প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] চার মাসেও অগ্রগতি দেখাতে পারেনি মিথেন গ্যাস অনুসন্ধান কমিটি

ডেস্ক রিপোর্ট : [২] ঢাকার আকাশে মিথেন গ্যাসের অস্তিত্ব খুঁজে বের করতে গঠিত কমিটি চার মাসেও তাদের কাজের অগ্রগতি দেখাতে পারেনি। কয়েকটি বৈঠক ছাড়া কাজের আর কোনো অগ্রগতি নেই। কাজে বিলম্বের জন্য করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে বিধিনিষেধ আর বর্ষা মৌসুমকে দুষছেন সংশ্লিষ্টরা। সারাবাংলা

[৩] নানা রকম জৈব পদার্থ পচে উৎপন্ন হয় মিথেন গ্যাস। বিজ্ঞানীরা বলছেন, মিথেন কার্বনডাইঅক্সাইডের মতো না হলেও জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য এটি কার্বনডাইঅক্সাইডের চেয়েও অনেক বেশি ক্ষতিকর। আর সেই ক্ষতিকর গ্যাস পৃথিবীতে এখন সবচেয়ে বেশি ছড়াচ্ছে ঢাকার মাতুয়াইলের ময়লার ভাগাড় থেকে। স্যাটেলাইটের মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করে এ তথ্য দিয়েছিল নিঃসরণ ট্র্যাকিং সংস্থা জিএইচজিস্যাট ইনক। এ তথ্য আমলে নিয়ে মিথেন গ্যাসের উৎস খুঁজে বের করতে কমিটি গঠন করে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়।

[৪] গত ২৪ এপ্রিল দেশের বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিকে ১ মাস অর্থাৎ ২৪ মে পর্যন্ত সময় বেঁধে দেওয়া হয়। এ সময়ের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করে কাজ শুরু করতে না পারায় আরও এক মাস সময় বাড়িয়ে কমিটির মেয়াদ ২৪ জুন পর্যন্ত করা হয়।

[৫] কমিটি মাতুয়াইলের ময়লার ভাগাড় পরীক্ষা করে দেখবে বাস্তবেই মিথেন গ্যাস নির্গমন হচ্ছে কিনা। পাশাপাশি দেখবে মিথেনের মতো জীবন ও পরিবেশের ক্ষতি করে এমন আর কোনো বিষয় আছে কী না।

[৬] খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কমিটি গঠনের পর থেকে ২/৩টি বৈঠক ছাড়া মাঠ পর্যায়ে কাজ শুরু করা যায়নি।

[৭] এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের কেমিকৌশল বিভাগের প্রধান এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু মন্ত্রণালয় গঠিত বিশেষজ্ঞ কমিটির সদস্য অধ্যাপক ড. মো. মমিনুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে দফায় দফায় দেয়্ াহচ্ছে বিধিনিষেধ। এরই মধ্যে চলে এলো বর্ষাকাল। এ সব কারণে কাজটা শুরু করতে দেরি হয়েছে। তবে এ নিয়ে মাঠপর্যায়ে কাজ করতে বেসরকারি সংস্থা ওয়েস্ট কনসার্নকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সংস্থাটি মাতুয়াল ল্যান্ডফিলে সরেজমিনে কাজ করবে। তিনি বলেন, তারা এখনও রিপোর্ট দেয়নি। রিপোর্ট এলে আমরা বুঝতে পারব।

[৮] ঢাকা শহরে উচ্চমাত্রার মিথেন গ্যাসের উপস্থিতির খবর প্রথম প্রকাশ করে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গণমাধ্যম ব্লুমবার্গ। যাদের সংবাদের উৎস ফ্রান্সের একটি প্রতিষ্ঠান। ব্লুমবার্গ ওই প্রতিবেদনে বলেছিলো, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে যেসকল দেশ রয়েছে তার একটি বাংলাদেশ। আর বাংলাদেশ থেকে প্রচুর পরিমাণে মিথেন গ্যাস উৎপন্ন হচ্ছে।

[৯] স্যাটেলাইট এর মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করা তথ্য অনুযায়ী মাতুয়াইল থেকে প্রতি ঘণ্টায় প্রায় চার হাজার গ্রাম মিথেন নির্গমন হচ্ছে। যা এক লাখ ৯০ হাজার প্রচলিত গাড়ি চালালে যে উষ্ণায়ন হয় তার সমান এবং কার্বনডাইঅক্সাইডের চেয়ে ৮৪ গুণ শক্তিশালী। যা গত দুই দশকের মধ্যে এই নির্গমন সবচেয়ে বেশি। এ খবরে নড়েচড়ে বসে সরকার। সরকারের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু বিষয়ক মন্ত্রণালয় মিথেনের উৎস খুঁজতে কমিটি গঠন করে।

[১০] কমিটির সাবেক সদস্য সচিব পরিবেশ, বন ও জলবায়ু মন্ত্রণালয়ের উপসচিব (জলবায়ু পরিবর্তন -৩) ধরিত্রী কুমার সরকার বলেন, ফ্রান্সের ওই প্রতিষ্ঠান যে তথ্য প্রকাশ করেছে, সেটা আমরা নানাভাবে পর্যবেক্ষণ করেছি। সংশ্লিষ্ট দেশীয় কয়েকটি সংস্থা যারা এ বিষয়ে কাজ করে তাদের সমন্বয়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে। সে কমিটি পুনর্গঠনও করা হয়েছে পরে। তিনি বলেন, মাঠ পর্যায়ে কাজ ওভাবে শুরু করা না গেলেও ওই সংস্থার পাঠানো স্যাটেলাইট ইমেজ নানাভাবে বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, যে মিথেনের অস্তিত্ব মাতুয়াইলে বলা হয়েছে, তা আসলেই ওই পরিমাণে আছে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তবে বিষয়টি আমরা গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে শুধু মিথেন নয় ওই ল্যান্ডফিল থেকে জীবন ও পরিবেশের ক্ষতি করে এমন কিছু রয়েছে কিনা তা ও খুঁজে দেখা হবে।

[১১] সূত্রে জানা যায়, রাজধানীর মাতুয়াইল এলাকায় ১৮১ একর জমিতে ময়লার ভাগারটি অবস্থিত। দিনে এখানে প্রায় আড়াই হাজার টন বর্জ্য ফেলা হয়। যা এরই মধ্যে পরিপূর্ণ হয়ে উপচেপড়ার মতো অবস্থা।

[১২] গ্লোবাল মিথেন ইনিশিয়েটিভ এর তথ্য অনুযায়ী তেল, গ্যাস ও শিল্প থেকেও মিথেন নিঃসরণ হয়। এছাড়া গৃহপালিত পশু, ধান চাষ মিথেন নির্গমনের ছোট ছোট উৎস। ইউরোপীয় স্পেস এজেন্সি উপগ্রহের উপাত্ত বিশ্লেষণকারী কায়রোসের মতে মেঘের আচ্ছাদন, বৃষ্টিপাত এবং বিভিন্ন আলোর তীব্রতার কারনে মহাকাশ থেকে মিথেনের পর্যবেক্ষণে সমস্যা হতে পারে। বিশ্লেষক সংস্থা কায়রোস এসএএস জানিয়েছে, স্যাটেলাইটের তথ্যে এই বছর সবচেয়ে বেশি মিথেন নিঃসরণ ধরা পড়েছে বাংলাদেশে। যার পরিমাণ ১২ শতাংশ।

[১৩] পরিবেশ, বন ও জলবায়ু মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, বায়ুমণ্ডলে দূষণ কমাতে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০৩০ সালের মধ্যে বায়ুতে দূষন ১৭ থেকে ২৪ শতাংশ আর ২০৪০ সালের মধ্যে ২৫ থেকে ৩৬ শতাংশ কমানো হবে। এ জন্য সংশ্লিস্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে সঙ্গে নিয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। ডেনমার্কের সহায়তায় রাজধানীর গ্যাসের ছিদ্র পাইপ লাইন পরিবর্তনের কাজ চলছে। এটি শেষ হলে বাতাসে মিথেন মিশে যাওয়ার পরিমাণ কমবে। সম্পাদনা : মাজহারুল ইসলাম

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত