শিরোনাম
◈ যুক্তরাষ্ট্রে ইতিহাস গড়লেন ২৭ বছর বয়সী মুসলিম তরুণী নাবিলা সৈয়দ, হারালেন রিপাবলিকান প্রার্থীকে ◈ ২০২৭ সালের সম্ভাব্য সরকারি ছুটির ২৯ দিনের তালিকা দেখুন ◈ তাহসিফ হত্যা মামলা: দিশার ফের ৩ দিনের রিমান্ড, তদন্তে মিলছে যে নতুন তথ্য ◈ আরও ছয়জনের মৃত্যু হাম উপসর্গে ◈ দুই দিন পরই আবার বাড়ল স্বর্ণের দাম ◈ শেখ হাসিনার সাবেক তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী আটক ◈ বৃহস্পতিবার রাত থেকে ২৪ ঘণ্টা বন্ধ থাকতে পারে ডেসকোর প্রি-পেইড মিটার রিচার্জ, প্রযোজ্য যাদের জন্য ◈ ডিসেম্বরে পোশাকশ্রমিকদের বর্ধিত মজুরি চূড়ান্ত হবে, জানুয়ারিতে পাবেন বাড়তি বেতন ◈ মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে চাপে বাংলাদেশের এভিয়েশন খাত, ঝুঁকিতে ফ্লাইট ও প্রবাসী যাত্রী পরিবহন ◈ বিশ্বকা‌পে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচে টিকিটের আবেদন ৮৪ লাখ, আসন মাত্র ৩৪ হাজার

প্রকাশিত : ০৬ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ০৪:৩৯ দুপুর
আপডেট : ০৬ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ০৪:৪০ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

[১] অভিমানে ঘর ছাড়ার ২৩ বছর পর ঘরে ফিরছেন মা আমেনা খাতুন

আব্দুল্লাহ মামুন: [২] প্রায় ২৩ বছর আগে বগুড়ার ধুনট উপজেলার মাজবাড়ি গ্রামের আমেনা খাতুন নিখোঁজ হন। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তাঁর সন্ধান পাননি স্বজনেরা। তাঁরা ধরে নেন, আমেনা মারা গেছেন। বহু ঘটনার পর সোমবার তিনি নেপাল থেকে দেশে ফিরলেন। বেলা একটার দিকে একটি ফ্লাইটে করে তিনি বাংলাদেশে পৌঁছান। আনুষ্ঠানিকতা শেষে তাঁকে তাঁর স্বজনদের কাছে দেওয়া হবে।

[৩] স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ধুনট উপজেলার নিমগাছি ইউনিয়নের মাজবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা আমেনা খাতুন স্বামী-সন্তানদের সঙ্গে অভিমান করে বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। এরপর থেকে আর কোনো খোঁজ মেলে নি আমেনার। ৫৮ বছর বয়সে নিখোঁজ হওয়া আমেনাকে মৃত-ই ধরে নিয়েছিলেন স্বজনরা। সন্তানদের জাতীয় পরিচয়পত্রেও মাকে মৃত হিসেবেই উল্লেখ করেছেন তারা।
[৪] বাংলাদেশ দূতাবাস সূত্র জানিয়েছে, গত ৩০ মে ৮০ বছর বয়সী আমেনা খাতুনকে নেপালের রাজধানী কাঠামুন্ডু থেকে ৪৫০ কিলোমিটার দূরে সানসুরি জেলার ইনারুয়া পৌরসভা এলাকায় রাস্তার পাশ থেকে উদ্ধার করেন পৌরকর্মীরা। আমেনা প্রায় ১৫/২০ বছর ধরে ওই এলাকায় বাসাবাড়ি ও রেস্টুরেন্টে শ্রমিকের কাজ করতেন। বয়সবৃদ্ধি ও অসুস্থ্যতায় কাজ না পেয়ে তিনি রাস্তায় কিংবা মার্কেটে অবস্থান করছিলেন। ডিবিসি টিভি।

[৫] নেপালের এক ব্যক্তি তার ফেসবুকে বিষয়টি পোস্ট করেন। ওই পোস্টে তিনি আমেনাকে বাংলাদেশি বলে উল্লেখ করেন। পোস্টটির কমেন্টে নেপালে বাংলাদেশ ইয়ুথ কনক্লেভের চেয়ারম্যান অভিনাভ চৌধুরী বাংলাদেশ দূতাবাসের কনস্যুলারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। এরপর বাংলাদেশের একটি গোয়েন্দা সংস্থার সহযোগিতায় বগুড়ার ধুনটে তার পরিবারের খোঁজ মেলে। আমেনা খাতুনকে দেশে আনতে বিমানভাড়াসহ যাবতীয় খরচ বহন করেছে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র।

[৬] আমেনা খাতুনের বড় ছেলে আমজাদ হোসেন বলেন, ‘তিন মাস আগে সরকারের একটি গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তাদের মাধ্যমে জানতে পারি, নেপালে আমাদের মাকে পাওয়া গেছে। এরপর আমরা তাঁকে সরকারি খরচে দেশে ফেরানোর জন্য আবেদন করি। নেপালে বাংলাদেশের দূতাবাস তাকে দেশে ফেরানোর উদ্যোগ নেয়। কিন্তু করোনা ও লকডাউনের কারণে মায়ের দেশে ফেরা দেরি হয়।

[৭] ইতোমধ্যে নেপালে বাংলাদেশি দূতাবাসের সহযোগিতায় মুঠোফোনে ভিডিও কলে মায়ের সঙ্গে আমরা কথা বলেছি। তিনি আমাদের চিনতে পেরেছেন। আমরাও তাকে চিনেছি।’ মাকে আনতে তারা চার ভাইবোন ও স্বজনেরা মাইক্রোবাস ভাড়া করে ঢাকায় এসেছেন। যে মা সবার কাছে মৃত হয়ে গিয়েছিলেন, সেই মাকে এত বছর পর ফিরে পাওয়ার আনন্দ-অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়, বললেন তিনি। প্রথম আলো। সম্পাদনা: জেরিন আহমেদ

 

  • সর্বশেষ