প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১]সেনা অভূত্থানে ক্ষমতাচ্যুত গিনির প্রেসিডেন্ট, রাজধানীতে জনগণের উল্লাস

লিহান লিমা: [২] অভ্যূত্থানের পর কারফিউ ঘোষণা করে জারি করা এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত দেশটির আঞ্চলিক গর্ভনরদের স্থলে সেনা কর্মকর্তারা দায়িত্ব পালন করবেন। আল জাজিরা

[৩] এর আগে রাষ্ট্রীয় টিভিতে দেয়া এক বিবৃতিতে সেনাবাহিনী গণতন্ত্র পুনরুদ্ধানের অঙ্গীকার করে। কর্ণেল মামাদি ডুম্বুয়া বলেন, একজন সৈনিকের কর্তব্য হলো দেশকে বাঁচানো।’ তিনি এবং আরো ছয়জন সেনা এই সময় ইউনিফর্ম এবং জাতীয় পতাকা মুড়িয়ে টিভির সামনে আসেন। তিনি বলেন, ‘রাজনীতির ব্যক্তিগতকরণের অবসান ঘটেছে। আমরা আর একজন ব্যক্তির কাছে রাজনীতি হস্তান্তর করবো না, আমরা তা জনগণের কাছে অর্পণ করবো।’ সামরিক বাহিনীর একটি বিশেষ ইউনিটের প্রধান ডুম্বুয়া বলেন, তিনি দেশটির ১ কোটি ২৭ লাখের বেশি মানুষের সর্বোত্তম স্বার্থে কাজ করছেন। তিনি বলেন, ‘১৯৫৮ সালে ফ্রান্সের কাছ থেকে স্বাধীনতার পর এখন পর্যন্ত দেশের পর্যাপ্ত অর্থনৈতিক অগ্রগতি হয় নি। আপনি যদি আমাদের রাস্তার অবস্থা দেখেন, হাসপাতালের চিত্র দেখেন তাহলে বুঝতে পারবেন ৭২ বছর পর জেগে ওঠার সময় হয়েছে। আমাদের জাগতে হবে।’

[৪] গিনির সাংবাদিক ইউসুফ বাহ আল জাজিরাকে বলেন, জাতীয় টেলিভিশনে সেনাবাহিনীর মন্তব্যের পর বিরোধী সমর্থকরা রাস্তায় নেমেছে এবং হাজার হাজার যুবক তাদের স্বাগত জানিয়ে অভ্যূত্থান উদযাপন করছে। বাহ ডুম্বুয়াকে ‘ প্রেসিডেন্ট গার্ডের মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় সামারিক কর্মকর্তা’ বলে মন্তব্য করেন। তিনি আরো বলেন, পুরো দেশই বিভক্ত। একদল অভূত্থান সমর্থন করছে এবং অন্য অংশে বিভিন্ন গোষ্ঠির মধ্যে সংঘর্ষ রয়েছে। সুতরাং ঠিক কি ঘটছে তা বোঝা খুব কঠিন।

[৫] এর আগে রোববার দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সংক্ষিপ্তভাবে জানায় সেনা অভ্যূথান নস্যাৎ করা হয়েছে। এর কিছুক্ষণ পরই সামাজিক মাধ্যমে এক ভিডিওতে প্রেসিডেন্ট আলফা কনডেকে সৈন্যদের দ্বারা ঘেরাওকৃত অবস্থায় দেখা যায়। তার অবস্থান অস্পষ্ট ছিলো।

[৬] কনডে ২০১০ সালে গিনির প্রথম গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট হন। ২০২০ সালের মার্চে নতুন সংবিধান প্রণয়নের পর গত অক্টোবরে সহিংস ্ও বিতর্কিত নির্বাহনে কনডে তৃতীয়বারের মতো প্রেসিডেন্ট পদে জয়লাভ করেন যা তাকে দেশটির দুই মেয়াদেও প্রেসিডেন্সির সীমা পেরোনোর অনুমতি দেয় এবং ব্যাপক বিক্ষোভ সৃষ্টি হয়। বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে নিহত হন কয়েক ডজন, গ্রেপ্তার হন শতশত। কনডের শাসনে গিনি বাক্সাইট, লৌহ আকরিক, স্বর্ণ এবং হীরক সম্পদেও জন্য টেকসই অর্থনেতিক প্রবৃদ্ধি দেখলেও এর থেকে লাভবান হয়েছে গুটিকয়েক কিছু গোষ্ঠি।

[৭] জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তনিও গুতেরেস উদ্বেগ ও নিন্দা ব্যক্ত করে কনডের অবিলম্বে মুক্তির দাবী জানান। পশ্চিম আফ্রিকান রাজ্যগুলোর অর্থনৈতিক সংস্থা (ইসিওডব্লিউএএস) নিষেধাজ্ঞারোপের হুমকি দেয়। যুক্তরাষ্ট্র বলছে, সংবিধান বহির্ভূত এমন পদক্ষেপ গিনির শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং সমৃদ্ধির সম্ভাবনাকে নষ্ট করবে।

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত