প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আনোয়ার শাহাদাত: ইংরেজি অভিধানে প্রথম যে সব ভারতীয় শব্দ যোগ হয়েছিল

আনোয়ার শাহাদাত: ইংরেজি অভিধানে প্রথম যে সব ভারতীয় শব্দ যোগ হয়েছিল তাদের মধ্যে অন্যতম হলও “লুট”। অক্সফোর্ড অভিধানের ব্যাখ্যা অনুযায়ী এই শব্দ উত্তর ভারতের বাইরে কোথাও প্রচলিত ছিল না। শব্দটি ইংরেজিতে যোগ হয় সে ভারতে ‘ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির লুট’তরাজ বিষয়ে! যদিও সে ঠিক তারাই যে লুট-তরাজ করছে সে অর্থে নয়। এ তথ্য দিয়েছেন উইলিয়াম ড্যালরিম্পল, তার ২০১৯এ প্রকাশিত বই “দ্যা এ্যানার্কি”তে (অরাজকতা?)। বইয়ের বর্ধিত নাম আছে, তা হলও- ‘দ্যা রিলেন্টলেস রাইস অফ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি’।

‘লুট’এর ধারণা ও শব্দ হিসাবে ভারতউপমহাদেশবাসীদের খুব পছন্দ ! সে বেঙ্গল ও পাকি সহ সবারই এই উপমহাদেশে কম বেশি তা পছন্দের। দেশের (বাংলাদেশ) সংবাদ মাধ্যম গুলোতেও দেখে থাকি তারা প্রায়শই একটা ‘পরিভাষা’ ব্যবহার করে থাকে, তা হলও- “ব্যাংক লুট”, “সরকারী অর্থ লুট”, “সাহিত্য পুরস্কার লুট”, “চলচ্চিত্রের নামে যাবতীয় লুট” (ইত্যাদি এবং ইত্যাদি “লুট”)।

আমার ধারণা, সে অক্সফোর্ড অভিধান কর্তৃপক্ষ বা বাংলাদেশের গণমাধ্যম ‘মিডিয়া’, ‘লুট’ শব্দের প্রাণ-অংশ বাদ দিয়ে থাকে ! যদিও তাতে করে, অর্থাৎ ‘লুট’ শব্দের ওই ধারনার ব্যাপ্তির বিস্তৃতি ঘটে থাকে তারা যদি আর একটি ‘অগ্রউপস্থান’এ (প্রিফিক্স) ব্যবহার করে; তা হলও, লুট শব্দের আগে ‘হরি’ শব্দ বসিয়ে; অর্থাৎ “হরিলুট” ! জানি যেহেতু ‘হরি’র মৌলে যেহেতু ‘হিন্দুয়ালী’ ধারণা জড়িত সেই হেতু হয়ত ‘হরিলুট’ শব্দের যথেচ্ছার ব্যবহার হয়ে থাকে না। এবং যদি তা হয় অর্থাৎ ‘হরি’ প্রিফিক্স (অগ্রউপস্থাপন) করা হয়ে থাকে তবে ওই ‘হরিলুট’ আর ‘লুট’ সমান অর্থ বহন করে না। এর এক বিস্তর তফাৎ তৈরি হয়!!
শুনে থেকেছি ঢাকায়- চলচ্চিত্র বা সিনেমা বানাতে এলে নাকি শতভাগ সম্ভাবনাই হচ্ছে এই ধারণার প্রয়োগ; এবং ‘লুট’, ও ‘হরিলুট’এর সাক্ষাৎ ‘সাক্ষাৎ’ পাওয়া যাবে। কেননা তখন নাকি যিনি চলচ্চিত্র বানাচ্ছেন তিনিও নাকি কোনও না কোনও ভাবে ওই সব ‘লুট’ বা ‘হরিলুটের’ অংশীদার! হাঃ হাঃ হাঃ। [ এ নিশ্চয়ই এক কামোত্তেজক [ইরোটিক) অভিব্যক্তি ও অনুভূতি বটে!

এই প্রসঙ্গে এখন আমি দশ থেকে তেরো মিনিট হাসব  সে হাসি হলোওগে আমার অধিকার! আমার নাগরিক অধিকার এবং অন্তত দশ থেকে তেরটি দীর্ঘ চুমুক আমার কনিয়াকের স্নিফিং গেলাসে কক্ষ তাপমাত্রায় স্ট্রেইট চুমুকাবো, কেনোনা আমি এরপর তর্ক সাপেক্ষে এই ‘হরিলুট নিয়মে’; ভারতের প্রধান প্রফেট (নবী) সম চলচ্চিত্রকার ঋত্বিক ঘটক ও সত্যজিৎ রায়কেই জড়াব এই বলে যে তারাও তাহলে হয়ত হতে পারে [বা হতে পারত] কোনওনা কোনও ভাবে ওই সব ‘লুট’ বা ‘হরিলুট’এর অংশ!! [আমেন]।

কোলকাতার বা পশ্চিম বাংলার কথা জানি না; তবে ঢাকার কথা শুনে পরে বুঝতে পারি যে, আজ যদি ঋত্বিক বাবু কী সত্য বাবু ঢাকায় ছবি বানাতেন তবে নাকি তারা ওই সব লুট ও হরিলুটের অংশীদার হতেনআনে!!!

চিয়ার্স! জীবন হলও গে- সব অর্থ সমূহের অর্থহীনতার অর্থবহ অর্থ ! আর বেঁচে থাকা হচ্ছে বিষাদ নয়, সে বরং আনন্দ (!)। মহানন্দ; সেই সব আমার মরে যাওয়া উচিৎ অভিশাপদের দিব্যি পাশ কাটিয়ে ওই ‘মহানন্দে’ বেঁচে থাকা …

[নার্গিসের উপর মেজাজ খারাপ হচ্ছে, তার চেয়েও বেশি ইউসুফ খা’র উপর (দিলীপ কুমার) এর উপর আসলে তার চেয়েও অধিক সঞ্জয় দত্তের বাপ সুনীল দত্তের উপর!  এখন থেকে সত্তুর বছর আগে তার (নার্গিস) চুল কাটা স্টাইলটাই মেজাজ খারাপের যথেষ্ট কারণ… সাথে শামসাদ বেগমের গান…  মেজাজ সম্পুর্ন খারাপ… রবিবার সাঁঝের কাল হচ্ছে যাবতীয় মেজাজ খারাপের উত্তম সময়…

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত