প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] বেড়েই চলছে মধুমতি নদীর পানি, হুমকির মুখে ৩টি আশ্রয়ন প্রকল্পের দেড় হাজার পরিবার

আসাদুজ্জামান বাবুল: [২] গোপালগঞ্জে মধুমতি নদী ও বিল রুট ক্যানেলের পানি চরমভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। মধুমতি নদীর পানি ৪ পয়েন্ট ৭৯ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপদ সিমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অপরদিকে, বিলরুট ক্যানেল নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে ৩ পয়েন্ট ৮ সেন্টিমিটারের নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

[৩] সোমবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো.ফয়জুর রহমান ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের ইস্টিমেটার মো, কাওছার এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেছেন,গত কয়েক দিন ধরে মধুমতি নদী ও বিলরুট ক্যানেল নদীতে বৃদ্ধি পাওয়া পানি বিভিন্ন খাল-বিল নদী-নালা দিয়ে প্রবেশ করে জেলার ৫টি উপজেলার সকল নিম্মাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।

[৪] মধুমতি নদী ও বিলরুট ক্যানেল নদীর পানি ছাড়াও গত কয়েক দিনের আটকে পড়া বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে ওইসব এলাকার বিভিন্ন নিম্মাঞ্চলের রাস্তাঘাট ও বসতবাড়ী।

[৫] রোববার ও সোমবার দুপুরের দিকে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার হরিদাসপুর, মালেঙ্গা ও উলপুর তেতুলিয়াসহ মধুমতি নদীপাড়ের ৩টি নিচু এলাকায় অপরিকল্পিতভাবে নির্মিত প্রধানমন্ত্রীর সপ্নের আশ্রয়ন প্রকল্প ২এর অধীনে পাকা ঘরবাড়ী পেয়ে বসবাসরত মানুষজনের সাথে কথা হলে অভিযোগ করে তারা বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ন প্রকল্প ২এর অধীনে পাওয়া ঘরবাড়ী নদী গর্ভে বিলীন হতে পারে এমন আতংকে চোখে ঘুম নেই জেলা সদরের হরিদাসপুর, মালেঙ্গা ও উলপুর তেতুলিয়াসহ ৩টি আশ্রয়ন প্রকল্পের ৩ থেকে সাড়ে ৩শত ঘরের কমপক্ষে দেড় হাজারের মতো দরিদ্র পরিবার আছে।

[৬] ভাঙ্গন কবলিত সেই মধুমতি নদীপাড় এলাকা জেলার সদর উপজেলার হরিদাসপুর, মালেঙ্গা ও তেতুলিয়া উলপুরে স্থানীয় জেলা প্রশাসন অপরিকল্পিতভাবে আমাদের কমপক্ষে ৩ শতাধিক ঘর নির্মান করে দিয়েছেন। তারা বলেন, প্রতিদিন নদীর পানি বেড়েই চলছে। এভাবে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে এক সময় পানির চাপে নদী ভাঙ্গনে আমাদের সকলের ঘরবাড়ী নদী গর্ভে বিলিন হয়ে যাবে। তখন আমরা সেই আগেরমতোই গৃহহীন হয়ে পড়বো।

[৭] অপরদিকে,অব্যাহত নদীর পানি বেড়ে বিভিন্ন খাল-বিল ও ডোবা-নালা দিয়ে প্রবেশ করছে জেলার নিম্মাঞ্চলে। ক্ষতি হচ্ছে নানান প্রকার ফসলের। বসতবাড়ী ছাড়াও তলিয়ে যাচ্ছে নিম্মাঞ্চলের অধিকাংশ রাস্তাঘাটও। পানিবন্দি হয়ে পড়া দরিদ্র মানুষগুলোর কাজ কাম না থাকায় অনেকটাই মানবেতর জীবনযাপন করছেন তারা।

[৮] গোপালগঞ্জ জেলার সদর উপজেলা, মুকসুদপুর উপজেলা, কাশিয়ানী উপজেলা, কোটালীপাড়া উপজেলা ও টুঙ্গিপাড়া উপজেলার নিম্মাঞ্চল এলাকার ক্ষতিগ্রস্থ মানুষজন বলেছেন, স্থানীয় জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো পযন্ত কেউ তাদের খোজ খবর নেয়নি। তবে, খোজ নিয়েছে স্থানীয় কয়েকজন চেয়ারম্যান ও মেম্বাররা।

[৯] জেলার সদর উপজেলার হরিদাসপুর, মালেঙ্গা ও তেতুলিয়া উলপুর ভাঙ্গন কবলিত আশ্রয়ন প্রকল্প এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত মানুষজন আশা করেন।

[১০] স্থানীয় জেলা প্রশাসন এবং পানি উন্নয়ন বিভাগ সংশ্লিষ্ট এলাকার নদী ভাঙ্গন প্রতিরোধে এখনই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। তবে, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো.ফয়জুর রহমান বলেছেন, নদী ভাঙ্গন প্রতিরোধে জেলার ২০টি স্পটে কমপক্ষে ৩ কোটি টাকার কাজ চলছে।

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত