প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

কলম্বিয়া থেকে যেভাবে বাংলাদেশে এলো অজগরটি

ডেস্ক রিপোর্ট : গাজীপুরের তারগাছ এলাকায় একটি ইস্পাত তৈরির কারখানায় মিলেছে বিরল প্রজাতির এক অজগর সাপ। প্রাণীটি কলম্বিয়া থেকে একটি কনটেইনারে করে এসেছে। আমদানী নয়, কলম্বিয়া থেকে আসা লোহার কাঁচামালের কনটেইনারে করে বাংলাদেশে চলে এসেছে সাপটি। মালামাল খালাস করতে গিয়ে বিশাল সাইজের অজগরটি দেখতে পান কারখানার শ্রমিকরা।

প্রায় তিন মাস পর গতকাল শনিবার কনটেইনারটি খুলে মালামাল আনলোডের কাজ করছিলেন শ্রমিকরা। এ সময় সাপটি চোখে পড়ে তাদের। শ্রমিকরা সাপটি ধরে কর্তৃপক্ষকে জানালে আজ রোববার দুপুরে বন্যপ্রাণি অপরাধ দমন ইউনিট বিরল সাপটি উদ্ধার করে তাদের হেফাজতে নিয়ে যায়।

কারখানা শ্রমিকরা জানান, কনটেইনার থেকে লোহার বিভিন্ন টুকরো নামানোর সময় অজগরটি দেখতে পান তারা। দীর্ঘদিন ধরে অনাহারী থাকায় সাপটি নড়াচড়ার শক্তি হারিয়ে ফেলেছে। শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

আনোয়ার ইস্পাত কারখানার ব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মিজানুর রহমান জানান, তিন মাস আগে এলসির মাধ্যমে কলম্বিয়া থেকে রড তৈরির কাঁচামাল আমদানি করা হয়। এসব মালামাল ৬৪টি কন্টেইনার করে কারখানায় আসে। পরে শ্রমিকরা মালামাল খালাস করতে গিয়ে অজগরটি দেখতে পান। কলম্বিয়ার যে অঞ্চল থেকে অপরিশোধ লোহা আনা হয়েছে, সেখান থেকে কোনোভাবে অজগরটি দেশে এসেছে বলে ধারণা তার।

বিরল প্রজাতির সাপটি পেটে আঘাতপ্রাপ্ত জানিয়ে বাংলাদেশ বন্যপ্রাণি অপরাধ দমন ইউনিটের পরিদর্শক আব্দুল্লাহ আস সাদিক বলেন, কলম্বিয়ান বিরল প্রজাতির অজগরটি কারখানা থেকে উদ্ধারের পর কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও কোয়ারেন্টিন শেষে সাপটি অবমুক্ত করা হবে।

বন্যপ্রাণি অপরাধ দমন ইউনিটের পরিদর্শক অসিম মল্লিক জানান, বোয়া কনস্ট্রিক্টর (Boa Constrictor) জাতের এ সাপটি লম্বায় প্রায় ৬ ফুট। এর ওজন ৪ কেজি এবং বয়স হবে প্রায় ৭ মাস। সাপটি তিন-চার মাস না খেয়ে থাকায় বেশ দুর্বল হয়ে পড়েছে। শরীরে ইনজুরি রয়েছে। উদ্ধারের পর সাপটি গাজীপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্ক পাঠানো হয়।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. তবিবুর রহমান জানান, অসুস্থ সাপটিকে পার্কের ভেতরে কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত