প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] দেশিয় উচ্চশিক্ষায় নেই বিষ্ফোরক নিয়ে ডিগ্রির ব্যবস্থা, বেসরকারি পর্যায়ে নেই বিশেষজ্ঞ

শরীফ শাওন: [২] দেশের পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে খোঁজ নিয়ে বিষ্ফোরক বিশেষজ্ঞ পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্টরা জানান, সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয়ে এ ধরনের কোন কোর্স বা ডিপার্টপেন্ট নেই। তবে ক্যামেষ্ট্রি বিভাগে গ্র্যাজুয়েটদের এ বিষয়ে সাধারণ ধারনা থাকে।

[৩] বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের সদস্য প্রফেসর ড. মুহাম্মদ আলমগীর বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় কোন বিষয় পড়াবে এটা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নির্ধারণ করে। বিভিন্ন কোর্স বা ডিপার্টমেন্ট খোলার বিষয়ে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় থেকে বিষয়ভিত্তিক রিকুজিশন আসলে আমরা তা বিশ্ববিদ্যালয়কে পাঠাই। তবে বিষ্ফোরক বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোন আলোচনা হয়নি।

[৪] সাধারণতভাবে আমাদের দেশে বা এই পর্যায়ে আন্ডার গ্রেজুয়েশনে এধরনের সাবজেক্ট থাকেনা, কোথাও নেই। বিষ্ফোরক আলাদাভাবে কোন ডিপার্টমেন্ট হতে পারে না। ক্যামিকেল, মেকানিক্যাল বা নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে এ সম্পর্কিত একটি বিষয় থাকতে পারে। সেখানে বিষ্ফোরক বিষয়ে ২০-২৫ শতাংশ জ্ঞান লাভ করা যায় বলে জানান তিনি।

[৫] ক্যামিক্যাল সেইফটি এন্ড সিকিউরিটি নিয়ে বৈশ্বিকভাবে কাজ করে অর্গানাইজেশন ফর দ্যা প্রোহাইবিশন অফ ক্যামিক্যাল উইপনস। ওপিসিডব্লিউ এর সাইন্টেফিক এডভাইজারি বোর্ড সদস্য ড. সায়িদ সুলতানা রাজিয়া বলেন, বিষ্ফোরক এক ধরণের ক্যামিক্যাল। প্রতিটি ক্যামেষ্ট্রি ডিপার্টমেন্টে ক্যামিক্যাল বিষয়ে কোর্স থাকে। ফলে এ ডিপার্টমেন্ট থেকে গ্র্যাজুয়েটদের বিষ্ফোরক বিষয়ে জ্ঞান থাকে। তারা বিষ্ফোকের বই পুস্তক পড়লেই এ বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ জ্ঞান লাভ করতে পারবে। এ নিয়ে আলাদা ডিগ্রির প্রয়োজন নেই।

[৬] তিনি জানান, শুধু গ্র্যাজুয়েট হলে তো হবে না, তাদের চাকরি বা পদায়ন নিশ্চিত করতে হবে। আমাদের দেশে মাইনিং বা বিষ্ফোরক সম্পর্কিত তেমন কোন কাজ নেই। বিষ্ফোরক অধিদপ্তর, সেনাবাহিনি বা সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনে তারা বিশেষ প্রশিক্ষণ নিয়ে থাকেন।

[৭] ড. আলমগীর বলেন, অষ্ট্রেলিয়া বা কানাডায় দেখবেন কোন একটি রেগুলেটরি বডিকে তদারকি করতে বেসরকারি পর্যায়ে আলাদা স্বাধীন বডিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়, এতে কাজে স্বচ্ছতা বাড়ে। অন্যান্য দেশে বেসরকারি পর্যায়ে গোয়েন্দা বা বিশেষজ্ঞ নিয়োগ দেওয়া হয়। আমাদের দেশে এ ধরণের কোন বিষয় আমরা দেখতে পাইনা।

[৮] সুলতানা রাজিয়া আরও জানান, বিশ্বের গুটিকয়েক বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্যামিক্যাল সেইফটির ওপর ডিগ্রি দেওয়া হয়, বুয়েট তার মধ্যে একটি। তবে বিষ্ফোরক নিয়ে বিশ্বে ডিগ্রি আছে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। ক্যামিক্যাল সেইফটির ওপর বুয়েটে ৬-৭ ঘন্টা ক্লাস নেই। এ বিষয়ে ৩ ক্রেডিটের ফুল কোর্স এবং এমএমসিতে ক্যামিক্যাল প্রসেস সেইফটির ওপর মাষ্টার্স দেওয়ার প্রপোজাল দিয়েছি। এক বছরের মধ্যেই হয়তো বুয়েটে পাঠদান সম্ভব হবে। এছাড়াও আর্মড ফোর্স ডিভিশন যারা আছেন তাদের তরফ থেকে বলা হয়েছে, যে কোন ক্যামেষ্ট্রি ডিপার্টমেন্ট এবং ক্যামেষ্ট্রি রিলেটেড ডিপার্টমেন্ট থেকে আন্ডার গ্রাজুয়েশন শেষে প্রত্যেককে ক্যামিকেল সেইফটি এন্ড সিকিউরিটির ওপর এক ক্রেডিটের একটি কোর্স করতে হবে। যার সিলেবাস তৈরি করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত