প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] মাদারীপুরের রাজৈরে সাবেক শশুড়বাড়ি ফিরতে না চাওয়ায় কিশোরীকে কুপিয়ে জখম

আকাশ আহম্মেদ সোহেল: [২] উপজেলায় সাবেক শশুড়বাড়ি ফিরতে রাজি না হওয়ায় সাদিয়া আক্তার ওরফে নুপুরকে(১৪) কুপিয়ে জখম করেছে সাবেক স্বামী হাবিবুর আকন(১৬) ও তার লোকজন। এসময় নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে পালিয়েছে বলে পরিবারের অভিযোগ।

[৩] বুধবার রাতে ওই কিশোরীর নানা বাড়ি উপজেলার টেকেরহাট বন্দরের পূর্ব স্বরমঙ্গল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। সাদিয়া ঢাকার ফল ব্যবসায়ীর সাহিন কাজীর মেয়ে। বাড়ি গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার রাঘদী ইউনিয়নের বড়দিয়া গ্রামে। ওই কিশোরী আশংকাজনক অবস্থায় ফরিদপুর মেডিকেলে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

[৪] পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ছোট বেলা থেকেই বাবা-মায়ের সাথে নানা বাড়িতেই থাকে সাদিয়া। রাজৈর উপজেলার হোসেনপুর ইউনিয়নের সত্যবতী গ্রামের বাবুল আকনের ছেলে হাবিবুরের সাথে প্রেমের সম্পর্ক থাকায় ১১মাস আগে পালিয়ে বিয়ে করে। এরপর সাদিয়াকে বাড়ি নিয়ে যায় হাবিবুর। কিছুদিন পর থেকে সাদিয়ার উপর পাশবিক নির্যাতন শুরু করে শশুরবাড়ির লোকজন। একপর্যায়ে নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে তিন মাস আগে স্বামী তালাক দিয়ে বাড়ি চলে আসে। তবে দুজনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয় না। এমনকি একে অপরের বাড়ি যাতায়াতও চলমান ছিল। এরই ধারাবাহিকতায় গত তিনদিন আগে রাগ করে সাবেক শশুরবাড়ি থেকে নানা বাড়ি চলে আসে ওই কিশোরী। পরে নেওয়ার চেষ্টা করলে আর ফিরে জাবেনা বলে জানায়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে লোকজন নিয়ে এসে দেশিয় অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে পালিয়ে যায় সাবেক স্বামী হাবিবুর। পরে চিৎকার শুনে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে রাজৈর হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে থেকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল হাসপাতালে প্রেরণ করে।

[৫] ভুক্তভোগীর বাবা সাহিন জানান, আমরা গতকাল সবাই দাওয়াতে গিয়েছিলাম, কিন্তু আমার শশুড়-শাশুড়ি বয়স্ক ও অসুস্থ হওয়ায় বাড়ি ছিল। সেখান থেকে সন্ধ্যার দিকে সাদিয়া একা বাড়ি চলে আসে। এসময় হাবিবুর আমার শশুরবাড়ি আসে। পরে ঘরে রাখা ১ লক্ষ ১৮ হাজার নিয়ে যাওয়ার সময় আমার মেয়ে বাধা দিলে তাকে কুপিয়ে জখম করে। এবং মেয়ের গলায় থাকা স্বর্ণের চেইন নিয়ে পালিয়ে যায়।

[৬] ভুক্তভোগীর নানি রুমি বেগম জানান, আমার নাতনীকে পিছন দরজা দিয়ে ঘর থেকে টেনে বের করে নিয়ে কোপাইছে। আমি তখন বারান্দায় শোয়া ছিলাম। কিন্ত কিছু করতে পারি নাই। আমি ওদের কঠিন বিচার চাই।

[৭] ওসি মো. শেখ সাদিক বলেন, এ ব্যাপারে থানায় এখনো কেউ কোন অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থায় সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো।

সর্বাধিক পঠিত