শিরোনাম
◈ সিটি করপোরেশন আগে, ধাপে ধাপে ইউপি— আসছে নির্বাচনের রোডম্যাপ ◈ গুলশানে নিজের ফ্ল্যাটে উঠছেন ড. ইউনূস ◈ হালিশহরে ভয়াবহ বিস্ফোরণ, দগ্ধ পরিবারের ৯ জনের মধ্যে একজনের মৃত্যু ◈ রাষ্ট্রপতির সাক্ষাৎকার নিয়ে যা বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ◈ ‘নতুন বাংলাদেশ’ গড়তে চার ফ্রন্টে কঠিন পরীক্ষা সরকারের ◈ হেটমায়ারের ঝড়ে রেকর্ড, বড় জয় নিয়ে সুপার এইটে ক্যারিবীয়রা ◈ ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের পর মাঠ প্রশাসনে বড় রদবদল, একযোগে ১১২ নির্বাচন কর্মকর্তা বদলি ◈ ন‌ভেম্ব‌রে পূর্ণাঙ্গ সিরিজ খেলতে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যাবে বাংলাদেশ  ◈ আগামী ১০ মার্চ ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী ◈ বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনা পুনঃতদন্ত করতে নতুন করে কমিশন গঠন করবে সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রকাশিত : ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ০১:২৬ রাত
আপডেট : ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ০১:২৬ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ইশরাত জাহান উর্মি: সমাজ নারীর জন্য ‘ভালো পাত্র’ হিসেবে যাকে রায় দেয় সে মানুষ হিসেবে কেমন

ইশরাত জাহান উর্মি : এই ইভানাকে আমি খুব ভালো চিনি। খুব ভালো মানে খুব ভালো। আপাত সামাজিক প্রতিষ্ঠা পাওয়া অথচ অসহায় নারীদের আমার চেয়ে ভালো আর কেউ চেনে না। এই অনারকিলিংগুলো আমার চেনা। ইভানা মরে গিয়ে জাস্ট একটা কেস হয়েছে, কেসস্টাডিই দেখেন। শিক্ষিত এবং মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ে। শিক্ষকরা বলছে, খুব মেধাবী শিক্ষার্থী ছিলো সে, বিতর্ক করতো। কিন্তু পড়াশোনা শেষ না করে ব্যারিস্টার ঢাকায় বাড়ি গাড়ি থাকা ছেলে দেখে বাবা বিয়ে দিলে সেই বিয়েতে ‘না’ বলার সাহস ইভানার ছিলো না। তার নিজের ব্যারিস্টার হবার ইচ্ছা শিকেয় তুলে সে ঘরকন্নায় মন দিয়েছিলো।

বিয়ের পর ইভানা সবাইকে জানিয়েছে সে সুখী। মিথ্যা সুখের অভিনয় করে গেছে অবিরাম। দুটো বাচ্চা হয়েছিলো একটা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন। স্বামীর সঙ্গে তার না বনা প্রথম থেকেই কিন্তু সে ডিভোর্সকে ভয় পেতো। নিজের কমফোর্ট জোন হারানোর ভয়? এই কথাটা সবসময় মাথায় ঘোরে আমার। মেয়েরা কি আসলে স্বামীর দেওয়া স্বাচ্ছন্দ্য হারানোর ভয় করে নাকি সমাজের? ইভানা দুটো ভয়ই পেয়েছিলো। তার বাবা-মা জানিয়ে দিয়েছিলো, ‘যা কিছুই ঘটুক, স্বামীর সঙ্গে থাকতে হবে’। ইভানা ‘বয়স’ হয়ে যাওয়া বাবা-মাকে ডিভোর্সের ‘লজ্জ্বা’য় ফেলতে চায়নি। উপরন্তু দুটো বাচ্চাকে নিয়ে এই শহরে চলার মতো কোনো আয় তার ছিলো না। এরই মধ্যে স্বামী অন্য নারীর সঙ্গে সম্পর্কিত জেনে এবং জীবনের এইসব পরিস্থিতি থেকে এক্সিট করার পথ হিসেবে একমাত্র আত্মহত্যাকেই দেখতে পেলো ইভানা।

এখন বলেন, সে কি আত্মহত্যা করলো না অনারকিলিং বা হত্যার শিকার হলো? আমাদের সমাজ নারীর জন্য ‘ভালো পাত্র’ হিসেবে যাকে রায় দেয় সে মানুষ হিসেবে কেমন তা কি কেউ দেখে? আর পরিবার। বাংলাদেশের অধিকাংশ পরিবারই একেকটা আন্দামানের কালাপানি। বিনা অপরাধে শাস্তি পাওয়া নারীদের সেইখানে কারাবাস হয়। বিয়ে মানে সেইখানে শেষ কথা। যে পরিবার একজন মানুষের সবচেয়ে বড় ভরসার স্থল হবার কথা সেই পরিবার যখন কারাবাসের মতো হয় এই হিংস্র সমাজে তাহলে একটা নারী কোথায় যাবে কেউ বলতে পারেন?

ইভানা আত্মহত্যা করেছে। ‘আত্মহত্যা কোনও সমাধান নয়’Ñ বলে অতিক্লিশে মোটিভেশনাল কথা আমি বলতেই পারি কিন্তু বলবো না কারন ইভানার জুতা পায়ে আমি হাঁটিনি। যা করেছে সে ঠিকই করেছে। শুধু ভাবি, জীবনের কি বিপুল অবচয়! ইভানার ‘আত্মহত্যা’ নিেেয় ফেসবুক বিশেষ সড়গড় দেখলাম না, সম্ভবত তার এইভাবে মরে যাওয়াটা নারীবাদের কোনও শাখার মধ্যে পড়ে না, ‘প্রতিবাদ’ না করে মরে যাওয়ার মতো এইসব ‘দুর্বলতা’ সম্ভবত নিন্দাযোগ্য। এতোসব সবল, প্রতিষ্ঠিত নারীদের ভিড়ে ইভানার মরে যাওয়া একটা লজ্জ্বাজনক অধ্যায় সম্ভবত। কিন্তু মেয়েটা কি করলে ঠিক হতো কেউ বলতে পারেন? ইভানার বেঁচে থাকার মতো একটা ন্যূনতম সমাজ আর রাষ্ট্র কি সৃজন করা গেছে? লেখক : সাংবাদিক। ফেসবুক থেকে

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়