প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] গাজওয়াতুল হিন্দ প্রতিষ্ঠায় অনলাইনে প্রচারণা চালাচ্ছিলেন আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের সদস্যরা

সুজন কৈরী: [২] রাজধানীর রায়েরবাগ এলাকায় বুধবার ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের (এবিটি) চারজন সদস্যকে আটক করেছে এন্টি টেররিজম ইউনিট (এটিইউ)। আটকরা হলেন রায়হান হোসেন ওরফে সাব্বির হোসেন রাইহান ওরফে আল রাব্বি, তানভীর হোসেন, আমিনুল ইসলাম ও সাগর ইসলাম ওরফে ইউসুফ বিন আব্দুর রাকিব। চারজন একই এলাকার বাসিন্দা। তাদের কাছ থেকে ৪টি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল সেট, ২টি ছোরা এবং ২টি উগ্রবাদী বই, ৫টি বুকলেট জব্দ করা হয়।

[৩] এটিইউ জানায়, সাইবার টহলের মাধ্যমে গত ছয় মাস ধরে তাদের নজরদারি করছিলো তারা। আটকদের কার্যক্রম ধীর হলেও ক্রমেই তা বাড়ছিলো। বুধবার (১১ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর বারিধারায় নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এটিইউর পুলিশ সুপার (মিডিয়া অ্যান্ড অ্যাওয়ারনেস) মোহাম্মদ আসলাম খান বলেন, এই গ্রুপের সদস্যরা ‘গাজওয়াতুল হিন্দ’ প্রতিষ্ঠার জন্য অনলাইনে উগ্রবাদী বিভিন্ন পোস্ট প্রচার করছিলেন। তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে রাষ্ট্র ও সরকারবিরোধী বিভিন্ন পোস্ট শেয়ার দিতেন। নাশকতার জন্য এই চক্রের সদস্যরা পরিকল্পনা, প্রশিক্ষণ ও প্রস্তুতির জন্য একটি গ্রুপ খুলে নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ রক্ষা করতেন।

[৪] আসলাম খান বলেন, বড় কোনো নাশকতা করার মতো তাদের সক্ষমতা নেই। পরিকল্পনা বাস্তবায়নের আগেই আমরা তাদের আটক করেছি। তাদের সঙ্গে আর কার যোগাযোগ ছিলো তা জানতে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

[৫] এটিইউ’র কর্মকর্তা বলেন, আটক হওয়া এবিটি সদস্যরা আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের সদস্য। তারা সবাই একই এলাকায় থাকতেন। সেই সুবাদে তারা নিয়মিত দেখা-সাক্ষাৎ ও অনলাইনে যোগাযোগ করতেন। গত ৬ মাস ধরে তাদের ওপর নজরদারি চালিয়ে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে রায়হান হোসেন মাতাউল হাজি আব্দুর লতিফ ভূইয়ান বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের ছাত্র। তানভীর হোসেন স্থানীয় হাজী মিছির আলী ডিগ্রি কলেজের উচ্চ মাধ্যমিকের ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী। আমিনুল ইসলাম ২০১৬ সালে রায়েরবাগ এলাকার বর্ণমালা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করে ইন্টারনেট ব্যবসা শুরু করে। অপর সদস্য সাগর ইসলাম ঢাকার গভ. ল্যাবরেটরি কলেজের অনার্স ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী।

[৬] প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটকরা এটিইউকে জানিয়েছেন, রায়হান ও তার সহযোগীরা ‘গাজওয়াতুল হিন্দ’ প্রতিষ্ঠার জন্য অনলাইনে উগ্রবাদী প্রচারণা চালাচ্ছিলেন। তাদের উদ্দেশ্যে ছিল বাংলাদেশে খিলাফত প্রতিষ্ঠা করা। তারা জঙ্গি নেতা জসীমউদ্দিন রাহমানীর মতাদর্শকে অনুসরণ করতেন। এ কারণেই বিভিন্ন উগ্রবাদী বই ও বক্তব্য অনলাইনে পোস্ট করতেন। এতে যারা আগ্রহী হতেন তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করতেন চক্রের সদস্যরা।

[৭] এটিইউ জানিয়েছে, আটকরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে রাষ্ট্র ও সরকারবিরোধী এবং উস্কানিমূলক ও উগ্রবাদী বিভিন্ন পোস্ট দিচ্ছিলেন। তাছাড়া নিজেদের মতবাদ প্রচারের মাধ্যমে অনলাইনে আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের পক্ষে সদস্য সংগ্রহের কাজ করছিলেন। আটকরা সাধারণ মানুষের মধ্যে ধর্মীয় উগ্রবাদী মতাদর্শ প্রচার ও আতংক সৃষ্টির মাধ্যমে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং নাশকতার জন্য পরিকল্পনা, প্রশিক্ষণ ও প্রস্তুতি নেয়ার জন্য সিকিউরড গ্রুপ খুলে নিজেদের মধ্যে চ্যাটিং চালাচ্ছিলেন।

[৭] এসপি মোহাম্মদ আসলাম খান বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় জঙ্গি সংগঠনগুলো ভেঙে পড়েছে। বড় কোনো হামলা চালানোর মতো তাদের সক্ষমতা নেই। তবে তারা অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে নিজেদের মতাদর্শ প্রচার ও নতুন কর্মী সংগ্রহের চেষ্টা চালিয়ে আসছে।

[৮] তিনি জানান, এটিইউ জঙ্গি সংগঠনগুলোর সদস্যদের উপর নজরদারি অব্যাহত রেখেছে। আটকদের বিরুদ্ধে রাজধানীর কদমতলী থানায় সন্ত্রাস দমন আইনে একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত