প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

শোয়েব সর্বনাম: বিপদের মুহূর্তে একজন লেখকের পক্ষে যদি একজন লেখক কলম ধরতে রাজি না থাকেন, তাইলে তাদের পক্ষে লিখবেটা কে?

শোয়েব সর্বনাম: যাবতীয় ইস্যুতে লেখকরা ভূমিকা রাখেন, কথা বলেন, বিবৃতি দেন। অথচ লেখকদের বিপদে কাউকে পাশে পাওয়া যাবে না। সাধারণ মানুষ কিংবা সেলিব্রেটি, ক্রিকেটার থেকে ব্যবসায়ী, সাংবাদিক থেকে রাজনীতিবিদÑ যেকোনো মানুষ যখন বিপদে পরেন, আক্রান্ত হন, সবার আগে তাদের পক্ষে কলম ধরেন লেখকরা। আর কোনো একজন লেখক আক্রান্ত হলে দেখা যাবে তার পক্ষে কথা বলার একটা লোক নেই। অন্যায় হচ্ছে একজন লেখকের সাথে, অথচ অন্য লেখকরা চুপ।

জাকির তালুকদারের পোস্টে মাসরুর আরেফিনের মন্তব্যটা দেখে একজন লেখক হিসেবে আমার একটু ইনসিকিওরিটি ফিলিং হইল। মাসরুর এ সময়ের একজন আলোচিত লেখক, অথচ বিপদের মুহূর্তে কাউকে তিনি পাশে পাইতেছেন না! পরীমনি ইস্যুতে মাসরুরের বিরুদ্ধে একটা অপপ্রচারের চেষ্টা চলতেছিল, একটা অন্যায় অভিযোগ চাপায়ে দেওয়া হচ্ছিলো, কিন্তু এ প্রসঙ্গে লেখকদের কাউকে দুইটা লাইন লেখতে দেখা যায়নি। কিছু লেখক অবশ্য হাজিরা দেবার ভঙ্গিমায় মাসরুরের পোস্টে গিয়ে কমেন্ট করে আসছেন, অথচ সাংবাদিক রোজিনা কিংবা পরীমনির পক্ষে তাদেরই বড় বড় পোস্ট লিখে সোশাল মুভমেন্ট সৃস্টি করার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে দেখা গেছে।

বরং কিছু ধুরন্ধমার্কা লোককে দেখা গেলো মহানন্দে মাসরুরের নানান দোষ ত্রুটি আবিষ্কার করে ক্রমাগত পোস্ট দিয়ে যাচ্ছেন। লেখকরা ঠিকঠাক কথা বললে এই ধুরন্ধুরগুলা ইতরামির সুযোগ পাইত না। হাসান আজিজুল হক মৃত্যুশয্যায়, তিনি লেখকদের নিয়ে একটা ঐক্য করার চেষ্টা করতেছিলেন। কবি কামাল চৌধুরীও একই চেষ্টা করে যাচ্ছেন, বেশ কয়েকটা সভায় তিনি লেখকদের ডেকে ডেকে এ ব্যপারে উদ্যোগ নেওয়ার প্রস্তাব দেন, কিন্তু লেখকরা তেমন সাড়া দিচ্ছেন না।

লেখকরা দল বেধে মদ খেতে যাবে, সাহিত্য পুরষ্কার অনুষ্ঠানে সবাই মিলে লাইন ধরে বসে হাততালি দেবে, কিন্তু একের বিপদে অন্যের সামনে আসতে দেখা যাবে না। লেখকরা এমনিতেই একটু বিচ্ছিন্ন জীবনযাপন করেন, তাদের খুব বেশি ঘনিষ্ঠ মানুষজন নেই। বিপদের মুহূর্তে একজন লেখকের পক্ষে যদি একজন লেখক কলম ধরতে রাজি না থাকেন, তাইলে তাদের পক্ষে লিখবেটা কে? এইটা অন্যায্য, এইটা এমন এক অন্যায়, যার চর্চা দীর্ঘদিন ধরে আমরা নিজেদের সাথে নিজেরাই করে যাচ্ছি। ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত