প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

পীর হাবিবুর রহমান: এমন মহানায়ক আর বিশ্বরাজনীতিতে আসবেন না

পীর হাবিবুর রহমান: মানব সভ্যতার ইতিহাসে সবচেয়ে হৃদয়বিদারক মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছিলো ১৯৭৫সালের ১৫আগষ্ঠের কালোরাতে। আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে পরিবার পরিজন সহ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ষঢ়যন্ত্রে এদেশের বিপথগামী সেনা কর্মকর্তারা হত্যা করেছিলো ধানমন্ডির বাড়িটিতে। আর বিশ্বাসঘাতক মীর জাফরের ভূমিকায় এসেছিলো খন্দকার মোশতাক আহমেদ। বঙ্গবন্ধুকে সতর্ক করা হলেও তিনি আমলে নেননি। পাকিস্তানিরা যাকে হত্যা করতে পারেনি তাকে দেশের সন্তানরা হত্যা করবে বিশ্বাসই করতেন না। অথচ হত্যাকাণ্ড শেষে সংবিধান লংঘন করে সরকার গঠন ও খুনীদের উল্লাস চলছিলো। সামরিক শাসন আর কার্ফুতে জনগণ স্তম্ভিত নির্বাক বেদনাহত। সামরিক নেতৃত্ব, সিভিল প্রশাসন খুনিদের কাছে আনুগত্য প্রকাশ করেছিলো। কেউ কাপুরুষের মতো, কেউ ষঢ়যন্ত্রের নেপথ্য নায়ক হয়ে। রাজনৈতিক নেতৃত্ব প্রতিরোধের ডাক দিতে পারেনি। আর ধানমন্ডির বাড়িটিতে অনাদরে পরেছিলো জাতির পিতার লাশ। যিনি জীবনের ১৪বছর কারাগারে কাটিয়ে,দুইবার ফাঁসির মুখেও আপস না করে জাতিকে এক মোহনায় এনে কি কঠিন সংগ্রামে বাংলাদেশের জন্ম দিলেন তাকে নিজ দেশের খুনিরা হত্যা করেছিলো। তার লাশকেও তারা ভয় পেয়েছিলো। কড়া পাহাড়ায় হেলিকপ্টারে করে টুঙ্গিপাড়ায় কবর দিতে চাইলে ইমামের আপত্তিতে গোসল কাফন ও জানাযা পরিয়ে দাফন করা হয়। বঙ্গবন্ধু হত্যকাণ্ডের পর সামরিক নেতৃত্ব খুনিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে তাদের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ লজ্জা গ্লানিরই নয় রহস্যের।একদিকে ক্যু পাল্টা ক্যু আরেকদিকে জেলখানায় জাতীয় চারনেতাকে হত্যা। আওয়ামী লীগ নেতাদের দেশজুড়ে নির্যাতন করে কারাগারে নিক্ষেপ কেউবা দেশান্তরী।বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর নেতৃত্বে প্রতিরোধ যুদ্ধে গেছেন ১৮হাজার তরুণ নেতা। সেনাশাসক জিয়া এলেন ক্ষমতায়। সেই অন্ধকার সামরিক শাসনের জমানায় কতো ফাঁসি! তবু বঙ্গবন্ধুর আদর্শের নেতা কর্মীরা ঘুরে দাঁড়ালেন। কোন মিত্র পথে নেই। মস্কোপন্থীরা গেলেন জিয়ার খালকাটা বিপ্লবে। উগ্রপন্থী ও চীনাপন্থীদের চললো মুজিব বিদ্ধেষ, আওয়ামী লীগ বিরোধী তৎপরতা। কী ভয়ংকর দুঃসময় বঙ্গবন্ধুর আদর্শে পথহাটা নেতা কর্মীদের। আজকের আওয়ামী লীগের সবাইকে সেই কঠিন সময় মোকাবেলা করা দেখতে হয়নি। আজতো গোটা দেশটাই আওয়ামীলীগ। সেই সময় কেউ আওয়ামী লীগ বিরোধী রাজনীতি করেনি।

অতি বাম আর অতি ডান জিয়ার দল বিএনপিতে। সেই কঠিন দিনগুলিতে ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগ মহান নেতার আদর্শে নিজেদের সুসংগঠিত শক্তিশালী করলেন। দেশের ছাত্রসংসদ নির্বাচনে ছাত্রলীগের ফলাফল ছিলো আশার আলো। সেদিন বঙ্গবন্ধুর নামটাই নিষিদ্ধ হয়নি। হত্যাকাণ্ডের বিচার বন্ধে ইনডেমনিটি আইনকে বৈধতা দেয়া হলো। সেই সময় থেকেই বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারের দাবিতে, জাতীয় শোক দিবসে হরতাল হতো। আর পোস্টার হতো ‘কাঁদো বাঙ্গালী কাঁদো’।আমার স্কুল থেকে গোটা ছাত্রজীবনেই স্লোগান ছিলো, এক মুজিবের রক্ত থেকে লক্ষ মুজিব জন্ম নেবে। এক মুজিব লোকান্তরে লক্ষ মুজিব ঘরে ঘরে। অন্নদাশঙ্কর রায় আর কবি নির্মলেন্দু গুণের লেখা ছিলো প্রাণশক্তি। অবশেষে মুজিব কন্যা শেখ হাসিনা দলের সভানেত্রী হয়ে এলেন আর লড়াইয়ে নামলেন। সামরিক শাসনের অবসানের পর দলকে ক্ষমতায় এনে সেই আগস্ট হত্যাকাণ্ডের বিচার করলেন। ঘাতকদের ফাঁসি হলো। জাতি অভিশাপমুক্ত হলো। কেবল ষঢ়যন্ত্রের চিত্রনাট্য উন্মোচন হয়নি, হয়নি কুশিলবদের মুখ। কিন্তু জাতির পিতাকে হারানোর বেদনা ও শূন্যতা পূরণ হলো না। এমন দীর্ঘদেহী সুদর্শন পুরুষ ও বাঙ্গালী যিনি গোটা দেশ ও জনগণকে ভালোবাসতেন এবং বিশ্বরাজনীতির এমন মহানায়ক আর কোনদিন আসবেন না। তাকে হত্যা করে মুক্তিযুদ্ধে অর্জিত রাষ্ট্রের আদর্শকেই হত্যা করেনি, দেশের আত্নাকেই হত্যা করেছে। বঙ্গবন্ধুর নির্লোভ দেশপ্রেমের আদর্শকেই আজ চিন্তা চেতনায় লালন করে কর্মে প্রয়োগ বড় দায়িত্ব। তিনি জাতির পিতা, জাতির নেতা। বঙ্গবন্ধুই বাংলাদেশের আদর্শ। বাংলাদেশের আরেক নাম বঙ্গবন্ধু। ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস। মহান নেতার জন্য গভীর শোক ও শ্রদ্ধা। আল্লাহ ঘাতকের হাতে সকল নিহতদের বেহেশতের উচ্চ আসন দিন। তার কিছু বক্তব্য নীচে দেয়া হলো।

‘সরকারি কর্মচারীদের জনগণের সাথে মিশে যেতে হবে। তারা জনগণের খাদেম, সেবক, ভাই। তারা জনগণের বাপ, জনগণের ছেলে, জনগণের সন্তান। তাদের এই মনোভাব নিয়ে কাজ করতে হবে। সমস্ত সরকারি কর্মচারীকেই আমি অনুরোধ করি, যাদের অর্থে আমাদের সংসার চলে তাদের সেবা করুন। গরিবের ওপর অত্যাচার করলে আল্লাহর কাছে তার জবাব দিতে হবে। জীবন অত্যন্ত ক্ষণস্থায়ী। এই কথা মনে রাখতে হবে। আমি বা আপনারা সবাই মৃত্যুর পর সামান্য কয়েক গজ কাপড় ছাড়া সাথে আর কিছুই নিয়ে যাবো না। তবে কেন আপনারা মানুষকে শোষণ করবেন, মানুষের ওপর অত্যাচার করবেন? দেশের সাধারণ মানুষ, যারা আজও দুঃখী, যারা আজও নিরন্তর সংগ্রাম করে বেঁচে আছে, তাদের হাসি-কান্না, সুখ-দুঃখকে শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতির উপজীব্য করার জন্য শিল্পী, সাহিত্যিক ও সংস্কৃতিসেবীদের প্রতি আহবান জানাচ্ছি।’ ফেসবুক থেকে

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত