প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] রাজশাহী মেডিকেলে গাছ কাটায় শত শামুকখোল ছানার মৃত্যু, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস

মঈন উদ্দীন: [২] রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতাল চত্বরে অর্জুন গাছটির ডালে ডালে বাসা বেঁধে ছিল শামুকখোল পাখি। ফুটিয়েছিলো শতাধিক ছানা। আকাশে ডানা মেলার অপেক্ষায় ছিল ছানাগুলো। সেই অপেক্ষার শেষ হয়েছে মৃত্যু ঘণ্টায়।

[৩] শনিবার (৪ মেপ্টেম্বর) দুপুরের পর গাছটি কেটে ফেলা হয়। গাছ পড়ার সঙ্গে সঙ্গে বেশির ভাগ ছানা মারা যায়। যেগুলো বেঁচে ছিলে, সেগুলো জবাই করে নিয়ে যান হাসপাতালের নির্মাণ শ্রমিক ও রোগীর স্বজনেরা।

[৪] এই হাসপাতালের গাছগুলোতে বরাবরই প্রজনন মৌসুমে শামুকখোল পাখিরা এসে বাসা বেঁধে বাচ্চা ফোটায়। হাসপাতাল চত্বরের যে গাছগুলোর আশপাশে মানুষের আনাগোনা বেশি, সেগুলোতেই পাখিরা বেশি বাসা বাঁধে। পাখি বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পাখিরা মানুষের সহানুভূতি পেতে তাদের নাগালের মধ্যেই বাসা বাঁধে।

[৫] গত বছর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পাখির বিষ্ঠার কারণে পরিবেশ নষ্ট হওয়ার অজুহাতে কিছু গাছের ডালপালা কেটে দিয়েছিল। তারপরও পাখিরা হাসপাতাল ছেড়ে যায়নি। গাছ কাটার ঘটনায় রাজশাহীর পাখিপ্রেমীরা তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। এরপর পাখিরা বাচ্চা ফুটিয়ে চলে যাওয়ার সময় পেয়েছিলো।

[৬] প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, হাসপাতালের সামনে নালা নির্মাণের কাজ চলছে। সেখানেই কাটা হয়েছে গাছটি। বিকেলে গিয়ে সেখানে ২০ থেকে ৩০টি মৃত পাখির বাচ্চা পড়ে থাকতে দেখা গেছে।

[৭] রোগীর এক স্বজন জানান, তিনি কয়েকজন শ্রমিককে অন্তত ৩০টি পাখির বাচ্চা বস্তায় ভরে নিয়ে যেতে দেখেছেন। রোগীর স্বজনেরাও কিছু বাচ্চা কুড়িয়ে নিয়ে গেছেন।

[৮] বাংলাদেশ বার্ড ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা ইনাম আল হক জানান, এই বাচ্চাগুলো আর দুই সপ্তাহ সময় পেলেই উড়ে চলে যেত। প্রকৃতির স্বাস্থ্যের ওপরই মানুষের স্বাস্থ্য নির্ভর করে। প্রকৃতি সুস্থ না থাকলে মানুষ বাঁচতে পারবে না। আর কদিন পর গাছটি কাটা হলে পাখির ছানাগুলো প্রাণ হারাত না।

[৯] হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী বলেন, এটা কেন হলো, সেটাও তিনি খতিয়ে দেখবেন। আর এ ধরনের ঘটনা যাতে না ঘটে, সে জন্য তিনি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন। সম্পাদনা: হ্যাপি

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত