প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] লক্ষ্মীপুরে স্বপ্নের ঘরে গৃহহীনদের সুখের বসবাস

জহিরুল ইসলাম : [২] জেলার সদর উপজেলায় গৃহহীন ও ভূমিহীনদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর পেয়ে খুশি উপকারভোগীরা। কয়েকমাস আগেও যারা ভূমিহীন ও গৃহহীন ছিলেন, তারা কল্পনাও করেননি যে মুজিববর্ষে পাবেন জমিসহ বাড়ি। সদর উপজেলার আশ্রয়ণ প্রকল্পে নির্মিত স্বপ্নের ঘরে বসবাস করছেন অসহায়, ভূমিহীন ও দরিদ্র মানুষ। ৪৩১টি পরিবারের মধ্যে এ ঘর বরাদ্দ দেওয়ার কথা।

[৩] এদের মধ্যে ২২৫টি ঘরে এখন তারা বসবাস করছেন। বাকি ২০৬টি ঘরের নির্মাণকাজ চলছে। লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলায় প্রধানমন্ত্রীর উপহার আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর গুলোতে বাস করে উৎফুল্ল উপকারভোগীরা। তারা এই ঘর গুলোকে ‘স্বপ্নের ঘর’ আখ্যায়িত করছেন। তাদের মতে, ভিটেবাড়ি শূন্য মানুষদের জন্য বিষয়টি স্বপ্নেরই মতো। তাদের কয়েকশ’ পরিবারের মত এরকমই একজন স্বামী পরিত্যক্তা মরিয়ম বেগম। আনন্দ আর উচ্ছ্বাসে আবেগাপ্লুত তিনি।

[৪] মরিয়ম জানান, ‘দীর্ঘদিন স্বামী আমাকে ছেড়ে আরেক জনকে বিয়ে করে খোঁজ খবর রাখে না, বাপেরও জমিজমা নাই। কোন মত বেঁচে ছিলাম। প্রধানমন্ত্রী আমারে এট্টা ঘর দিছে, দুই শতক জমি দিছে, মাথা গুজার একটা ঠাঁই পেয়েছি, আমি ভীষণ খুশি, আমি জীবনেও ভাবি নাই আমার একটা ঘর হবে।’ কথা গুলো বলতে বলতে মরিয়ম বেগমের দু’চোখ বেয়ে নেমে আসে আনন্দাশ্রু।

[৫] সরেজমিনে উপজেলার মান্দারী ইউনিয়নের দক্ষিণ মান্দারী গেলে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন মরিয়ম বেগম।

[৬] আরেক উপকারভোগী বিবি আয়শা। তিনি বলেন, ‘আমি জীবনে কল্পনাও করিনি আমার নিজের একটা ঘর হবে, হবে একটি ঠিকানা। সমাজের আর দশজনের মত বলতে পারবো ‘আমার বাড়ি’ যা স্বপ্নে কোন দিনও ভাবিনি। প্রধানমন্ত্রী এখন আমাদের দিয়েছেন। আল্লাহর কাছে দু’হাত তুলে দোয়া করি প্রধানমন্ত্রী যেন ভাল থাকেন, সুস্থ্য থাকেন।’

[৭] নাছিমা আক্তার জানান, ‘ঘর পেয়েছি, পেয়েছি জমি। প্রধানমন্ত্রী শুধু ঘরই দেননি, বিদ্যুৎও দিয়েছেন, খাওয়ার পানির ব্যবস্থা করেছেন। ঘর করার সময় আমরা প্রতিদিনই দেখভাল করেছি, ঘরের সামনে সামান্য নিচু জমি ছিল সেগুলোও মাটি দিয়ে ভরাট করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। আমরা প্রধানমন্ত্রীর এই ঋণ শোধ করবো কীভাবে ?। দোয়া করি আল্লাহ শেখ হাসিনার হায়াতদারাজ করুক।’

[৮] মুজিববর্ষে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলায় আশ্রয়ন প্রকল্পে মো. বাসার দম্পতি পেয়েছে একটি ঘর। ঘর পেয়ে বাসার দম্পতি বেশ সুখেই দিনযাপন করছে। শুধু বাসার দম্পতি নয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহারে আশ্রয়ণ প্রকল্পে সেই স্বপ্ন পূরণ হয়েছে সদর উপজেলার ২২৫টি পরিবারের।

[৯] আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় তারা পেয়েছেন নিজের নামে দুই শতক জমি ও দুই কক্ষবিশিষ্ট একটি ঘর। সঙ্গে রয়েছে একটি গোসলখানা ও টয়লেট। বৈদ্যুতিক সংযোগ ও পানির ব্যবস্থা তো আছেই। স্বপ্ন পূরণের অপেক্ষায় রয়েছে ২০৬টি পরিবার ।

[১০] সদর উপজেলার বিভিন্ন প্রকল্প এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বেশিরভাগ প্রকল্প এলাকাই শহরের নিকটবর্তী। এতে করে ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগসহ আধুনিক সকল সুযোগ-সুবিধা ভোগ করার সুযোগ রয়েছে। ঘরগুলোতে ব্যবহার করা হয়েছে সবুজ ও লাল রঙের টিন।

[১১] প্রকল্পের কিছু স্থানে নিচু জমি হওয়ায় বৃষ্টিতে পানি জমতে পারে, তাই পানি নিষ্কাশনের জন্য নির্মাণ করা হয়েছে ড্রেন। এছাড়া ভবিষ্যতে ঝুঁকি এড়াতে নির্মাণ করা হয়েছে গার্ড ওয়াল, যাতে বৃষ্টি বা বন্যার পানিতে মাটি ধুয়ে গিয়ে ঝুঁকির সৃষ্টি না করে। দুই রুম বিশিষ্ট ঘরে রয়েছে একটি রান্নাঘর, শৌচাগার, স্টোর রুম ও বারান্দা।

[১২] প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া স্বপ্নের বাড়িতে ইতিমধ্যে উপকারভোগী যারা উঠেছেন, তারা তাদের সন্তানাদি নিয়ে আনন্দে দিন কাটাচ্ছেন। কেউ কেউ শোভাবর্ধনের জন্য ঘরের আঙ্গিনায় লাগিয়েছেন ফুল ও ফলের গাছ। সবাই খুব উৎফুল্ল ও আনন্দিত।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত