প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] সুনামগঞ্জ সদরের পল্লীতে মেছোবাঘের আক্রমণে আহত ১০

জাকারিয়া জোসেফ: [২] সুনামগঞ্জ সদরের একটি পল্লীতে হিংস্র মেছোবাঘের কামড়ে কমপক্ষে আহত হয়েছেন ১০ জন গ্রামবাসী। আহতরা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। রোববার সকাল থেকে মেছোবাঘের আক্রমণ শুরু হয় সদর উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের সদরগড় গ্রামে। গত তিনদিন ধরে সড়কে, বসত ঘরে ঢুকে আক্রমণ করে এই মেছোবাঘ। একারণে পুরো গ্রামের মানুষ আতংকে দিন কাটাচ্ছেন।

[৩] গ্রামবাসী জানান, দেখতে বিড়ালের মতো, লাফিয়ে দৌঁড়ায়, মানুষকে আক্রমণ করে নিমিষেই লাপাত্তা হয়ে যায়। লুকিয়ে যায় বনের ঝোঁপে। গত দুই দিন ধরে এই মেছো বাঘের আক্রমণ শুরু হওয়ায় এলাকার মানুষ আংকিত হয়ে পড়েছেন।

[৪] রোববার রাত ৮ টায় গ্রামের বাসিন্দা ও মাদ্রাসা শিক্ষার্থী মুসলিমা বেগমকে (১৩) আক্রমণ করে। সে পাশের ঘর থেকে নিজের ঘরে আসার সময় মেছোবাঘে ঝাপটে ধরে পায়ে। ধারালো নক দিয়ে আচড় কাটে দুই পায়ের বিভিন্ন স্থানে। পরনের জামা কামড়ে ধরে। তার চিৎকারে এলাকার মানুষ দৌঁড়ে আসলে মেছোবাঘ নিমিষেই লাপাত্তা হয়ে যায়। পরে তাকে সদর হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেয়া হয়।

[৫] সোমবার ভোর ৬ টায় আকিকুল ইসলাম (৪৫), ছেলে সাকিব হোসেন (৪), মেয়ে রত্মা বেগম (১২) মেছোবাঘের আক্রমণে গুরুতর আহত হন।

[৬] আকিকুল ইসলাম জানান, সকালে আমার ছেলে সাকিব যখন পাশে রুমে জুতা খুঁজতে যায়, তখন মেছোবাঘ তাকে ঝাপটে ধরে। তার চিৎকারে আমি লাফ মেরে মেছোবাঘকে তাড়াতে চেষ্টা করি। আমাকেও আক্রমণ করে মেছোবাঘ। এসময় আমার দুই হাতের বিভিন্ন স্থানে কামড় দেয়। আমি অজ্ঞান হয়ে পড়লে আমার মেয়ে দৌঁড়ে আসে, তখন তাকেও আক্রমণ করে এবং হাতে পায়ে কামড়ে ধরে, ধারালো নক দিয়ে আছড় কাটে পায়ের বিভিন্ন স্থানে। পরে আমাদের পরিবারের সবাইকে সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দিতে নিয়ে যান স্থানীয়রা।

[৭] ওইদিন হোসাইন আহমদ (৪) নামের আরেক শিশুকে মেছোবাঘ আক্রমণ করে। তার হাত ও পায়ের বিভিন্ন স্থানে কামড় দেয়। রাতে বেলায় রনি (১৪) ও জুনাদ (৪) নামের দুইজন মেছোবাঘের কামড়ে আহত হন। এদের সবাইকে চিকিৎসা দেয়া হয় সদর হাসপাতালে।

[৮] পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী গোলাম মনতাকসহ আরও ২ জন মঙ্গলবার সকালে মেছোবাঘের আক্রমণে আহত হয়েছেন বলে জানান গ্রামের বাসিন্দারা।

[৯] সদরগড় সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হারুনুর রশিদ জানান, গ্রামের একাধিক শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তি মেছোবাঘের আক্রমণে আহত হয়েছেন। এই আতংকে গত তিনদিন শিক্ষার্থীর উপস্থিতি কিছুটা কমেছে। এই মেছোবাঘ খুঁজে বের করা না হলে আতংক কাটবে না গ্রামবাসীর।

[১০] স্থানীয় বাসিন্দা তানভীর আহমদ তাছলিম জানান, মেছোবাঘটি দেখতে বিড়াল আকৃতির। তবে লাফিয়ে অনেক উপরে উঠতে পারে। আক্রমণ করে নিমিষেই লাপাত্তা হয়ে যায়।

[১১] সুনামগঞ্জের ফরেস্ট রেঞ্জ অফিসার চয়ন ব্রত চৌধুরী বলেন, বন্যার সময় চলতি নদী দিয়ে ভারত থেকে অনেক কিছু আসে। হয়তো এই মেছোবাঘও ঢলের পানিতে ভেসে এসেছে। মেছোবাঘের নিরাপদ স্থান না পাওয়ায় যেখানেই আশ্রয় নেয়, মানুষকে দেখে হিংস্র আচরণ করে। এটাকে ইংরেজিতে ‘ফিসিং কেট’ বলা হয়। এই প্রাণী দেখতে বিড়ালের মতো, গায়ে ডোরাকাটা। তার খাদ্য মাছ ও মাংস। বড় আকারের জঙ্গল খুঁজে পেলে চলে যেতে পারে।

সর্বশেষ