শিরোনাম
◈ জুলাই জাদুঘরের ভাস্কর্য অপসারণে হেফাজতের দাবি, তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদ ◈ তারেক রহমানকে দিল্লির আমন্ত্রণ: কূটনৈতিক সৌজন্য, নাকি অন্য কোনো সমীকরণ ◈ ভিসা ব্যবস্থায় সংস্কার, বাড়ল শ্রেণি; নতুন নীতিমালা অনুমোদন ◈ বিদেশে শিক্ষার খরচ মেটাতে ডেবিট-ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের সুযোগ ◈ সিঙ্গাপুরে প্রবাসী ‘রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের’ সম্মাননা প্রদান করলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ◈ মা‌ঠে জিসান ঝড়, মালয়েশিয়াকে হোয়াইটওয়াশ করলো এইচপি ◈ বাংলা‌দেশ যুব দলের ইং‌লিশ কোচ জেরার্ডের ঘটনায় ব্রিবত বাফুফে ◈ আগামী ১২ আগস্ট বুধবার যেসব অঞ্চল থেকে পূর্ণ সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে ◈ স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও পোস্টার নিষিদ্ধ, বাড়ল জরিমানা: আচরণবিধি চূড়ান্ত ইসির ◈ আগামী ন‌ভেম্ব‌রে চার জাতির ফুটবল টুর্নামেন্ট আয়োজন করবে ইরাক

প্রকাশিত : ৩১ আগস্ট, ২০২১, ০২:২০ রাত
আপডেট : ৩১ আগস্ট, ২০২১, ০২:২০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

হাসান মাহবুব: বড় বড় দালানের আড়ালে দৃশ্যেরা হারিয়ে যায়, নতুন কোনো দৃশ্য আর জন্ম নেয় না!

হাসান মাহবুব : মিরপুর নাকি ইদানীং জাতে উঠছে। মেট্রোরেল, সিনেপ্লেক্স, ইন্টারন্যাশনাল ব্র্যান্ডের খাবার দোকান, আরও কতো কী! কিন্তু আমার কাছে মিরপুর এসবের চেয়েও বেশি কিছু। বিশেষ করে দশ নম্বর গোলচক্কর এবং আশপাশের এলাকা তো এক জাদুচক্র। আমার বাসা এক নম্বরে হলেও তিন বছর অফিস করেছি দশ নম্বর ফলপট্টির গলিতে। এমন ভাইব্রেন্ট আর বৈচিত্র্যময় জায়গাটা। আপনার ইচ্ছেখাতার সব বাসনা পূরণ করতে সেখানে ইচ্ছেবুড়ো প্রস্তুত। সকাল থেকেই সেখানে সিঙ্গারা পাওয়া যেতো। সকালের নাস্তার জন্যে ছিলো আল বারাকা অথবা মুসলিমের গরুর মগজ, কলিজা, নেহারি আর অবশ্যই পরোটা, ডালভাজি। দুপুর বেলায় ভ্যান নিয়ে একটা জুসের দোকান বসে যেতো গলিতে। সেখানে ছিলো সব ধরনের ফলের জুস আর কোল্ডকফি। বিকাল বেলায় সারি সারি খাবার ভ্যান দাঁড়িয়ে যেতো। সেই ভাজাভুজি তুলনাহীন। তবে বিশেষ করে বলতে হয় একটা বিশেষ দোকানের পুরির কথা। ছোট ছোট পুরি, তিন টাকা দাম, মানুষজন নিয়ে ৮-১০টা খেয়ে ফেলে। এত ভালো পুরি আর কোথাও খাইনি। কাছেই একটা দোকানে সরিষার তেলের তেহারি পাওয়া যেতো। অপূর্ব! পপাইয়ের একটা শাখা ছিলো, সেখানে ফাস্টফুড পাওয়া যেতো।

কাচ্চি বিরিয়ানির জন্য মুসলিম আর আল বারাকা তো ছিলোই, এখন আবার সুলতান্স ডাইনও এসেছে। চাইনিজ খেতে চাইলে ছিলো ঘরের ছোঁয়া রেস্টরেন্ট। হাবিজাবি না খেয়ে স্বাস্থ্যকর আর ফ্রেশ ফলমূল খেতে চান? আরে জায়গার নামই তো ফলপট্টি। যা চান, পাবেন। গোল চক্করের কাছে কিছু ফুলের দোকানও ছিলো। তিথির জন্য কতোবার ফুল নিয়ে গিয়েছি।
একবার হুট করে কোমড়ের বেল্ট ছিড়ে গেলো। কোনোমতে ওভারব্রিজ পার হয়ে ফুটপাত থেকে ১৫০ টাকা দিয়ে বেল্ট কিনে ইজ্জত বাঁচালাম। কুরিয়ার করা দরকার? সুন্দরবন, কন্টিনেন্টাল, এস আলম, সবই আপনার হাতের কাছেই। মাথা ব্যথা করছে? জ্বর জ্বর ভাব? প্যারাসিটামল লাগবে? অফিসের উল্টোদিকেই দুটো ফার্মেসি। অফিস শেষে বিলিয়ার্ড খেলতে যাবেন? সে ব্যবস্থাও আছে। জিম করবেন? কাছেই জিমনেসিয়াম। অক্সিমিটার লাগবে? প্রেসার মাপার যন্ত্র কিনবেন? অফিস যে বিল্ডিংয়ে, সেটার নীচতলাতেই সেই দোকান। কারো জন্মদিন? কেক কিনতে হবে?

টেস্টিট্রিটের দোকান ওদিকে। আর যা যা কিছু লাগবে তার জন্যে ওভারব্রিজের ওপাড়ে শাহ আলি মার্কেট তো আছেই। সবকিছুই ছিলো আমাদের অফিসের ১০০ মিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে। এতোকিছুর মধ্যে হঠাৎ কোনো এক অলস দুপুরে রোদের মধ্যে হাঁটতে বের হলে কখনো দেখতে পারেন জাদুকরের মতো ঝাঁপি নিয়ে চলে এসেছে কানের পোকা বের করার কবিরাজ। তার আশেপাশে ছোটখাট জটলা। আর এখন। মতিঝিলে অফিস। এখানে বড় বড় দালান আর যানবাহন ছাড়া কিচ্ছু নেই। মিরপুর ১০ নাম্বারের সেই প্রাণচাঞ্চল্য তো নেই’ই। সবকিছুই দূরে দূরে। বড় বড় দালানের আড়ালে দৃশ্যেরা হারিয়ে যায়, নতুন কোনো দৃশ্য আর জন্ম নেয় না! ফেসবুক থেকে

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়