিয় জিনিস, প্রিয় বাড়িঘর ইত্যাদি ছেড়ে অন্য কোথাও গিয়ে থাকতে আমাদের কষ্ট হয়। মন কেমন করে। এজন্যই শত আরামে থাকলেও শহরে এসে কাজের লোক বা গ্রামের মানুষ বেশিদিন থাকতে চায় না। প্রথম প্রথম বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে এসে ছেলে-মেয়েদের ভীষণ মন খারাপ করে। ফলে তারা ঘন ঘন বাড়ি যায়। ছোট বেলায় দেখতাম, আমার দাদা প্রায়ই বেড়াতে আসতেন। কিন্তু সাতদিনের বেশি থাকতেন না।

সকালবেলা তাঁর মাঠের ফসল না দেখলে নাকি তাঁর শান্তি লাগে না। দাদার মতো আমরা সবাই আমাদের নিজেদের সবকিছু আগলে রাখি। নিয়মিত আমরা প্রিয় মানুষের খোঁজ নেই। প্রিয়জনকে ভালো রাখার জন্য আমরা নানা কষ্ট করি। রাতদিন পরিশ্রম করি। প্রিয় কেউ অসুস্থ হলে আমরা ভীষণ উদ্বিগ্ন হই। কখনো কখনো প্রিয় মানুষকে বাঁচাতে আমরা জীবনের ঝুঁকি নেই বা জীবনও দিয়ে দেই। এসবের কারণ হলো-মানুষ বড় রক্ষণশীল প্রাণী। সে তার প্রিয় সবকিছু আঁকড়ে ধরে রাখতে ভালোবাসে। এজন্যই আমরা পুরনো এ্যালবাম, পুরনো চিঠি, বাচ্চাদের ছেলেবেলার খেলনা, পুুতুল, জামা – সব যত্ন করে রেখে দেই। আমরা প্রিয় মানুষের স্মৃতি সংরক্ষণ করি। ‘আমার শ্বাশুড়ি আমার শ্বশুরের ব্যবহৃত প্রায় সব জিনিসই যত্ন করে রেখে দিয়েছেন। তাছাড়া অপ্রয়োজনীয় কোনোকিছুই তিনি ফেলতে দেন না। ভাঙা টিন, জং ধরা পেরেক, প্লাস্টিক কন্টেইনার, ঘুনে ধরা কাঠ, উইপোকা খাওয়া বই – সবই রেখে দেন নিচে। আমি বিরক্ত হই। বৃদ্ধ বয়সে আমরা আমাদের ছেলেবেলাকে খুব মিস করি। কারণ শৈশব আমাদের খুব প্রিয় এবং সেই প্রিয় শৈশবকেও আমরা স্মৃতিতে ধরে রাখতে চাই। এই রক্ষণশীলতা মানুষের সহজাত প্রবৃত্তি। এজন্যই মানুষ মৃত্যুর পরেও তার প্রিয় সবকিছুর মধ্যে বেঁচে থাকতে চায়। এজন্যই আগেকার দিনে মানুষ তার ভাবনা-চিন্তাগুলো গুহার দেয়ালে লিখে রাখতো। সেজন্যই আমরা সন্তান নেই, বই লিখি, ভাস্কর্য গড়ি, ছবি আঁকি, গান-নাটক-মুভি বানাই, ছবি-ভিডিও করে পোস্টাই ইত্যাদি।

এ প্রসঙ্গে একটি কৌতুক শুনুন। এক বিবাহিত বস তার সুন্দরী সেক্রেটারী শিলাকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তার সঙ্গে পরকীয়া করছিলেন। কিছুদিন পর সেই বস অফিসের আরেক নারী কর্মচারীর সঙ্গে মেলামেশা শুরু করলেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে শিলা তাদের গোপনে তোলা কিছু অন্তরঙ্গ ছবি এডিট করে শিলার নিজের চেহারা অস্পষ্ট করে দিয়ে তার ফেক আইডি থেকে বসের স্ত্রীকে পাঠালো। মেসেজে লিখলো, ‘আল্পনা ম্যাডাম বলেছেন, মানুষ বড়ই রক্ষণশীল প্রাণী। সে নিজের প্রিয় কোনো জিনিস হাতছাড়া করতে চায় না। আমিও চাইনি। তাই প্রিয় মানুষকে ছবিতে ধরে রেখেছিলাম। আমার ধারণা, আপনিও নিশ্চয়ই রক্ষণশীল’। ফেসবুক থেকে

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত