প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

পুতুল সাজিয়া সুলতানা: নারীর ক্ষেত্রেই সমাজের প্রতিটি মানুষ একেকজন বিজ্ঞ বিচারকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়

পুতুল সাজিয়া সুলতানা: সংগীতশিল্পী ন্যান্সির বিয়ে নিয়ে নানান জনের নানান মত চোখে পড়ছে গত কয়দিন ধরে। ইতিবাচক মতামত খুব একটা চোখে পড়েনি। নীরব যারা, ধরে নেয়া যাক তারাও নেতিবাচকতার পক্ষেই। এই নেতিবাচক মতামতগুলোর মূল কথা কয়েকটা। [১] কততম বিয়ে। [২] সন্তানের সামনে মায়ের বিয়ে। [৩] বয়সে প্রবীণকে বিয়ে।[৪] বিয়ের আনুষ্ঠানিকতার চাকচিক্য। ন্যান্সি একজন প্রতিষ্ঠিত নারী। তার নিজস্ব পরিচয় ছিলো। পায়ের তলায় মাটি ছিলো। সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে একক মা হিসাবে জীবনযাপনের সঙ্গতিও ছিলো। শুধু ছিলো না একটা সঙ্গ। যে সঙ্গ তাকে বিপদের দিনে ভরসা যোগাতে পারবে, সাহস দিতে পারবে, কোনো আঘাতে সুর থেমে যেতে চাইলে সুরকে উজ্জীবিত করে তাকে দিয়ে গাইয়ে নিতে পারবে। আশা করি তেমনি একজন সঙ্গী সে পেয়েছে। এটা যদি তার শততম বিয়েও হয় সমাজের তাতে নাক গলাবার কিছু নেই। তার একলা বিষণ্ন দিনগুলোতে সমাজ এসে তার কাঁধে হাত রাখেনি, বলেনি, ‘ন্যান্সি, থামতে নেই, এগিয়ে চলো।’ ভুল হলে তা শোধরানোর মনোবল সবার থাকে না। আর নারীর ক্ষেত্রে যদি সেই ভুল একাধিকবার হয়ে যায়, তাহলে তো সমাজ তখনই সমস্ত আত্মবিশ্বাস শুষে নেয় সেই নারীর। তাকে তখন বিশ্বাস করতে শেখায় এই ভুলের আর কোনো সংশোধন নেই। সংশোধন করতে যাওয়ার চিন্তা করাও পাপ।

ন্যান্সি জীবনটা শুদ্ধ করতে চেয়েছে। অভিনন্দন। দুই সন্তানের মা ন্যান্সি। তাই বলে তার নিজস্ব চাওয়া পাওয়া থাকবে না, এটা আপনাকে কে বললো জনাব/জনাবা? শুধু ‘মা’ পরিচয় নিয়ে এই সামাজিক ব্ল্যাকমেইল আর কতোদিন? এখনকার সন্তানরাও স্মার্ট। মায়ের একাকীত্ব বা নিঃসঙ্গতা তাদেরও বিমর্ষ করে আজকাল। অনেক সন্তান চায় অল্প বয়সে একা হয়ে যাওয়া বিষণ্ণ মায়ের চেয়ে একটা ঝলমলে মায়ের দেখা পেতে আবার। বিয়ে বিষয়টাকে সেসব সন্তানরা কোনো অস্বাভাবিকতা হিসেবে দেখে না। ন্যান্সির সন্তানদের স্বতস্ফূর্ত অংশগ্রহণ দেখেও কেনো আপনার মনে হচ্ছে তারা এই সিদ্ধান্তে অসন্তুষ্ট? ভীষণ হাস্যকর আপনার এমন মনগড়া ধারণা নিয়ে পড়ে থাকা। ন্যান্সি আর তার বরের বয়সের পার্থক্য নিয়ে অনেকে কৌতুক করছেন দেখছি। বলি, বর যদি বয়সে ওর ছোট হতো, তাহলে ছেড়ে দিতেন আপনারা? নিন্দাটা তো তখন এর দ্বিগুণ হতো।

বিয়ে করেছে জাঁকজমকভাবে, বেশ করেছে। কিছু মুহূর্ত কিছু স্মৃতি ধরে রাখতে চাওয়া দোষের কিছু নয়। কার অনুমোদন নেবে? কে অনুমতি দেবে? বরং অসংখ্য অজস্র গালির আশঙ্কা উপেক্ষা করে যে দৃষ্টিনন্দন অনুষ্ঠানগুলোর ছবি দেখলাম তাতে সাধুবাদ জানাই। নিজের মতো বাঁচতে চাওয়ার সাধ পূরণ করা বিশাল সাহসের কাজ। আচ্ছা এইবার বলুন তো, ন্যান্সির প্রাক্তনেরা এরপর আর কে কয়টি বিয়ে করেছে সেই খবরটি নেয়ার প্রয়োজন কি বোধ করেন? করেন না। তারা দশম বিয়ে করলেও কিছু যায় আসে না আপনার। কারণ, তারা পুরুষ। এবং তারা তারকা নন। শেষ কথা এটাই, নারীর ক্ষেত্রেই সমাজের প্রতিটি মানুষ একেকজন বিজ্ঞ বিচারকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়। আর যদি হয় সেই নারী প্রতিষ্ঠিত এবং সফল, তাহলে তো কথাই নেই! ভালো থাকুক ন্যান্সি, এবং তার পরিবার। ভালো থাকুক প্রতিটি মানুষ। ফেসবুক থেকে

 

 

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত