প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সেলিম রেজা নূর: ধর্মীয় কুপমুন্ডকতা ও অপ-সাংবদিকতার বিরুদ্ধে সোচ্চার কন্ঠ সিরাজুদ্দীন হোসেন

সেলিম রেজা নূর: আমাদের পিতা, শহীদ সাংবাদিক সিরাজুদ্দীন হোসেন ১৯৬৯-৭০ সালে দৈনিক ইত্তেফাকে ‘মঞ্চে নেপথ্যে’ নামে একটি কলাম লিখতেন। নতুন প্রজন্মের জন্য সেই কলাম থেকে কিছু অংশ উদ্ধৃত করছি।

‘‘মুসলমানদের মুসলমানত্ব সংরক্ষণের পবিত্র দায়িত্বটুকু যেন জাতি কেবল ঐ দুইটি পত্রিকার উপরই ন্যস্ত করিয়াছে। ‘ছায়ানটের’ পুরস্কার বিতরণী সভায় বর্ষের সেরা শিক্ষার্থীত্রয়কে ‘পঞ্চবস্ত্র’ উপহার প্রদান করা হইয়াছে বলিয়া একটি ‘বিশ্বস্ত’ পত্রিকার খবর প্রকাশিত হইল। আর সঙ্গে সঙ্গে চায়ের পেয়ালায় তুফান সৃষ্টি হইল। পরে দেখা গেল, হিন্দু শাস্ত্রের ‘পঞ্চবস্ত্র’, ‘পঞ্চপান্ডব’, ‘দ্রৌপদী’ প্রভৃতি কত-না কেচ্ছা পত্র-আকারে উক্ত পত্রিকাটি অঙ্কে ধারণ করিয়া এই অঞ্চলের বিদগ্ধ এই সাংস্কৃতিক জোটটির বিরুদ্ধে সমানে কুৎসা প্রচার চলিতেছে।  ইহারই সুত্র ধরিয়া অপর একটি পত্রিকায় কেবল চিঠিপত্রে নয়, এমনকি উপসম্পাদকীয় কলামে ‘ছায়ানট’ সম্প্রদায়ের নিকুচি করা হইল। তাহাদের প্রচারের ধারা দেখিয়া মনে হইতেছিল, ছায়ানটের সহিত সংশ্লিষ্ট বিদগ্ধ মহলটি মুসলমানত্ব খারিজ করিয়া রাতারাতি যেন হিন্দু বনিয়া গিয়াছে,……………কিন্তু দুই দুইটি পত্রিকার গুরুতর অভিযোগের মুখে কোন মহল হইতে যখন প্রকৃত অবস্থা যাচাইর ব্যবস্থা হয়, তখন দেখা যায়, পত্রিকা দুইটি কেবল শুন্যেই ছড়ি ঘুরাইয়াছে। অর্থাৎ, আদতে ‘ছায়ানট’ তাদের কৃতি শিক্ষার্থীত্রয়কে যে উপহার দেন, তাহার সহিত একখানি করিয়া চাদর উপহার দেওয়া হইয়াছিল। কিন্তু সংশ্লিষ্ট পত্রিকার ষ্টাফ রিপোর্টার উহাকে পট্টবস্ত্র বলিয়া উল্লেখ করায় বিভ্রাট ঘটে। ছাপার পর দেখা যায় ‘পট্টবস্ত্র’‘পঞ্চবস্ত্র’ হইয়া বসিয়া আছে। আর একবার যখন ছাপার অক্ষরে বাহির হইয়াছে অতএব উহা সত্য না হইয়া যায় না ধরিয়া লইয়া অতি-উৎসাহীর দল আদাজল খাইয়া লাগিয়া যান ‘ছায়ানটের’ সদস্যগণকে হিন্দু ঘেঁষা হিন্দুয়ানী কাজ-কারবারে আসক্ত বলিয়া প্রতিপন্ন করিতে।

কেবল তাহাই নহে। হালে ঢাকায় ‘ধ্রুপদী’ নামে যে সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানটি গঠিত হইয়াছে, তাহাকে লইয়াও সেই একই অবস্থার সৃষ্টি করা হইয়াছে। কোন কোন ‘দেশভক্ত’ অতি-মুসলমান সরকারী মহলে খবর পৌঁছিয়াছেন যে, এ অঞ্চলের মানুষ এমন করিয়াই আজ হিন্দুদের অন্ধ অনুকরণ করিয়া চলিয়াছে যে, সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের নামও তাহাঁরা ‘দ্রৌপদী’ রাখা সমীচীন মনে করে। বলা বাহুল্য, তাঁহাদের এ অভিযোগটিও ধোঁপে টেকে নাই। প্রকৃত প্রস্তাবে, রাগ-রাগিনী লইয়া যাহাদের কারবার, তাহাদেরই একটি সংস্থা লক্ষ্যের সহিত সঙ্গতি রাখিয়াই উহার ‘ধ্রুপদী’ নামকরণ করিয়াছেন। উহাকে কদর্য করিয়া ‘অতি-উৎসাহী’ সজ্জন ব্যক্তিরা কি বুঝাইতে চাহেন, তাহা তাঁহারাই জানেন। তবে আমরা কেবল এইটুকুই বুঝি যে, বাঙ্গালী হিসাবে আমাদের যাহা চরিত্র, ইহা তাহারাই ফলশ্রুতিমাত্র।”

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত