শিরোনাম
◈ শিলাবৃষ্টি ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ◈ না ফেরার দেশে অভিনেতা শামস সুমন ◈ ইরান-ইসরাইল-মার্কিন যুদ্ধে ভারতের ওপর ৫০ বিলিয়ন ডলারের ধাক্কা ◈ বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে বরফ গলছে! ◈ যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব নাকচ, কঠোর অবস্থানে মোজতবা খামেনি ◈ এক দশকে বাংলাদেশের অর্ধেক তরুণ চাকরি পাননি: বিশ্বব্যাংক ◈ নববর্ষে চালু হচ্ছে কৃষক কার্ড, প্রথম ধাপে ২১ হাজার কৃষক পাচ্ছেন সহায়তা ◈ ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা লারিজানিকে হত্যার দাবি ইসরায়েলের ◈ মশক নিধনে ঢাকার দুই সিটিকে কঠোর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর, বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় দেশীয় প্রযুক্তিতে জোর ◈ ঈদযাত্রায় বেশি ভাড়া নিলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে : আইজিপি

প্রকাশিত : ০৪ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ১০:২৬ দুপুর
আপডেট : ০৪ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ১০:২৬ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ভেড়ামারায় কোল সম্প্রদায়ের মানবেতর জীবনযাপন

ইসমাইল হোসেন: আদিবাসী একগোষ্ঠী কোল সম্প্রদায়। যাদের জীবন কাঁটে বেদেদের মতো রাস্তায়-রাস্তায়। এদের কথা কেউ শোনে না। অন্যের জায়গায় তাদের বসবাস। কালের প্রবাহ তারা তাদের বৈচিত্রপূর্ণ জীবনের অনেক কিছু হারিয়ে ফেললেও ঐতিহ্যবাহী বাঁশ ও বেত শিল্পের পৈত্রিক পেশা আঁকড়ে ধরে আছে এখনও।

এরা পুরুষের মতোই মহিলারা ভিষণ পরিশ্রমী কিন্তু মজুরী পায় অর্ধেক। এরা নিজেদের গোত্রের অল্প বয়সের ছেলে-মেয়েদের বিয়ে দেয়। এদের প্রিয় খাদ্য বাঁদুরের মাংস। তাদের নাচ গানেরও রয়েছে অনেক খ্যাতি। দু’মুঠো ভাতের জন্য তারা কাঁক ডাকা সকাল থেকে শুরু করে গভীর রাত পর্যন্ত পৈত্রিক কর্মে ব্যস্ত থাকে।

বিভিন্ন কারণে বর্তমান কোলেরা চরম মানবেতর জীবনযাপন করছে। ভেড়ামারা পৌর এলাকা আর্দশ কলেজের পিছনে ও মিরপুর পৌর এলাকা রেলওয়ে ষ্টেশনের সন্নিকটে সরকারি পরিত্যক্ত জায়গায় প্রায় ৫০টি পরিবার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসছে। তারা বেত ও বাঁশের বিভিন্ন জিনিসপত্র তৈরী করে গ্রামে- গ্রামে বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করে।

কোলদের রয়েছে ৭/৮ টি করে সন্তান। তাদের আহার যোগাতে ও ভবিষ্যৎ চিন্তা করে স্বামী-স্ত্রী উভয়ই জীবন সংগ্রামে নেমেছে। আদিবাসী কোল সম্প্রদায় সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কঠিন হাঁড় ভাঙা পরিশ্রম করে।

তারা তৈরী করছে বাঁশের বিভিন্ন সামগ্রী, যেমন শরপোস, ঝুড়ি, চালন, ফলের খাঁসি ইত্যাদি। এগুলো গ্রাম গঞ্জে বিক্রি করতে গিয়ে ন্যায্য মূল্য পাচ্ছে না।

ভক্ত চন্দ্র বেদ, শ্রীমিত ভীম চন্দ্র বেদ ও গুরূপদ বেদের সঙ্গে কথা হয়। তারা জানায়, বর্তমানে প্লাষ্টিকের তৈরি বিভিন্ন জিনিস বাজারে স্বস্তা দরে বিক্রি হচ্ছে। ফলে বাঁশের তৈরী বিভিন্ন জিনিসের কঁদর কমে গেছে। যার কারণে আয় রোজগারও কমে গেছে।

এ কারণে আদিবাসী কোলো এই পৈত্রিক পেশার পাশাপাশি মহিলা পুরুষের মতোই অনেকেই ক্ষেত মজুর কাজে নিয়োজিত। কিন্তু এখানেও রয়েছে নানা রকম বৈষম্য। অনিতা রাণী, রূপা রাণী ও সৌভাগ্য রাণী জানায়, ক্ষোভের কথা। তারা বলে, আমরা সারাদিন হাঁড় ভাঙা পরিশ্রম করি। কিন্তু আমাদের মজুরী জোটে পুরুষের মজুরীর চেয়ে অর্ধেক। এতে করে সংসার চলে না। ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়া শিখাবো কি দিয়ে?

কোল পট্টিতে লোক সংখ্যা প্রায় ৩শ’ জন। খোঁজ নিয়ে জানাযায় ভোটার লিষ্টে প্রায় দেড়শ জনের নাম রয়েছে। এরা মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত। মাথা গুজার ঠাঁই নেই তাদের। এরা হিন্দু ধর্মালম্বী। পূঁজা করার জন্য একটি মন্দির থাকলেও অর্থের অভাবে মন্দির সংস্কার করতে পারছে না। নাঁচগান ও যাত্রাপালায় কোলের মেয়ে শাবানার ব্যাপক খ্যাতি রয়েছে। কেউ কেউ আবার সাপ ধরে সাপের খেলা দেখিয়ে অর্থ উপার্জন করে জীবন ধারণ করছে।

পূর্বে এরা যাযাবর অবস্থায় বসবাস করতো। আলো রাণী, পদ্মা রাণী, চম্মা, ঝর্ণা, আঁখি, অঞ্জু ও জয়ন্তী রাণীসহ আরো অনেকেই চোঁখের জল ফেলে বলেন কেউ তাদের সাহায্য সহযোগিতা করে না। তাদের ভাস্য ভোটের সময় চেয়ারম্যান মেম্বর নানা প্রলোভন দেখিয়ে উন্নয়নের আশ্বাস দিয়। কিন্তু ভোট শেষে কেউ আর তাদের খোঁজ রাখে না। সম্পাদনা: হ্যাপি

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়