প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

এবার প্রিয়শপের ফাঁদে আটকা গ্রাহকরা, ছায়া তদন্তে সিআইডি

নিউজ ডেস্ক : গ্রাহকদের অভিযোগ, টাকা ফেরত চাইলে প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা তাদের জানান, নগদ টাকা নেই, ব্যাংকেও টাকা জমা নেই। তাই টাকা ফেরত দিতে সময় লাগবে। তবে প্রিয়শপের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, প্রতিশ্রুত সময়ে পণ্য বা টাকা ফেরত না দেওয়ার বিষয়টি সঠিক নয়। অর্ডার করে পণ্য না পেলে টাকা স্বয়ংক্রিয়ভাবে রিফান্ড হয়ে যায়। ঢাকাপোস্ট

এদিকে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালি ও ই-অরেঞ্জের প্রতারণার পর অনলাইন প্ল্যাটফর্মে কড়াকড়ি নজর রাখতে শুরু করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। ইতোমধ্যে প্রিয়শপ.কম (priyoshop.com) এর বিরুদ্ধে পণ্য সরবরাহ না করার অসংখ্য অভিযোগ জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ই-ক্যাব) দপ্তরে জমা হয়েছে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে প্রিয়শপের কার্যক্রম নিয়ে ছায়া তদন্ত করছে সিআইডি। আরটিভি

গত বৃহস্পতিবার ইভ্যালির সিইও মোহাম্মদ রাসেল ও তার স্ত্রী চেয়ারম্যান শামীমাকে গ্রেফতারের পর বিভিন্ন ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগের হিড়িক পড়ে বিভিন্ন দফতরে।ঢাকাপোস্ট

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর জানায়, দেশের বিভিন্ন ই-কমার্সের বিরুদ্ধে অভিযোগ জমা পড়ছে। প্রিয়শপের বিরুদ্ধেও ভোক্তারা অভিযোগ দিয়েছেন। অধিকাংশ অভিযোগই নির্ধারিত সময়ে পণ্য না দেয়া এবং পণ্যের জন্য পরিশোধ করা টাকা ফেরত না দেয়া। সুনির্দিষ্ট অভিযোগগুলো নিষ্পত্তির চেষ্টা চলছে। আরটিভি

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক গ্রাহক ভোক্তা অধিকারে প্রিয়শপের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিয়েছেন। সেখানে গ্রাহক উল্লেখ করেছেন, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে মোবাইল অর্ডার করেন। তাকে এক মাসের মধ্যে মোবাইল ফোন দেয়ার কথা থাকলেও সাত মাসেও পাননি। তারা দেব-দিচ্ছি বলে আমাকে ঘোরাচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির কাস্টমার এক্সপেরিয়েন্স বিভাগের অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার মাহবুব আলম আমাকে বেশ কয়েকবার পণ্য দেয়ার আশ্বাস দিলেও তা দেননি। মূল টাকা ফেরত চাইলেও তারা ফেরত দেয়নি। বাধ্য হয়ে আর্থিক ক্ষতিপূরণের আশায় মামলাটি করেছি।

সাঈদুর রহমান নামের আরেক গ্রাহক (ছদ্মনাম) অভিযোগ করেন, চলতি বছরের ২৫ এপ্রিল প্রিয়শপ থেকে অগ্রিম টাকা পরিশোধের মাধ্যমে কিছু পণ্য অর্ডার করি। সাত থেকে ১০ কার্যদিবসের মধ্যে দেয়ার থাকলেও চার মাস পর আগস্টেও পণ্য না পেয়ে প্রিয়শপের সঙ্গে যোগাযোগ করি। তারা সমাধান দিতে না পারায় পণ্য কেনার প্রমাণপত্রসহ ফেসবুক গ্রুপে পোস্ট দেই। পোস্ট দেখে তাদের কাস্টমার এক্সপেরিয়েন্স বিভাগের মাহবুব আমাকে তা ডিলিট করতে বলেন। টাকা ফেরত না দেওয়ার কারণ হিসেবে তিনি জানান, তাদের ক্যাশ ফ্লো জিরো (নগদ টাকা নেই), ব্যাংকেও টাকা নেই। এখন আমি আমার টাকা ফেরত পাওয়া নিয়ে শঙ্কিত।dhakapost

রুনা আক্তার নামের এক ভুক্তভোগী জানান, প্রিয়শপ থেকে তিনি ২০২০ সালের ১৪ ডিসেম্বর একটি ভাউচার কেনেন, যা এক মাস পর অ্যাক্টিভ হওয়ার কথা ছিল। তবে মাসখানেক পরও প্রতিষ্ঠানটি তার কার্ড চালু করেনি। বিষয়টি নিয়ে তিনি কমপক্ষে ৫০-৬০ বার ফোন করেন। অবশেষে জুলাই মাসে কার্ড চালু করে তার। সেই কার্ডের সঙ্গে তিনি আরও এক হাজার ৩০০ টাকা দিয়ে কয়েকটি পণ্য অর্ডার করেন। প্রতিষ্ঠানটি তাকে ৬০০ টাকার পণ্য দেয়। বাকি পণ্য দেয়নি। বারবার কল করলেও প্রিয়শপ বলেছে, লকডাউনের পর দেবে। কিন্তু এখনও দেয়নি।

সিআইডির অরগানাইজড ক্রাইম বিভাগের বিশেষ পুলিশ সুপার হুমায়ুন কবির বলেন, কিছু ই-কমার্সের বিষয়ে ছায়া তদন্ত করছি। গ্রাহকরা আমাদের কাছে যেসব অভিযোগ নিয়ে আসছেন, সেগুলো নিয়েও তদন্ত হচ্ছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত বলা যাবে।

গ্রাহকদের অভিযোগের বিষয়ে প্রিয়শপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) আশিকুল আলম খান দেশের একটি অনলাইন নিউজ পোর্টালকে বলেন, নয় থেকে ১০ মাসে পণ্য না পাওয়ার বিষয়টি সঠিক নয়। আপনি অফিসে আসেন। আমাদের ডেলিভারির প্রক্রিয়াটি দেখলেই সব স্পষ্ট হয়ে যাবেন। গ্রাহকদের যেকোনো অভিযোগে আমরা নিয়মিত রেসপন্স করি। আমাদের এখানে যারা অর্ডার প্লেস করেন, তারা যদি পণ্য না পান, তাহলে অর্থ অটোমেটিক রিফান্ড হয়ে যায়। গোটা প্রক্রিয়াটি অটোমেটিক, মাসের পর মাস আটকে থাকার সুযোগ নেই।

এদিকে, ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলোর অভিভাবক সংগঠন ই-ক্যাবের কাছেও প্রিয়শপের বিরুদ্ধে অভিযোগ জমা পড়েছে। এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটিকে চিঠিও দিয়েছে ই-ক্যাব।

ই-ক্যাবের জেনারেল ম্যানেজার জাহাঙ্গীর আলম বলেন, গ্রাহকদের অভিযোগের ভিত্তিতে ১৬টি প্রতিষ্ঠানের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। এই তালিকায় প্রিয়শপের নাম ছিল। ই-ক্যাবে ও ভোক্তা অধিকারে আসা অভিযোগ সমাধানের জন্য তাদের চিঠি দেয়া হয়েছে। ডিজিটাল কমার্স নির্দেশিকার নিয়ম হালনাগাদ হয়েছে। নতুন অভিযোগ এলে তা ই-ক্যাব থেকে অবশ্যই দেখা হবে।

তবে ই-কমার্স সাইটগুলোর প্রতারণা কিংবা নির্ধারিত সময়ে পণ্য ডেলিভারি না দেয়ার অভিযোগ নতুন নয়। এর আগেও প্রিয়শপের বিরুদ্ধে গ্রাহকদের অভিযোগ ছিল। গত বছর ঢাকার বাসিন্দা শাহ আলম প্রিয়শপে দুই হাজার ২শ’ টাকার পণ্য অর্ডার করেছিলেন। তবে নির্দিষ্ট সময়েও তিনি পণ্য পাননি। এমন প্রতারণার শিকার শাহ আলম অভিযোগ করেন, প্রিয়শপ পাঁচটি পণ্য পৌঁছে দেয়ার পর তাদের কাস্টমার কেয়ারের 09636000 নাম্বারটি বন্ধই করে দেয়, পরে তা ওয়েবসাইট থেকেও তা ডিলিট করে দেয়া হয়। যা সম্পূর্ণ অসাধুতা ও অসদুদ্দেশ্যমূলক।  

সর্বশেষ