প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] বীর মুক্তিযোদ্ধা, গণসঙ্গীত শিল্পী ফকির আলমগীর মারা গেছেন, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শোক

সাদেক আলী, মারুফ হাসান: [২] তিনি করোনায় আক্রান্ত হয়ে রাজধানীর  ইউনাইটেড হাসপাতালের কোভিড আইসিইউ ইউনিটে রাত ১০টা ৫৬ মিনিটে শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৭১ বছর। তিনি স্ত্রী, তিন ছেলে রেখে গেছেন।

[৩] ছেলে মাশুক আলমগীর রাজীব জানান, শুক্রবার রাত ১০টার দিকে কোভিড ইউনিটে ভেন্টিলেশনে থাকা অবস্থায় ফকির আলমগীরের হার্ট অ্যাটাক হয়।

[৪] শিল্পী কয়েক দিন ধরে জ্বর ও খুশখুশে কাশিতে ভুগছিলেন। চিকিৎসকের পরামর্শমতো পরীক্ষা করিয়ে জানতে পারেন, তিনি করোনায় আক্রান্ত। সেদিনই তাঁর শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। এরপর তাঁকে গ্রিন রোডের একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। ওই সময় নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের (আইসিইউ) প্রয়োজন পড়লে সেখান থেকে তাঁকে গুলশানের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাঁর ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ ছিল। যার কারণে জটিলতা বাড়তে থাকে। হাসপাতালে তাকে দুই ব্যাগ প্লাজমাও দেওয়া হয়েছে। প্লাজমা দেয়ার পর তিনি কিছুটা ভালোও হয়।

[৫] মাশুক আলমগীর আরো বলেন, রোববার রাত সাড়ে ১০টার দিকে তাঁর বাবার অক্সিজেন স্যাচুরেশন ৪৫-এ নেমে আসে, যার কারণে চিকিৎসকেরা তাঁকে ভেন্টিলেশনে নেওয়ার পরামর্শ দেন। ভেন্টিলেশনে নেওয়ার পর অক্সিজেন স্যাচুরেশন ৯০-এ উন্নীত হয়। তবে শেষ রক্ষা হয়নি।

[৬] তার প্রথম জানাজা হবে শনিবার বেলা ১১টায় খিলগাঁও পল্লিমা সংসদ প্রাঙ্গনে। দুপুর ১২টায় শিল্পকলায় ২য় এবং বাদ জোহর খিলগাঁও মাটি মসজিদে। ৩য় জানাজা শেষে খিলগাঁও তালতলা কবরস্থানে দাফন।

[৭] ফকির আলমগীর ১৯৫০ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ফরিদপুরের ভাঙ্গা থানার কালামৃধা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ফকির আলমগীর কালামৃধা গোবিন্দ হাই স্কুল থেকে ১৯৬৬ মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে জগন্নাথ কলেজে ভর্তি হন।

[৯] জগন্নাথ কলেজ থেকে স্নাতক ডিগ্রি নিয়ে পরবর্তী পর্যায়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর করা ফকির আলমগীর গানের পাশাপাশি নিয়মিত লেখালেখিও করেন। ‘মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি ও বিজয়ের গান’, ‘গণসংগীতের অতীত ও বর্তমান’, ‘আমার কথা’, ‘যারা আছেন হৃদয় পটে’সহ বেশ কয়েকটি বই প্রকাশ হয়েছে তার।

[১০] স্বাধীনতার পর পাশ্চাত্য সংগীতের সঙ্গে দেশজ সুরের মেলবন্ধন ঘটিয়ে বাংলা পপ গানের বিকাশে ভূমিকা রাখেন এ শিল্পী। সংগীতে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য বাংলাদেশ সরকার ১৯৯৯ সালে তাকে একুশে পদকে ভুষিত করেন।

[১১] সংগীতশিল্পী ফকির আলমগীরের উল্লেখযোগ্য গান:

  • ও সখিনা গেছোস কিনা ভুইলা আমারে
  • নাম তার ছিল জন হেনরি

[১২] ১৯৬৬ সালে ছাত্র ইউনিয়ন মেনন গ্রুপের সদস্য হিসেবে ছাত্র রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধে শিল্পী একজন শব্দসৈনিক হিসেবে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে যোগ দেন।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত