প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মুনমুন শারমিন শামস্: নারীর মুক্তি বিয়েতে নয়, কারও ঘাড়ে চেপে মুক্তি আসে না

মুনমুন শারমিন শামস্: আমার বন্ধুবান্ধব থেকে শুরু করে আত্মীয়-স্বজন, সহকর্মী, প্রতিবেশী, পরিচিত সার্কেলে যতো মেয়েকে দেখছি বাপ-মায়ের তুমুল শাসন-ত্রাসনে বড় হইসে, স্বাধীনতা বলে কিচ্ছু অনুভব করার সুযোগ পায়নি, বয়সজনিত আচরণ করতে পারেনি, সারাক্ষণ ভয়ে ভয়ে থাকছে, তাদের অধিকাংশই বাপ-মায়ের হাত থেকে মুক্তি পাইতে বিবাহের পথ বেছে নিতে চাইছে এবং দুঃখজনক হইলেও সত্য এই যে, তাদের কারোরই বিবাহের সিদ্ধান্ত সঠিক হয়নি এবং পরে বড় ধরনের ক্ষতি এবং ভোগান্তির মধ্যদিয়ে যাইতে হইসে। আমার এক বান্ধবীর আম্মা কন্যারে কোনো ছেলের সঙ্গে রিকশায় বসা অ্যালাউ করতেন না। আরেক বান্ধবীর মা কোনো ছেলে বাসায় ফোন করলে মেয়েরে স্যান্ডেল দিয়ে পেটাইতেন। মেয়ের প্রেমের সংবাদ জাই না দিনের পর দিন ঘরে আটকায়ে থুইছেনÑ এমন বাপ-মাও দেখছি। মেয়ে ইউনিভার্সিটিতে গেলে ছেলেদের সঙ্গে প্রেম করবে এই আশঙ্কায় মেধাবী মেয়েকে মহিলা কলেজে অনার্সে ভর্তি করছেন এমন বাপ-মাও দেখা লাগছে জীবনে।

আমার এক বান্ধবী আরেক বান্ধবীর বিয়ের অনুষ্ঠানে গিয়া আসার সময় রাত হয়ে গেছিলো বলে ছোটকালের ছেলে বন্ধু তারে বাসায় দিয়া গেছিলো। এই নিয়া মায়ে-বাপে এতো কটু কথা বলছিলো যে আমার সেই বান্ধবী এক রাতে ডিসিশন নেয় এইবার সে বিবাহ করেই ফেলবে যেকোনো একটা ছেলে দেখে, কারণ বাপ-মায়ের এই শাসনের নামে অত্যাচার সহ্য করার চেয়ে বিবাহ করে মুক্ত হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাকে খতিয়ে দেখাই ভালো। বাপ মায়ের শাসনের নামে প্রহসন আর অত্যাচার থিকা বাঁচতে অল্পবয়সী মেয়েরা ভাবে বিয়ে করলেই শান্তি, মুক্তি আর স্বাধীনতা। কিন্তু বিয়ার পর বরের বাড়ি গিয়া দেখে পুরুষতন্ত্রের অসভ্য পুরীষ বরের হাতেও মাখানো। শ্বশুর শাশুড়ির হাতও একই জিনিসে গান্ধা। পুরো সমাজটাই তো তাই! মুক্তি খুঁজতে এক আবর্জনার স্তুপ থেকে আরেক আবর্জনার স্তুপে মুখ লুকায়ে লাভ তো আর হয় না। বরং সমস্যা বেড়ে দ্বিগুণ হয়। তিনগুণ হয়। সীমা পরিসীমার বাইরে হয়। পুরুষতান্ত্রিক অভিভাবক তখন দুইয়ের অধিক। অধিকার ফলানোর লোক তখন ঘরভরে গিজগিজ করে।

মুক্তি বিয়েতে নয়, কারও ঘাড়ে চেপে মুক্তি আসে না। কারও ছায়ায় লুকায়ে স্বাধীনতা অর্জন হয় না। স্বাধীনতা আসে নিজের ঠ্যাংয়ে নিজে খাড়া হয়া দাঁড়াইলে। মুক্তি আসে নিজের অধিকারের কথা স্পষ্ট করে উচ্চারণ করলে। শোষণ থেকে পরিত্রাণ ঘটে প্রতিবাদ করলে, বিপ্লবী হইলে। বাপ-মা মানেই ভালো চায়, সে ঠিক আছে। কিন্তু বাপ-মা মানেই ফেমিনিস্ট, সমতাবাদী, বৈষম্যহীন, উদার মানসিকতাসম্পন্ন, সুশিক্ষিত- সেটা ঠিক নাও হইতে পারে। যদি প্রাপ্তবয়স্ক হন, যদি ঘটে সামান্য বুদ্ধি থাকে, শিক্ষাদীক্ষা সচেতনতা থাকে, চিন্তাভাবনায় গভীর আর পরিপক্ক হইতে পারেন, তাইলে এসব অনুধাবন করে নিজের ভালো নিজে বুঝে নিতে নিজের পায়ে খাড়ান। নিজেরে নিজেই শক্তিমান করে তুলেন এবং সেইটাই প্রতিষ্ঠা করেন। বিবাহ কইরা বরের কোলে চাপলে মুক্তি মিলে না আম্মাজানরা, খালি কোল আর পুরুষতন্ত্রের খোলই বদল হয় তাতে। ফেসবুক থেকে

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত