শিরোনাম
◈ পর্যাপ্ত মজুতের পরও সার নিয়ে বিপাকে কৃষকরা ◈ সাজেকে ১৪ দিনের অবরোধে চরম খাদ্যসংকট, পর্যটন ও পরিবহন খাতে শতকোটি টাকার ক্ষতির শঙ্কা: সমাধান করবে কে? ◈ শ্রমিক আন্দোলন নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত বল প্রয়োগ নয়, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশ ◈ জিগাতলায় ২০০ কোটি টাকা ব্যয়ে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ১৮৪ ফ্ল্যাট নির্মাণের উদ্যোগ ◈ গাছতলায় ফেলে যাওয়ার ঘটনায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ, ৯৫ বছরের বাবাকে বাড়িতে নিলেন বড় ছেলে ◈ কিশোরগঞ্জে জামায়াত নেতা আখতারুজ্জামানের ছেলেকে ছুরিকাঘাত ◈ ১২ দেশে কর্মী পাঠাতে মন্ত্রণালয়ের পূর্বানুমোদন বাধ্যতামূলক, ছাড়পত্রে সরকারের কঠোর নির্দেশনা ◈ ৭ নভেম্বরের শোভাযাত্রায় নেতৃত্ব দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, পায়ে হেঁটে মানিকমিয়া এভিনিউ পর্যন্ত যাবেন ◈ জানুয়া‌রি‌তে বাংলাদেশ-ভারত সিরিজ? ◈ সংবাদ প্রকাশের কারণে সাংবাদিক ও সংবাদমাধ্যমের মালিক গ্রেপ্তারে লাগবে আদালতের অনুমতি

প্রকাশিত : ৩১ আগস্ট, ২০২১, ০২:২০ রাত
আপডেট : ৩১ আগস্ট, ২০২১, ০২:২০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

হাসান মাহবুব: বড় বড় দালানের আড়ালে দৃশ্যেরা হারিয়ে যায়, নতুন কোনো দৃশ্য আর জন্ম নেয় না!

হাসান মাহবুব : মিরপুর নাকি ইদানীং জাতে উঠছে। মেট্রোরেল, সিনেপ্লেক্স, ইন্টারন্যাশনাল ব্র্যান্ডের খাবার দোকান, আরও কতো কী! কিন্তু আমার কাছে মিরপুর এসবের চেয়েও বেশি কিছু। বিশেষ করে দশ নম্বর গোলচক্কর এবং আশপাশের এলাকা তো এক জাদুচক্র। আমার বাসা এক নম্বরে হলেও তিন বছর অফিস করেছি দশ নম্বর ফলপট্টির গলিতে। এমন ভাইব্রেন্ট আর বৈচিত্র্যময় জায়গাটা। আপনার ইচ্ছেখাতার সব বাসনা পূরণ করতে সেখানে ইচ্ছেবুড়ো প্রস্তুত। সকাল থেকেই সেখানে সিঙ্গারা পাওয়া যেতো। সকালের নাস্তার জন্যে ছিলো আল বারাকা অথবা মুসলিমের গরুর মগজ, কলিজা, নেহারি আর অবশ্যই পরোটা, ডালভাজি। দুপুর বেলায় ভ্যান নিয়ে একটা জুসের দোকান বসে যেতো গলিতে। সেখানে ছিলো সব ধরনের ফলের জুস আর কোল্ডকফি। বিকাল বেলায় সারি সারি খাবার ভ্যান দাঁড়িয়ে যেতো। সেই ভাজাভুজি তুলনাহীন। তবে বিশেষ করে বলতে হয় একটা বিশেষ দোকানের পুরির কথা। ছোট ছোট পুরি, তিন টাকা দাম, মানুষজন নিয়ে ৮-১০টা খেয়ে ফেলে। এত ভালো পুরি আর কোথাও খাইনি। কাছেই একটা দোকানে সরিষার তেলের তেহারি পাওয়া যেতো। অপূর্ব! পপাইয়ের একটা শাখা ছিলো, সেখানে ফাস্টফুড পাওয়া যেতো।

কাচ্চি বিরিয়ানির জন্য মুসলিম আর আল বারাকা তো ছিলোই, এখন আবার সুলতান্স ডাইনও এসেছে। চাইনিজ খেতে চাইলে ছিলো ঘরের ছোঁয়া রেস্টরেন্ট। হাবিজাবি না খেয়ে স্বাস্থ্যকর আর ফ্রেশ ফলমূল খেতে চান? আরে জায়গার নামই তো ফলপট্টি। যা চান, পাবেন। গোল চক্করের কাছে কিছু ফুলের দোকানও ছিলো। তিথির জন্য কতোবার ফুল নিয়ে গিয়েছি।
একবার হুট করে কোমড়ের বেল্ট ছিড়ে গেলো। কোনোমতে ওভারব্রিজ পার হয়ে ফুটপাত থেকে ১৫০ টাকা দিয়ে বেল্ট কিনে ইজ্জত বাঁচালাম। কুরিয়ার করা দরকার? সুন্দরবন, কন্টিনেন্টাল, এস আলম, সবই আপনার হাতের কাছেই। মাথা ব্যথা করছে? জ্বর জ্বর ভাব? প্যারাসিটামল লাগবে? অফিসের উল্টোদিকেই দুটো ফার্মেসি। অফিস শেষে বিলিয়ার্ড খেলতে যাবেন? সে ব্যবস্থাও আছে। জিম করবেন? কাছেই জিমনেসিয়াম। অক্সিমিটার লাগবে? প্রেসার মাপার যন্ত্র কিনবেন? অফিস যে বিল্ডিংয়ে, সেটার নীচতলাতেই সেই দোকান। কারো জন্মদিন? কেক কিনতে হবে?

টেস্টিট্রিটের দোকান ওদিকে। আর যা যা কিছু লাগবে তার জন্যে ওভারব্রিজের ওপাড়ে শাহ আলি মার্কেট তো আছেই। সবকিছুই ছিলো আমাদের অফিসের ১০০ মিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে। এতোকিছুর মধ্যে হঠাৎ কোনো এক অলস দুপুরে রোদের মধ্যে হাঁটতে বের হলে কখনো দেখতে পারেন জাদুকরের মতো ঝাঁপি নিয়ে চলে এসেছে কানের পোকা বের করার কবিরাজ। তার আশেপাশে ছোটখাট জটলা। আর এখন। মতিঝিলে অফিস। এখানে বড় বড় দালান আর যানবাহন ছাড়া কিচ্ছু নেই। মিরপুর ১০ নাম্বারের সেই প্রাণচাঞ্চল্য তো নেই’ই। সবকিছুই দূরে দূরে। বড় বড় দালানের আড়ালে দৃশ্যেরা হারিয়ে যায়, নতুন কোনো দৃশ্য আর জন্ম নেয় না! ফেসবুক থেকে

  • সর্বশেষ