প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] বাংলাদেশ থেকে ‘পাচার’ হয়ে আসা ইলিশে ভরপুর কলকাতার বাজার, প্রতি কেজি সাড়ে ৩ হাজার টাকা

মিনহাজুল আবেদীন: [২] পদ্মার সুস্বাদু ইলিশ পেতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন কলকাতার মানুষেরা। দুর্গাপূজা সামনে। সেখানে ইলিশ নিয়ে রীতিমতো কাড়াকাড়ি শুরু হয়েছে। ইলিশের স্বাদ চেখে দেখার বিনিময়ে অনেকেই সপরিবারে মাসের বাকি অংশ শুধু শাক-সবজি খেয়ে থাকতেও রাজি। তুমুল চাহিদার কারণে দামও আকাশছোঁয়া। প্রতি কেজি বিকোচ্ছে তিন হাজার রুপিতে, বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় সাড়ে তিন হাজার টাকা। বাংলাদেশের বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে ইলিশ পাচার হয়ে যাচ্ছে ভারতে।

[৩] কলকাতার লেক মার্কেটের এক মাছবিক্রেতা বলেন, ক্রেতারা দুই কেজির ইলিশ ছয় হাজার রুপির বেশি দিয়েও কিনছেন। এমনটি দেখে আমরাই অবাক হয়ে যাচ্ছি। অবশ্য এর স্বাদের গ্যারান্টি রয়েছে।

[৪] সুনির্মল অধিকারীও এ ধরনের ইলিশপ্রেমী। চড়া দামে তিনি দেড় কেজির একটি ইলিশ কেনা থেকে নিজেকে বিরত রাখতে পারেননি। যদিও কালিঘাটের ওই শিক্ষক ঠিকই জানতেন, এতো দামে ইলিশ কিনলে মাসের বাকি দিনগুলো হয়তো শুধু ডিম আর শাকসবজি খেয়েই কাটাতে হবে। তিনি বলেন, নিজেকে সামলাতে পারিনি। রূপালী ইলিশ দেখেই আমার মুখে লালা চলে এসেছিলো। আমি নিশ্চিত এর স্বাদ স্বর্গীয় হবে।

[৫] সীমান্তের দুই পাশেই বিপুল জনপ্রিয়তা থাকা ইলিশ ভারত-বাংলাদেশের মধ্যকার কূটনীতির অন্যতম হাতিয়ার হয়ে উঠেছে। পশ্চিমবঙ্গ সরকার তিস্তা নদীর পানি বণ্টন চুক্তির বিরোধিতা করার পর ২০১২ সালে ভারতে ইলিশ রপ্তানি নিষিদ্ধ করে বাংলাদেশ। সেই নিষেধাজ্ঞা এখনো বহাল। তবে গত বছর দুর্গাপূজা সামনে রেখে ভারতে ১ হাজার ৪৭৫ মেট্রিক টন ইলিশ রপ্তানির অনুমতি দিয়েছিলো সরকার। কিন্তু এ বছর পূজা ঘনিয়ে এলেও এখনো অব্দি ইলিশ পাঠানোর কোনো ইঙ্গিত নেই। এ অবস্থায় কলকাতাবাসীর রসনাবিলাসের একমাত্র ভরসা হয়ে উঠেছে পাচার হয়ে যাওয়া ইলিশ।

[৬] মাছ বিক্রেতাদের বরাতে টাইমস অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, কলকাতায় বেশিরভাগ ইলিশ যাচ্ছে নদীপ্রধান আঙ্গরাই-হাকিমপুর সীমান্ত দিয়ে। উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি সীমান্ত দিয়েও পাচার হচ্ছে কিছু। সম্প্রতি ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ তাদের একটি সীমান্তচৌকিতে বিপুল পরিমাণ ইলিশ জব্দ করেছে। সম্পাদনা: হাসান হাফিজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত