প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] উল্লাপাড়ায় গৃহবধূকে দলবদ্ধ ধর্ষণ মামলার মূল আসামি গ্রেপ্তার

রায়হান আলী: [২] সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় আলোচিত গৃহবধূ  দলবদ্ধধর্ষণ মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। ঘটনার ১০ দিন পর ঘটনার মূল আসামি আব্দুল হাইকে (৫২) গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

[৩] বুধবার (১ সেপ্টেম্বর) রাতে রাজশাহী জেলার চারঘাট থানাধীন নন্দনগাছী বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আব্দুল হাই উল্লাপাড়া উপজেলার পঞ্চক্রোশী ইউনিয়নের ভদ্রকোল গ্রামের মৃত ময়ান আলীর ছেলে।

[৪] বৃহস্পতিবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুরের দিকে উল্লাপাড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দীপক কুমার দাস সাংবাদিকদের এসব তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, আব্দুল হাই এ ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী। জিজ্ঞাসাবাদে অপরাধ স্বীকার করে রোমহর্ষক এই ঘটনার দিয়েছেন আব্দুল হাই। সলপ রেলওয়ে স্টেশনে ট্রেনের জন্য বসে থাকা ওই গৃহবধুকে তিনিসহ তিনজন মিলে কৌশলে ভ্যানযোগে তুলে নিয়ে যায়। বেতকান্দি তালতলা নির্জন এলাকায় নিয়ে গিয়ে রাত ৮টা থেকে ১০টা পর্যন্ত যথাক্রমে বকুল, আব্দুল হাই, আমিরুল, ফরিদুল ও দুলাল ধর্ষণ করে। পরে আমিরুল সেখান থেকে ওই গৃহবধুকে আরও কিছু দূরে বেতকান্দি আমবাগানে নিয়ে যায়। সেখানে অন্তত ৫/৭ জন ব্যক্তি মিলে রাতভর পালাক্রমে ধর্ষণ করে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।

[৫] ওসি দীপক কুমার দাস আরও বলেন, ওই গৃহবধুকে পৃথক স্থানে দুই দফায় ধর্ষণ করা হয়েছে। প্রথম দফার ধর্ষকদের পরিচয় জানা গেছে। দ্বিতীয় দফায় কতজন ছিল সেটা আমিরুলকে গ্রেপ্তারের পরই জানা যাবে। তবে ধারণা করা হচ্ছে সেখানেও ৫/৭ জন মিলে ধর্ষণ করেছে। বাকী আসামীদের সনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশী অভিযান চলছে বলে তিনি জানান।

[৬] প্রসঙ্গত, ২২ আগষ্ট বিকেলে ওই গৃহবধু তার স্বামীকে নিয়ে বাবার বাড়ি যাওয়ার জন্য লোকাল ট্রেন ধরতে উল্লাপাড়া উপজেলার সলপ রেলওয়ে যান। স্টেশনের প্লাটফর্মের পাশে একটি চায়ের দোকানে তাকে রেখে তার স্বামী ভ্যানভাড়া পরিশোধের জন্য টাকা ভাঙাতে পাশের বাজারে যান। কিছুক্ষণ পর তার স্বামী ফিরে এসে গৃহবধুকে চা-স্টলে দেখতে পাননি।

[৭] পরদিন ২৩ আগস্ট সকালে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে বেতকান্দি গ্রামের একটি আমবাগানের মধ্যে অসুস্থ অবস্থায় গৃহবধুকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। গৃহবধু সুস্থ্য হওয়ার পর জানতে পারেন তাকে পালাক্রমে ধর্ষণ করা হয়েছে। ২৪ আগস্ট গৃহবধুর স্বামী বাদী হয়ে অজ্ঞাত পরিচয় ১০/১২ জনকে আসামী করে থানায় মামলা দায়ের করেন। সম্পাদনা: সঞ্চয় বিশ্বাস

সর্বাধিক পঠিত