শিরোনাম

প্রকাশিত : ২৪ জুন, ২০২১, ০৬:৫০ বিকাল
আপডেট : ২৪ জুন, ২০২১, ০৬:৫০ বিকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

[১] [১] চৌগাছায় তিন দিনে করোনা উপসর্গসহ বিভিন্ন রোগে ১০ জনের মৃত্যু, লকডাউনে কঠোর অবস্থানে প্রশাসন

বাবুল আক্তার : [২] যশোরের চৌগাছায় গত দিনে করোনা উপসর্গসহ বিভিন্ন রোগে আক্রন্ত হয়ে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। উপজেলায় কোনো কিছুতেই থামছেনা করোনা সংক্রমণের উর্ধগতি। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্র বলছে উপজেলা জুড়েই ঠান্ডা জ্বরের প্রকোপ চলছে। জুন মাসে করোনা রোগী শনাক্তের হার চল্লিশ শতাংশেরও বেশি। জনসাধারণ চলাচল নিয়ন্ত্রন করতে লকডাউনের ২য় দিনে কঠোর অবস্থানে ছিল পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসন।

[৩] হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, চলতি জুন মাসে উপজেলায় করোনা আক্রান্ত হয়েছে ৯০ জন। করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু বরণ করেছেন তিন জন। উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন অনেকেই। আর গত তিন দিনেই করোনা উপসর্গ ও বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন ১০ জন।

[৪] সর্দি জ্বর, গলা ব্যাথা নিয়ে গত সাত দিনে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন শতাধিক রোগী। জ্বরসহ বিভিন্ন উপসর্গ নিয়ে প্রতিদিন বহির্বিভাগে ২শ থেকে শতাধিক রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন। গত দুই সপ্তাহের ব্যবধানে উপজেলায় করোনা সনাক্তের হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৫ শতাংশ। পুরো উপজেলায় সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় দুশ্চিন্তায় রয়েছে স্থানীয় প্রসাশন। এরই মধ্যে করোনার উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুবরণও করেছেন বেশ কয়েকজন। আর গত তিন দিনেই করোনা উপসর্গসহ বিভিন্ন রোগ আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ১০ জনের।

[৫] গত তিনদিনে মৃত ব্যাক্তিরা হলেন পৌরসভার বাকপাড়া মহল্লার হানেফ আলী ওরফে হানেফ ড্রাইভার (৭৫), বাজারের ওষুধ ব্যবসায়ী সুলভ ফার্মেসির মালিক পল্লী চিকিৎসক শামছুল আলম (৬০), ডিসেন্ট সু’র মালিক ফিরোজ কবিরের মা শামছুন্নাহার (৭৩), উপজেলার জামিরা গ্রামের গোলাম মোস্তফা (৫০), সলুয়া গ্রামের আক্কাচ আলীর স্ত্রী মরিয়ম বেগম (৬০), একই গ্রামের ওজিবুল গোলদারের স্ত্রী (৫৫) পৌরসভার পুরাতন থানাপাড়া মহল্লার বাসিন্দা নান্নু মাষ্টার (৭৫), এনজিও কর্মী সন্ধ্যারানী (৫৫), পৌরসভার কারিগরপাড়া মহল্লার মশলেম উদ্দিন (৭৮) ও একই মহল্লার আঃ মজিদ (৬৮)।

[৬] উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ বলেছেন করোনার নমুনা দিতে মানুষের অনীহা থাকায় উপজেলায় করোনা রোগীর প্রকৃত সংখ্যা নির্ণয় করতে পারছেনা তারা। যে কারণে সংক্রমণের হারও বাড়ছে লাফিয়ে লাফিয়ে।

[৭] এদিকে চৌগাছায় চলছে বিধিনিষেধের ৭ম দিন। আর যশোর জেলা লকডাউনের ২য় দিন। গতকাল বৃহস্পতিবার ভোর ৬টা থেকেই লকডাউন বাস্তবায়নে কাজ করছে ওসি সাইফুল ইসলাম সবুজের নেতেৃত্বে চৌগাছা থানা পুলিশ।

[৮] বিশেষ করে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে সড়ক অবরোধ করে চলাচল কারিদের কৈফিয়ত তলব করছে পুলিশ। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কোনো যানবাহন শহরে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছেনাএবং একইভাবে শহর থকে বাহিরে যেতে দেওয়া হচ্ছেনা কোনো যানবাহন। গতকাল বৃহস্পতিবার অতি প্রয়োজন ছাড়া মানুষ বাজারে বের হতে দেখা যায়নি। বলাযায় প্রায় জনমানব শূণ্য ছিল চৌগাছা পৌর এলাকা।

[৯] তবে, রোগী পরিবহনের জন্য অ্যাম্বুলেন্স, জরুরি পণ্য বহনকারী ট্রাক ও জরুরি সেবাদানের ক্ষেত্রে এই আদেশ শিথিল করা হয়েছে। এবং সরকারি হাসপাতালে ছিল রোগী ও রোগীর স্বজনদের ভিড়।

[১০] গতকালও সকাল থেকেই উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নেতৃত্বে উপজেলা প্রশাসন বাজারের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও মার্কেটে টহল দিয়েছেন। এদিন বিধিনিষেধ অমান্য করার অপরাধে এক প্রসাধনী ব্যবসায়ির কাছ থেকে জরিমানা আদায় করেছেন ভ্রাম্যমান আদালত।

[১১] সংক্রমনরোধে লকডাউন বাস্তবায়নের কোন বিকল্প নেই বলে মনে করছেন চৌগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ সাইফুল ইসলাম সবুজ। তিনি বলেন, পুলিশের একার পক্ষে এটি বাস্তবায়ন করা খুবই কঠিন, তাই সকলের সহযোগীতা একান্ত প্রয়োজন।

[১২] উপজেরা নির্বাহী অফিসার এনামুল হক বলেন, যারাই আইন অমান্য করবে তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়