প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] স্বাস্থ্যমন্ত্রী দুর্নীতি আমলে নিচ্ছেন না, অভিযোগ জিএম কাদেরের

শাহীন খন্দকার: [২] মঙ্গলবার সংসদে ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় উপনেতা জিএম কাদের এসব কথা বলেন। জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, দেশবাসী আশা করে বিষয়টি গুরুত্বের সাথে নিয়ে যথাযথ তদন্ত হবে ও দোষীদের শাস্তির আওতায় আনা হবে। গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, স্বাস্থ্যখাতের অনিয়ম এখন দেশব্যাপী আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। কিন্তু দুর্নীতি নিরসনের কোন কার্যকর উদ্যোগ চোখে পড়ে না।

[৩] সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীসহ দায়িত্বপ্রাপ্তরা দুর্নীতির বিষয়টি আমলে নিচ্ছেন বলে মনে হয় না। অভিযোগগুলো গুরুতর। এর আগে সকালে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠক শুরু হয়। স্বাস্থ্যখাতের বরাদ্দের সমালোচনা করে জিএম কাদের বলেন, বাজেটে স্বাস্থ্যখাতের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে ৩২ হাজার ৭৩১ কোটি টাকা। যা চলতি অর্থ বছরের চেয়ে তিন হাজার ৪৮৪ কোটি টাকা বেশি।

[৪] জি এম কাদের বলেন, জিডিপির হিসাবে শূন্য দশমিক ৯৫ শতাংশ। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) সুপারিশ অনুযায়ী স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ হওয়া উচিত জিডিপির কমপক্ষে ৫ শতাংশ। সেখানে গত ১২ বছরে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ ছিল জিডিপির ১ শতাংশের নীচে। তিনি বলেন, বাজেটে কোভিড-১৯ এর টিকা প্রয়োগের কথা বলা হলেও আমদানির জন্য এ খাতে আলাদা কোন অর্থ বরাদ্দের উল্লেখ নেই। তবে বাজেট বক্তৃতায় কিছু দেশ ও সংস্থার কাছ থেকে ভ্যাকসিন সরবরাহ এবং ভ্যাকসিন ক্রয়ের অর্থ প্রাপ্তির আশ্বাস উল্লেখ করা আছে। ভ্যাকসিন খাতে যথেষ্ট অর্থ বরাদ্দ রাখতে হবে।

[৫] প্রস্তাবিত বাজেটে সুশাসনের ব্যতয়ের সুযোগ রাখা হয়েছে উল্লেখ করে জিএম কাদের বলেন, যতই অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হোক সুশাসন না থাকলে দুর্নীতি, অপচয় ও সমন্বয়হীনতার কারণে বাজেট বাস্তবায়ন সম্ভব হয় না। সুশাসন ছাড়া বাজেট তৈরি ও বাস্তবায়ন সম্পূর্ণ অর্থহীন। তিনি বলেন, কালো টাকা সাদা করার যে সুযোগ রাখা হয়েছে, সেটা দুর্নীতিকে বৈধতা দেওয়ার সামিল এবং সুশাসনের পরিপন্থী।

[৬] ব্যাংকিং খাতের সমালোচনা করে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, আমাদের ব্যাংকিং ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো অত্যন্ত নাজুক অবস্থার মধ্য দিয়ে চলছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের রিপোর্ট অনুযায়ী খেলাপি ঋণের পরিমাণ এক লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকা। বংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরি, হলমার্কের চার হাজার কোটি টাকা অর্থ লোপাট, বিসমিল্লাহ গ্রুপের আর্থিক অনিয়ম এবং বেসিক ব্যাংকের অনাদায়ী খেলাপি ঋণ উদ্ধারের বিষয়ে কোন কার্যকরী পদক্ষেপ এখনও দৃশ্যমান নয়। ২০১৮-২০২১ এই স্বল্প সময়ে ৫৯ হাজার ৪৬৬ কোটি টাকার অনিয়ম চিহ্নিত করেছে সরকারি প্রতিষ্ঠান কম্প্রোট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল (সিএজি)। তাদের তথ্য মতে এ পর্যন্ত ঘটে যাওয়া আর্থিক অনিয়মের ৫২ দশমিক ১৮ শতাংশই হচ্ছে রাষ্ট্রায়ত্ব বাণিজ্যিক ও বিশেষায়িত ব্যাংকিং খাতে। যার পরিমাণ ৩১ হাজার কোটি টাকা। খেলাপি ঋণ না দেখিয়ে তা মুছে ফেলার সক্রিয় প্রয়াস চলছে। খেলাপি ঋণ বাড়লেও অনিয়মের মাধ্যমে সেটা লুকিয়ে ফেলা হচ্ছে। ব্যাংকিং খাতের মোট ঋণের ৪০ শতাংশই হচ্ছে খেলাপি ঋণ।

[৭] জিএম কাদের বলেন, বিগত ১০ বছরে ব্যাংকিং খাতের অবস্থা খারাপের দিকে গেছে। এর প্রধান কারণ হচ্ছে, বিগত সময়ে আর্থিক অনিয়মের ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। দায়ীদের বিরুদ্ধেও কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। যে কারণে, অনিয়মের পরিমাণ আগের তুলনায় বেড়েছে। তবে দায়ীদের বিচারের আওতায় আনা না হলে ভবিষ্যতে আর্থিক অনিয়মের পরিমাণ আরো বাড়বে। এই অনিয়ম রোধে সুস্পষ্ট কোন দিক নির্দেশনা বাজেটে পরিলক্ষিত হয়নি। সম্পাদনা: মেহেদী হাসান

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত