প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

রেজাউল করিম স্বপন: আওয়ামী লীগ কী করছে, আওয়ামী লীগের কী করা দরকার

রেজাউল করিম স্বপন: একটা সরাকারের রাজনৈতিক, সাংবিধানিক, শাসনপদ্ধতি, জনপ্রিয়, অজনপ্রিয় কিন্তু অবশ্য করণীয় ও প্রতিপক্ষসহ অপশক্তিসমূহ মোকাবেলায় ভিন্ন ভিন্ন কৌশল দরকার। বর্তমান সরকার যেসবক্ষেত্রে পিছিয়ে আছে সেগুলোর দিকে মন না দিলে শেখ হাসিনার আকাশচুম্বি জনপ্রিয়তার ফল ও ঘরে তুলতে পারবে না।

[১] সর্বপ্রথম যে বিষয়টির দিকে নজর দেওয়া দরকার তা হলো চোর-চোট্টাদের নমিনেশন দেওয়া থেকে বিরত থাকা। বঙ্গবন্ধু ৭০ সালে মাস্টার, প্রফেসর আর উকিলসহ ক্লিন ইমেজের পেশাদার লোকদের নমিনেশন দিয়ে জনআক্সক্ষা পূরণ করেছিলেন। এখন কেন গুন্ডাদের নমিনেশন দিতে হবে। [২] ২০০১ সালের ‘বিএনপি’ সরকারের নীতিনির্ধারক তারেক রহমান কৌশল নির্ধারণ করে আওয়ামী লীগের ৩‘শ আসনের জনপ্রিয় নেতাদের হত্যা করে নেতৃত্ব শূন্য করা এবং যা শুরু করে খুলনায় মঞ্জুরুল ঈমামকে হত্যার মধ্য দিয়ে, এরপর, আহসানউল্লাহ মাস্টার, শাহ এ.এস.এম কিবরিয়া, সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বেঁচে যান। সহনেতাদের হত্যার মধ্য দিয়ে, যার চূড়ান্ত পরিণতি ২১ আগস্ট। এখন আওয়ামী লীগ তো বিরোধীদল মোকাবেলায় একই কৌশল নিতে পারে না। দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো ২০০১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত দেশে যে সীমাহীন খুন, খারাবি, নৈরাজ্য লুটপাট হয়েছে এবং এসব কাজে যারা জড়িত ছিলো ২১ আগস্ট ঘটনা ছাড়া একটি ঘটনার ও বিচার আওয়ামী লীগ করেনি। এমনকি ১/১১ সরকার যেসব দুর্নীতিবাজদের সাজা দিয়েছিলো তারা ও বিভিন্ন কৌশলে বেঁচে যায়।

[৩] রাজনৈতিক অঙ্গীকার: আওয়ামী লীগ বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় একটা সমাপ্তি আনতে পারলে ও জেলহত্যা মামলা শুনানি কালে সরকার পরিবর্তন হয়। এরপর এক অলৌকিক রায় আসে জেল হত্যা মামলায় তৎকালীন আইনমন্ত্রীর হাত দিয়ে তা হলো-বঙ্গবন্ধুহত্যা মামলায় যাদের মৃত্যুদণ্ড হয় তাদের তিনজনের মৃত্যুদণ্ড। যারা বিদেশে পলাতক তাদের সকলের যাবজ্জীবন। আর যারা দেশে ছিলো সকলেই বেকসুর খালাস। এমন এক রায় মওদুদ সাহেব দিলেন যাতে দাবার একটা গুটিকে ও সরাতে হলো না। আওয়ামী লীগ সরকার ১২ বছরে এ বিচার নতুন করে করলো না [৪]‘বঙ্গবন্ধু হত্যার আসামীদের দেশে এনে সাজা দেওয়া হবে’। এ কথা আগস্ট মাসের পর আর শোনা যায় না।

[৫] বঙ্গবন্ধুহত্যা ঘটনা জিয়ার মস্তিষ্ক প্রসূত একটি কাজ তেমনি ২১ আগস্টের ঘটনা বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের পরিকল্পনা প্রসূত কাজ কিন্তু উভয় ক্ষেত্রে প্রধান আসামীদের পাশ কাটিয়ে বিচার করা হয়েছে। সরকার হয়তো চিন্তা করেছে, তাহলে বিচার বাধাগ্রস্ত হবে কিন্তু এতে আইনের শাসনের কি হবে? এরকম আরও বলা যায়, এসব দেখে সন্দেহ করার যথেষ্ট কারণ আছে প্রধানমন্ত্রীর আশেপাশে সত্যিকার আওয়ামী লীগ ও বঙ্গবন্ধুকে ধারণ করা লোকের সংখ্যা নিতান্তই নগণ্য অথবা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ভাষায়, ‘আমাকে ছাড়া সকলকেই কেনা যায়’। হয়তো নিজেদের দুর্নীতির ভবিষ্যত বিচার রুখতে সকলেই বিক্রি হয়ে গেছে। একটা অকার্যকর রাষ্ট্র থেকে আধুনিক রাষ্ট্রে উত্তরণে শেখ হাসিনার কৃতিত্ব এককভাবে আওয়ামী লীগকে নির্বাচনী বৈতরনী পার করবে মনে করি না। ইদানিং প্রশাসন, পুলিশসহ বিভিন্ন পেশার দুর্নীতির বিরুদ্ধে দুদকসহ সরকারকে কঠোর মনে হলে ও জনগণকে দুর্নীতি বিরোধী কর্মকান্ডে আস্থায় নিতে অনেক দেরি আছে। ফেসবুক থেকে

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত