প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] ১৩ লাখ টাকা ভ্যাট ফাঁকি দিয়েছে ই-অরেঞ্জ

সুজন কৈরী: [২] অনলাইন শপিং প্রতিষ্ঠান ই-অরেঞ্জে অভিযান চালিয়ে ১৩ লাখ টাকার ভ্যাট ফাঁকি উদঘাটন করেছে ভ্যাট গোয়েন্দা অধিদপ্তর। এই ঘটনায় বৃহস্পতিবার (২৬ আগস্ট) প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে ভ্যাট আইনে মামলা করেছে এনবিআরের অধিনস্থ সংস্থা ভ্যাট গোয়েন্দা।

[৩] সংস্থাটির পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বিপুল পরিমাণ সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে গত ৮ জুন ভ্যাট গোয়েন্দা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক তানভীর আহমেদের নেতৃত্বে একটি টিম ই-অরেঞ্জের গুলশানের অফিসে অভিযান চালানো হয়। ই-অরেঞ্জ গুলশান-১ নম্বরের ৩ ও ৪ নম্বর লেভেলের ১৩৬/১৩৭ নম্বর সড়কের ৫/এ নম্বর বাড়িতে অবস্থিত। প্রতিষ্ঠানটির মূসক নিবন্ধন নম্বর-০০৩৬২৮০২৭-০১০১। অভিযানকালে প্রতিষ্ঠানের স্বত্ত¡াধিকারী সোনিয়া মেহজাবিনের সহযোগিতা করেন এবং প্রতিষ্ঠানটির ভ্যাট সংশ্লিষ্ট দলিলাদি উপস্থাপন করেন। এছাড়া প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি করে হিসাব বিবরণী জব্দ করে ভ্যাট গোয়েন্দার আভিযানিক দল।

[৪] ভ্যাট গোয়েন্দার বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, অভিযানকালে সংস্থাটি দেখতে পায়, অনলাইন প্লাটফর্মে বিভিন্ন পণ্য বিক্রয় করলেও প্রাপ্ত কমিশনের উপর আরোপণীয় ভ্যাট যথাযথভাবে জমা দেয় না ই-অরেঞ্জ। প্রতিষ্ঠান থেকে জব্দ করা হিসাব পর্যালোচনা করে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানটি একটি নির্দিষ্ট মেয়াদে ২৪৫ কোটি ৭৫ লাখ ৫৩ হাজার ২১৫ টাকার সেবা বা পণ্য ক্রয় করে এবং ২৪৯ কোটি ৬৩ লাখ ৪৭ হাজার ৭১০ টাকার পণ্য বিক্রয় করে। ওই সেবা বা পণ্য বিক্রয়ের উপর ই-অরেঞ্জ ৩ কোটি ৮৭ লাখ ৯৮ হাজার ৪৯৫ টাকা কমিশন লাভ করে। প্রাপ্ত কমিশনের উপর ৫শতাংশ হারে নির্ণীত ভ্যাটের পরিমাণ ১৯ লাখ ৩৯ হাজার ৯২৪ টাকা প্রযোজ্য হলেও প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ মাত্র ৬ লাখ ২৩ হাজার ৭৬৭ টাকা পরিশোধ করেছে।

[৫] অনুসন্ধানকালে ভ্যাট গোয়েন্দা দেখতে পেয়েছে, অনলাইন শপিং প্রতিষ্ঠানটি প্রকৃত বিক্রয় তথ্য গোপন করেছে। এতে সরকারের ১৩ লাখ ১৬ হাজার ১৫৮ টাকা ভ্যাট ফাঁকি হয়েছে। বিক্রয় তথ্য গোপন করায় এবং ভ্যাট ফাঁকির সঙ্গে জড়িত হওয়ায় ই-অরেঞ্জ ভ্যাট আইন লংঘন করেছে। অভিযানের সূত্র ধরে বৃহস্পতিবার ই-অরেঞ্জের বিরুদ্ধে মামলাটি হয়েছে।

[৬] এছাড়া অভিযানকালে প্রাপ্ত ই-অরেঞ্জের পরিহারকৃত ভ্যাট আদায় ও অন্যান্য আইনানুগ পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণের জন্য মামলার প্রতিবেদন এখতিয়ারাধীন কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট, ঢাকা উত্তরে পাঠানো করা হয়েছে। সেই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের সার্বিক কার্যক্রম আরও নজরদারি ও তদন্ত করতেও অনুরোধ করা হয়েছে।

সর্বাধিক পঠিত