প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ভিয়েতনামে কোভিড প্রাদুর্ভাবে বিনিয়োগকারীরা ফিরছে চীনে

রাশিদ রিয়াজ : চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের কারণে যেসব বিনিয়োগকারী ভিয়েতনামে তাদের বিনিয়োগ সরিয়ে নিয়েছিল তারা ফের তাদের বিনিয়োগ চীনেই ফিরিয়ে নিতে শুরু করেছে। বিশে^ অর্থনৈতিক নেতৃত্ব দেওয়ার জন্যে চীন অব্যাহত প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এবং দেশটির দৃষ্টিভঙ্গী উপলব্দি করার জন্যে এর অর্থনৈতিক প্রভাব সম্পর্কে বিস্তারিত জানা প্রয়োজন বলে মনে করছেন পশ্চিমা দেশগুলোর অর্থনীতিবিদরা। গত কয়েক বছরে চীন থেকে বিভিন্ন বিদেশি কোম্পানি দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে বিনিয়োগ সরিয়ে নেয়। সস্তা শ্রম ও শুল্ক আরোপের খড়গ থেকে বাঁচার জন্যে মূলত তারা তাদের বিনিয়োগ সরিয়ে নিতে শুরু করে। চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যের ওপর পাল্টাপাল্টি শুল্ক আরোপের কারণে বেগতিক অবস্থায় পড়ে বিনিয়োগকারীরা। তাদের বিনিয়োগ খরচ বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়তে শুরু করে এসব বিনিয়োগকারী। এরফলে কোম্পানিগুলো কম্বোডিয়া, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, মিয়ানমার ও মালয়েশিয়ার মত দেশগুলোকেই বেছে নিয়েছিল। কিন্তু কোভিড মহামারী মোকাবেলায় চীন যে ক্ষীপ্রগতিতে ব্যবস্থা নিয়েছে, ১শ কোটি মানুষকে টিকা দিয়েছে তা থেকে স্বাভাবিকভাবেই পিছিয়ে পড়ে বিনিয়োগের বিকল্প দেশগুলো। এরপর ডেল্টা সংক্রমণেও সামাল দিতে পারেনি এসব দেশ। ফলে বিনিয়োগকারীরা তাদের পূর্ব গন্তব্য চীনকেই বেছে নিতে শুরু করেছে। কোয়ার্টজ ডটকম

কোভিডের কারণে এসব বিনিয়োগকারী যখন দেখতে শুরু করল তাদের কারখানার ঝাঁপ ফের বন্ধ রাখতে হচ্ছে, শ্রমিকরা কাজে যোগ দিতে পারছে না তখন তিন মাসের লকডাউনের পর ভিয়েতনামে বিনিয়োগকারীরা এও দেখতে পায় দেশটির সরকার কেবল বিধি নিষেধ শিথিল করতে শুরু করেছে তখন তাদের চীনে ফেরা ছাড়া আর উপায় ছিল না। কারণ তারা তাদের কারখানার উৎপাদন ক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগে পড়ে গিয়েছিল। ফুটওয়্যার ও এ খাতের আনুষঙ্গিক উপকরণ তৈরি করে এমন একটি ডিজাইন ব্রান্ডের সিইও রজার রাওলিং বলেন চীনে বিনিয়োগের সুবিধা সম্পর্কে ধারণাতীত অভিজ্ঞতা হয়েছিল যা অন্য কোনো দেশে চিন্তাও করতে পারি না। সাপ্লাই চেইন থেকে শুরু করে রোলারকোস্টার সব সুবিধাই হাতের মুঠোয় পাওয়া যায় চীনে।

গত জুন পর্যন্ত ভিয়েতনামে কোভিড নিয়ন্ত্রণ মোটামুটি বাগে ছিল কিন্তু ডেল্টা ভাইরাসের সংক্রমণে তা ভেস্তে যায়। ভিয়েতনামের ৪ শতাংশ মানুষ যখন পুরোপুরি দুটি ডোজ কোভিড টিকা নিতে পেরেছে তখনি ডেল্টার ব্যাপক বিস্তার পরিস্থিতিকে তছনছ করে দেয়। বাধ্য হয়ে কারখানাগুলো বন্ধ করে দেয় দেশটির সরকার। কঠিন পরিস্থিতিতে কেবল যে সব কারখানার শ্রমিকরা ডরমিটরিতে কোয়ারেন্টাইনে রয়েছে তাদের উৎপাদন ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হবার সুযোগ দেওয়া হয়। ফলে ভিয়েতনামে এই বিধি নিষেধ গ্লোবাল ব্রান্ডগুলোর উৎপাদনশীলতা বটম লাইনে নামিয়ে আনে। অ্যাডিডাস এ বছরে ভিয়েতনামে উৎপাদন বিলম্বে এ বছর ৬শ মিলিয়ন ডলার লোকসান দিচ্ছে। হুকার ফার্নিচার জানায় তাদের হোম মেরিডিয়ান ইন্টারন্যাশনালের বিক্রি এই ত্রৈমাসিকে ৩০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে লকডাউনের কারণে। কোম্পানিটির সিএলও পল হাকফেল্ড বলেন এ পরিস্থিতিতে কোম্পানির কার্যক্রম চালু রাখাই কঠিন হয়ে পড়ে। লেকল্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সিইও চার্লস রবারসন বলেন এধরনের অনেক বিনিয়োগকারী ভিয়েতনামে যে লক্ষ্য বিনিয়োগ করতে আসেন তাদের পরিস্থিতির কারণে তা ফের চীনে ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হচ্ছেন। এজন্যে তাদের নতুন করে লোকবল নিয়োগ করতে হচ্ছে। আর ভিয়েতনাম থেকে চীনে তাদের বিনিয়োগ সরিয়ে নিয়ে পুনরায় উৎপাদন শুরু করতে লাগছে মাত্র সপ্তাহ খানেক সময়। হুকার ফার্নিচারের সিইও জেরেমি হফ বলেন আমরা বিনিয়োগে বৈচিত্র সৃষ্টি করতেই ভিয়েতনামে গিয়েছিলাম। থাইল্যান্ডে গিয়েছিলাম। কিন্তু উৎপাদন টিকিয়ে রাখতেই চীনে ফেরত যেতে হচ্ছে। একারণে উল্লেখযোগ্য বাধা পার হয়েই যেতে হচ্ছে। নতুন করে লোকবল নিয়োগ, যন্ত্রাংশের পুনঃস্থাপন, বন্দর জট এড়িয়ে জনাকীর্ণ রাস্তা পার হওয়ার বিড়ম্বনা ফিরে আসার কারণে বাড়তি ব্যয় গুণতে হচ্ছে। কিন্তু বিনিয়োগের অন্যধরনের মূল্য নিয়েও চিন্তা করতে হচ্ছে।

আসবাবপত্র নির্মাণ প্রতিষ্ঠান লাভস্যাকের সিইও শাওন নেলসন বলেন চীন থেকে রফতানিতে যুক্তরাষ্ট্রে যে বাড়তি শুল্ক দিতে হয় তাও বিবেচনায় রাখতে হচ্ছে। কিন্তু সবকিছুর ওপর ক্রেতার চাহিদা অনুযায়ী পণ্য পৌঁছে দেওয়ার বিষয়টি সর্বাগ্রে বিবেচনা করতে হচ্ছে। এটা আমাদের কাছে সবচেয়ে জরুরি। চীনে আর যাই না হোক নিরবচ্ছিন্ন উৎপাদন নিশ্চিত করা সম্ভব হয়। ছুটির উৎসবে চীনে ক্রেতার জনাকীর্ণ ভীড় বাড়ছে। হার্ভার্ড বিশ^বিদ্যালায়ের ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক উইলি শি বলেন নির্ভরযোগ্য উৎপাদনশীলতা নিশ্চিত করতে পারাটাই চীনে ফিরে যাওয়ার আসল কারণ।

সর্বাধিক পঠিত