শিরোনাম
◈ শেষ দিনে ফাঁকা স্টেশন, অর্ধেক যাত্রী নিয়ে ছেড়েছে ট্রেন ◈ ২৭ মার্চ গুয়াতেমালার বিপক্ষে শেষ প্রস্তু‌তি ম‌্যাচ খেল‌বে আর্জেন্টিনা ◈ আজ সৌদিসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে উদযাপিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল ফিতর ◈ শুধু ট্রাম্পই বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠা করতে পারেন: জাপানের প্রধানমন্ত্রী ◈ ট্রাম্পের অনুরোধে ইরানের সাউথ পার্সে আর হামলা নয়: নেতানিয়াহু ◈ কাতারের এলএনজি স্থাপনায় ক্ষতি: বিদ্যুৎ সংকটে পড়তে পারে বাংলাদেশসহ তিন দেশ ◈ শুক্রবার প্রধানমন্ত্রীর জাতির উদ্দেশে ভাষণের খবর সঠিক নয়: প্রেস উইং ◈ মধ্যপ্রাচ্য সংকট নিরসনে আইএমও’র বিশেষ অধিবেশনে বাংলাদেশ ◈ ইসরায়েলের শোধনাগারে আগুন, ইরানের হামলায় জ্বালানি স্থাপনায় নতুন শঙ্কা ◈ হামলা-পাল্টা হামলায় কাঁপছে জ্বালানি বাজার, তেলের দাম ১১৫ ডলার ছাড়াল

প্রকাশিত : ০৪ জুলাই, ২০২১, ০২:৫১ দুপুর
আপডেট : ০৪ জুলাই, ২০২১, ০৫:৪২ বিকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

[১] অক্সিজেন সংকটে রামেক হাসপাতাল, কিট না থাকায় বন্ধ করোনা টেস্ট

মঈন উদ্দীন: [২] রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চলতি বছরের মার্চ থেকে শুরু হয় অক্সিজেন চাহিদা। প্রথমে দুই হাজার লিটার অক্সিজেন লাগলেও এখন লাগছে আট হাজার লিটার।

[৩] করোনার উচ্চ সংক্রমণ প্রবণ ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের শনাক্ত হয় মে মাসে। রামেক হাসপাতালের কোভিড রোগীর চাপ বাড়তে থাকায় চাহিদা বাড়ে অক্সিজেনের। এ অবস্থায় করোনা আক্রান্ত রোগীর চাপ সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

[৪] আক্রান্তদের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিতে বার বার সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে। বিশেষ করে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীদের নিরবচ্ছিন্ন অক্সিজেন সরবরাহই কর্তৃপক্ষের কাছে এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

[৬] রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. সাইফুল ফেরদৌস বলেন, যেসব রোগীর অক্সিজেন স্যাচুয়েশন আশঙ্কাজনক পর্যায়ে পৌঁছাচ্ছে তাদের প্রতি দেড় ঘণ্টার জন্য এক সিলিন্ডার অক্সিজেন দিতে হচ্ছে। এই হিসাবে ২৪ ঘণ্টায় মাত্র একজন রোগীর জন্য ১৬টি অক্সিজেন সিলিন্ডার দরকার হচ্ছে। এটা বেশ ব্যয়বহুল আবার অক্সিজেন সিলিন্ডার ম্যানেজ করাও কঠিন। মেডিকেলে আসা আক্রান্তদের ৯৯ ভাগেরই অক্সিজেন সাপোর্ট দরকার হচ্ছে। প্রথমদিকে সিলিন্ডারের অক্সিজেন দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেয়ার চেষ্টা করা হয়েছিলো। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, সিলিন্ডারে নিরবচ্ছিন্ন অক্সিজেন সরবরাহ নিশ্চিত করা নিয়ে।

[৭] রামেক হাসপাতালের উপ-পরিচালক বলেন, রোজার আগে আমাদের প্রতিদিন দুই হাজার লিটার অক্সিজেন প্রয়োজন হতো। এখন সেটি বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে আট হাজার লিটার। এক মাস আগে এই চাহিদা ছিল সর্বোচ্চ ৫ হাজার লিটার। আমরা প্রতিদিন জাতীয় অক্সিজেন সরবরাহ ডিপো থেকে ১০ হাজার লিটার অক্সিজেন পাচ্ছি। এছাড়াও ১০ হাজার লিটার অক্সিজেন রিজার্ভ রাখা হয়। তবে যে হারে রোগী বাড়ছে, তাতে করে বিষয়টি ভাবিয়ে তুলছে আমাদের।

[৮] রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী বলেন, আগত রোগীদের প্রায় সবাইকে অক্সিজেন দিতে হচ্ছে। তাই অক্সিজেন সরবরাহই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। সংক্রমণের মাত্রা না কমায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

[৯] এদিকে নগরে ৬ জুন থেকে পথচারীসহ নগরবাসীকে করোনা পরীক্ষা করানোর জন্য বেশ কিছু পয়েন্টে র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন পরীক্ষা শুরু হয়। প্রথম দিকে এই পরীক্ষায় মানুষের আগ্রহ কম ছিল।  এক সপ্তাহের মধ্যে অ্যান্টিজেন পরীক্ষায় মানুষের আগ্রহ বেড়ে যায়। প্রথমে পাঁচটি পয়েন্টে পরীক্ষা শুরু হলেও পরে পয়েন্ট বাড়ানো হয়। তবে গত বৃহস্পতিবার থেকে র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন পরীক্ষা বন্ধ রয়েছে। পরীক্ষা করাতে এসে মানুষ ফিরেও যাচ্ছেন। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কিটের সংকটে পরীক্ষা বন্ধ।

[১০] মেডিকেল কলেজের এক চিকিৎসক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, লকডাউন হোক আর যা–ই হোক মানুষকে তবুও করোনার পরীক্ষা করতে দিতে হবে। পরীক্ষা করলে অন্তত বাড়িতে তিনি সতর্ক থাকতে পারবেন। বাড়ির অন্য সদস্যরা নিরাপদে থাকতে পারবেন। এ কারণে পাড়া-মহল্লায় অ্যান্টিজেন পরীক্ষা চালু রাখতে হবে।

[১১] সিটি করপোরেশনের স্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা এফ এ এম আঞ্জুমান আরা বেগম বলেন, তাঁরা রাজশাহী নগরে প্রায় ২০ হাজার মানুষের পরীক্ষা করিয়েছেন। কিট ফুরিয়ে গেছে বলে পরীক্ষা গত বৃহস্পতিবার থেকে বন্ধ রয়েছে। কিটের জন্য তাঁরা সিভিল সার্জন দপ্তরে চিঠি দিয়েছেন। এখন নগরে কঠোর লকডাউন চলছে। মানুষ ঘরে থেকে জ্বরের চিকিৎসা নিলে এমনিতেই সেরে উঠবেন। জ্বর নিয়ে বাইরে বের হলে আরও আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। সম্পাদনা: জেরিন আহমেদ

 

 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়