প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] পাচারের শিকার নারীর আকুতিতে ৩ মাস পর ৪ পাচারকারীকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব

সুজন কৈরী: [২] ভাগ্য বদলের আশায় জনশক্তি রপ্তানিকারক একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সৌদি আরব গিয়েছিলেন একজন নারী। উচ্চ বেতনে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে তাকে সেখানে পাঠানো হয়। কিন্তু সেখানে গিয়ে তিনি কাজ পাননি। বরং হয়েছেন শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার।

[৩] নির্যাতন সইতে না পেরে যাওয়ার মাস তিনেক পর বাঁচার আকুতি জানিয়ে ভুক্তভোগী নারী ভিডিও বার্তা ও খুদে বার্তা পাঠিয়ে তাকে উদ্ধার করে দেশে ফিরিয়ে আনার আকুতি জানান। এছাড়া ওই নারীর স্বামীও র‌্যাবে অভিযোগ দেন। এরই প্রেক্ষিতে র‌্যাব অভিযান চালিয়ে মানবপাচারকারী চক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করে।

[৪] সোমবার রাতে রাজধানীর পল্টন এবং রমনা এলাকা থেকে জনশক্তি রপ্তানিকারক একটি প্রতিষ্ঠানের মালিক রুবেলসহ চার জনকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব-৩ এর একটি দল। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- ইফতি ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল নামক প্রতিষ্ঠানের মালিক রুবেল, আল-জাহাঙ্গীর এস্টাবলিশমেন্ট নামক আরেক প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক মুবারক এবং তাদের সহযোগী আক্কাস ও তাহের।

[৫] মঙ্গলবার র‌্যাব-৩ এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বীণা রানী দাস জানান, বর্তমান সময়ে মানবপাচারকারী চক্রের সদস্যরা বিদেশে উচ্চ বেতনে চাকরির প্রলোভনসহ নানা ফাঁদে ফেলে সাধারণ জনগণের সরলতার সুযোগ নিয়ে বিপুল পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। এ ধরনের মানবপাচারকারী চক্রকে আইনের আওতায় আসতে র‌্যাব সদা সচেষ্ট। এরই ধারাবাহিকতায় সৌদি আরবে পাচারের শিকার এক ভুক্তভোগী নারীর স্বামীর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে র‌্যাব-৩ এর একটি দল অভিযান চালিয়ে চক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করে।

[৬] র‌্যাব জানায়, গ্রেপ্তার আক্কাস বেপারী ভিকটিমের স্বামীর পূর্ব পরিচিত। তিনি পাচারের শিকার নারীকে মধ্যপ্রাচ্যে ২৫ হাজার টাকা বেতনে হাসপাতালে আয়ার চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে গ্রেপ্তার মোবারক ও তাহেরের কাছে নিয়ে যান। তারা ইফতি ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল নামক একটি প্রতিষ্ঠানের মালিক রুবেলের সহযোগিতায় রিক্রুটিং লাইসেন্স ব্যবহার করে ভিকটিমকে চলতি বছরের জুন মাসে সৌদি আরবে পাঠায়। এরপর চক্রটি ভুক্তভোগী নারীর সঙ্গে আর কোনো যোগাযোগ করেননি। ভুক্তভোগী বিদেশে গিয়ে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হলে স্বামীকে বিষয়টি জানান।

[৭] ভুক্তভোগীর স্বামীর অভিযোগের মাধ্যমে পাচারে জড়িতরা নির্যাতনের বিষয়টি জানতে পারলেও সমস্যার সমাধানের কোনো পদক্ষেপ নেননি।

[৮] বীণা রানী দাস বলেন, ভুক্তভোগীর স্বামী জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোতে ভুক্তভোগী নারীকে উদ্ধারের জন্য অভিযোগ করেন। তবে অভিযোগ প্রত্যাহার করার জন্য পাচারকারীরা ভুক্তভোগী পরিবারকে হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করে এবং পাচারের শিকার নারীকে দেশে ফিরিয়ে আনার খরচ বাবদ চার লাখ টাকা দাবি করে। ভুক্তভোগীর স্বামী নিরুপায় হয়ে স্ত্রীকে উদ্ধারের জন্য র‌্যাবের কাছে গত সপ্তাহে অভিযোগ দেন ও পাচারে জড়িতদের নামে পল্টন মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। এরই ভিত্তিতে ওই চার জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

[৯] ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের ইনফরমেশন ম্যানেজার আল আমিন নয়ন সাংবাদিকদের বলেন, সৌদি আরবে পৌঁছানোর পর থেকেই ভুক্তভোগীর ওপর নির্যাতন চলছে। গত ৭ জুন সৌদি আরবে গিয়েছেন ভুক্তভোগী নারী। নির্যাতন সহ্য করতে পারছেন না তিনি। ভিডিও বার্তা ও ক্ষুদে বার্তা পাঠিয়ে তাকে উদ্ধার করে দেশে ফিরিয়ে আনার আকুতি জানান। আরেকটি ক্ষুদে বার্তায় ওই নারী লিখেছেন, টানা দুই দিন তাকে না খাইয়ে রাখা হয়েছে। দেশে ফিরতে হলে চার লাখ টাকা তাদের দিতে হবে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত