প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘মিড ডে মিল’ চালু হলে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি হার বাড়বে, ঝরে পড়ার হার কমবে

নিউজ ডেস্ক: প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধ এবং বিদ্যালয়ে উপস্থিতি নিশ্চিত করতে উপবৃত্তির পাশাপাশি কোমলমতি শিশুদের পুষ্টির চাহিদা মেটাতে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। কিন্তু প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের (ডিপিই) কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্তহীনতায় পুরো কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের বড় একটি অংশের আবারও ঝরে পড়ার এবং অপুষ্টির শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

দারিদ্র্যপীড়িত এলাকায় স্কুল ফিডিং প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়েছে ৩০ জুন। এ প্রকল্পের বিকল্প এখনও নির্ধারণ করা যায়নি। ফলে দেশের দারিদ্র্যপীড়িত ১০৪টি উপজেলায় ৩০ লাখ প্রাথমিক শিক্ষার্থীর ঝরে পড়া এবং অপুষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। এ প্রকল্পের সফলতার প্রেক্ষিতে সারাদেশে নতুন করে সব প্রাথমিক শিক্ষার্থীর জন্য ‘মিড ডে মিল’ চালুর প্রস্তাব অনুমোদন না পাওয়ায় যে শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে, তাতে করে বিদ্যালয়ে উপস্থিতির হার কমবে এবং ঝরে পড়ার হার বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সেই সঙ্গে দ্রম্নত এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুপারিশ করেছেন স্থানীয় শিক্ষকরা। অন্যথায় শিক্ষার্থীদের আর স্কুলে ধরে রাখা যাবে না বলে মনে করেন তারা।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, সবচেয়ে বেশি সমস্যা হবে দেশের দারিদ্র্যপীড়িত উপজেলাগুলোর প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের। এদিকে বুধবার থেকে তাদের পুষ্টিকর বিস্কুট বিতরণ বন্ধ হয়ে গেছে। যদিও গত ১৬ মাস স্কুল বন্ধ থাকাকালেও প্রকল্প এলাকার শিশুদের পুষ্টিকর বিস্কুট শিক্ষকরাই পাঠদানের সময় বিতরণ করেছেন বলে অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এসব কোমলমতি শিক্ষার্থীদের বড় একটি অংশ এখন ঝরে পড়ার হুমকিতে আছে। কারণ প্রকল্প এলাকার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশুদের জন্য এটি ২০১০ সাল থেকে চালু ছিল। ‘দৈনিক ক্যালরি চাহিদাসম্পন্ন বিস্কুট বিতরণ’ প্রকল্পটির পরিবর্তে নতুন বা বিকল্প কোনো প্রকল্প বা প্রণোদনা চালু না হওয়ায় শঙ্কা আরও বেড়েছে।

বিস্কুট বিতরণের সফলতা থেকে সারা দেশের প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের দুপুরে খাবার দিতে নতুন প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়। জাতীয় স্কুল মিল নীতিমালা-২০১৯’র আলোকে ‘প্রাইমারি স্কুল মিল’ প্রকল্পটি গত ১ জুন একনেকে উত্থাপন করা হয়। শিক্ষার্থীদের দুপুরের খাবার হিসেবে খিচুড়ি দেওয়ার প্রস্তাব করায় একনেক চেয়ারপারসন ওই ডিপিপি (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা) সংশোধনে নির্দেশ দিয়েছেন। আপত্তির মূল কারণ হচ্ছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো এর ফলে পাঠদানের চেয়ে খাবার তৈরি ও বিতরণের দিকে ঝুঁকে পড়বে। তিনি নতুন প্রস্তাবনা নিয়ে আসার নির্দেশ দিয়েছেন। বিকল্প প্রস্তাবনা অনুমোদন পেতে সময় লাগবে আরও প্রায় ছয় থেকে এক বছর। এর ফলে যে শূন্যতার সৃষ্টি হবে তা নিয়েই আশঙ্কা সংশ্লিষ্টদের। এ অবস্থায় ক্যালরি সম্পন্ন বিস্কুট বিতরণ প্রকল্পটির মেয়াদ আরও বাড়ানোর সুপারিশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

মন্ত্রণালয় ও ডিপিই সূত্রে জানা গেছে, শিশুদের পুষ্টি সম্পন্ন দুপুরের খাবারের বিকল্প প্রস্তাবনা নিয়ে কর্মকর্তাদের মধ্যে এ ধরনের সিদ্ধান্তহীনতা কাজ করছে। সংশ্লিষ্টদের কেউ বলছেন, চলমান বিস্কুট বিতরণ অব্যাহত রাখা হোক, কেউ বলছেন শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের নগদ অর্থ দেওয়া হোক। এ ক্ষেত্রে কোনটি প্রাধান্য পাবে, তা নিয়ে চলছে টানাপোড়েন।

ডিপিই নতুন প্রকল্প অনুমোদন না হওয়ায় চলমান ক্যালরি বিস্কুট বিতরণ প্রকল্পটির মেয়াদ আরও এক বছর বাড়ানোর প্রস্তাব করেছিল প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে। কিন্তু মন্ত্রণালয় তাতে সায় দেয়নি। ফলে এ শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে।সূত্র: যায়যায়দিন

 

সর্বাধিক পঠিত